📌 বরাক অবামা মিচিগান ও ওহাইওতে র্যালিতে বলেছেন, ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধ ও কর্তৃত্ববাদের কারণে আমেরিকায় তেলের দাম বেড়েছে এবং অর্থনৈতিক সংকট গভীর হয়েছে। তিনি ট্রাম্পের ‘অনিয়মিত’ নীতিগুলোকে ‘ভ্রষ্টাচার ও অশান্তির’ কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
আমেরিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট বরাক অবামা মিচিগান ও ওহাইওর নির্বাচনী র্যালিতে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিগুলোকে ‘অনিয়মিত’ ও ‘ভ্রষ্টাচারমূলক’ হিসেবে সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধ ও কর্তৃত্ববাদের কারণে আমেরিকার তেলের দাম বেড়েছে এবং অর্থনৈতিক অবস্থা আরও খারাপ হয়েছে। এই বক্তব্য তিনি ৩ নভেম্বর মধ্যপ্রাচ্য নির্বাচনের মাত্র ১০ দিন আগে দিয়েছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 অবামা ইরান যুদ্ধকে ‘অনিয়মিত’: তিনি বলেছেন, ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধের কারণে আমেরিকান সৈন্য নিহত, আহত হয়েছে এবং হরমুজ প্রণালীতে তেল পরিবহনের বাধা পড়েছে, যা বিশ্বব্যাপী তেলের দাম বাড়িয়েছে।
- 📌 ২০১৫ সালের ন্যুক্লিয়ার চুক্তি ভেঙে দেওয়া: অবামা বলেছেন, তার প্রশাসন ইরানের ন্যুক্লিয়ার কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য চুক্তি করে, কিন্তু ট্রাম্প তা ভেঙে দিয়েছেন এবং যুদ্ধ শুরু করেছেন।
- 📌 কর ও ট্যারিফের কারণে দাম বেড়েছে: তিনি বলেছেন, ট্রাম্পের ট্যারিফ আমেরিকান গ্রাহকদের জন্য দাম বাড়িয়েছে এবং কানাডার সাথে বাণিজ্য যুদ্ধ শুরু করেছে, যা অর্থনৈতিক সংকটকে আরও গভীর করেছে।
- 📌 ৪০ ট্রিলিয়ন ডলার ঋণ: অবামা উল্লেখ করেছেন, ট্রাম্পের প্রশাসনের কারণে আমেরিকার জাতীয় ঋণ বেড়ে ৪০ ট্রিলিয়ন ডলার হয়েছে।
- 📌 ট্রাম্পের ‘অশান্তি ও ভ্রষ্টাচার’: তিনি বলেছেন, ট্রাম্পের প্রশাসন ‘অশান্তি ও ভ্রষ্টাচার’ নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে এবং পেন্টাগনের নীতিগুলো ‘গুরুত্বহীন’।
📰 বিস্তারিত
ওহাইওর ক্লিভল্যান্ডে একটি র্যালিতে অবামা বলেছেন, “বর্তমান প্রেসিডেন্ট একটি সিরিজের খারাপ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, তিনি একটি অনিয়মিত যুদ্ধ শুরু করেছেন, যার জন্য কেউ চাইনি।” তিনি ২০১৫ সালের ইরানের ন্যুক্লিয়ার চুক্তিকে প্রশংসা করেছেন, যেখানে ইরানের ন্যুক্লিয়ার কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছিল। অবামা বলেছেন, তার প্রশাসন কোনো মিসাইল ছুঁড়ার প্রয়োজন ছাড়াই চুক্তির মাধ্যমে ইরানের ন্যুক্লিয়ার অস্ত্র তৈরির সম্ভাবনা বন্ধ করে দিয়েছিল। কিন্তু ট্রাম্প চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসেন এবং যুদ্ধ শুরু করেন।
অবামা ইরান যুদ্ধের কারণে তেলের দাম বেড়েছে বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেছেন, “আমাদের মিত্রদের ও আমাদের বেসের আক্রমণ হয়েছে। আমেরিকান সৈন্য নিহত হয়েছে, শত শত আহত হয়েছে। আমরা আমাদের মিসাইলের স্টক কমিয়ে ফেলেছি, এবং এখন ইরান হরমুজ প্রণালীতে তেল পরিবহনের উপর ভেটো রাখতে পারে।” হরমুজ প্রণালীতে তেল পরিবহনের বাধা পড়ার কারণে বিশ্বব্যাপী তেল ও ডিজেলের দাম বেড়েছে। অবামা বলেছেন, “এই কারণেই তেলের দাম বেড়েছে... এই কারণেই ডিজেলের দাম বেড়েছে।”
অবামা ট্রাম্পের ট্যারিফ নীতিকে সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, “যখন আপনি ট্যারিফ আরোপ করেন, তখন গ্রাহকরা বিল পায়। এটি শুধু আমাদের সরাসরি ব্যবহার করা পণ্যগুলো নয়, বরং আমেরিকায় তৈরি গাড়িরও অংশ। এখন সেই অংশের উপর ট্যারিফ আরোপ করা হয়েছে, যা দাম বাড়িয়েছে।” তিনি ট্রাম্পের কানাডার সাথে বাণিজ্য যুদ্ধকে ‘অশান্তির’ কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অবামা বলেছেন, “তিনি কানাডার সাথে বাণিজ্য যুদ্ধ শুরু করেছেন, যারা আমাদের বন্ধু।”
অবামা আরও বলেছেন, ট্রাম্পের প্রশাসনের কারণে আমেরিকার জাতীয় ঋণ বেড়ে ৪০ ট্রিলিয়ন ডলার হয়েছে। তিনি বলেছেন, “তিনি বলেছিলেন, ট্যারিফের মাধ্যমে বাজেট ঘাটতি কমাবে, কিন্তু এখন আমরা ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারের ঋণে ডুবে পড়েছি।”
"আমরা মিত্রদের ও আমাদের বেসের আক্রমণ হয়েছে। আমেরিকান সৈন্য নিহত হয়েছে, শত শত আহত হয়েছে। আমরা আমাদের মিসাইলের স্টক কমিয়ে ফেলেছি, এবং এখন ইরান হরমুজ প্রণালীতে তেল পরিবহনের উপর ভেটো রাখতে পারে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ওহাইও (ক্লিভল্যান্ড), মিচিগান (মিশিগান), আমেরিকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সাবেক প্রেসিডেন্ট বরাক অবামা, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০ দিন (মধ্যপ্রাচ্য নির্বাচনের আগে), ৪০ ট্রিলিয়ন ডলার (আমেরিকার জাতীয় ঋণ), ৫০% (কানাডার গাড়ি ও অংশের সম্ভাব্য ট্যারিফ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!