📌 উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনের মৃত্যুর গুজব বারবার ছড়িয়ে পড়ছে। চীনা ভিন্নমতাবলম্বী ওয়ানজুন শিয়ে দাবি করেছেন, কিম মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। তবে দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা নিশ্চিত করেছে, কোনো প্রমাণ নেই। ক্ষমতার উত্তরাধিকার নিয়ে অনিশ্চয়তা ও তথ্যের অন্ধকারই এই গুজবের মূল কারণ
উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনের মৃত্যুর গুজব বারবার ফিরে আসছে, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে উদ্বিগ্ন করছে। কিমের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগের পাশাপাশি ক্ষমতার উত্তরাধিকার নিয়ে অনিশ্চয়তা এই গুজবের পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে দাঁড়িয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 চীনা ভিন্নমতাবলম্বী ওয়ানজুন শিয়ে দাবি করেছেন, উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণে আক্রান্ত হয়ে বেইজিংয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। তবে এই দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
- 📌 উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম রোদং সিনমুন প্রকাশিত ছবিতে ৪২ বছর বয়সী কিমকে সুস্থ দেখানো হয়েছে। তিনি তার মেয়ে কিম জু একে সঙ্গে নিয়ে পোশাক প্রদর্শনী পরিদর্শন করছেন।
- 📌 দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা নিশ্চিত করেছে, কিমের মৃত্যুর কোনো তথ্য তাদের কাছে নেই। তবে কিমের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগের কারণ রয়েছে—তিনি অতিরিক্ত ওজনের এবং ধূমপান করেন।
- 📌 উত্তর কোরিয়ার ইতিহাসে কোনো নারী সর্বোচ্চ নেতা হননি। কিম জু এ (১৩ বছর বয়স) সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে প্রস্তুত করা হচ্ছে, কিন্তু আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি।
- 📌 উত্তর কোরিয়া বিশ্বের সবচেয়ে গোপনীয় রাষ্ট্র—নেতার সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ সীমিত। তথ্যের অন্ধকারে গুজব সহজেই ছড়িয়ে পড়ে।
📰 বিস্তারিত
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত চীনা ভিন্নমতাবলম্বী ওয়ানজুন শিয়ে দাবি করেছেন, উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণে আক্রান্ত হয়ে বেইজিংয়ের একটি হাসপাতালে কোমায় যাওয়ার পর মৃত্যুবরণ করেছেন। তবে এই দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা কর্মকর্তারা ইয়োনহাপকে জানিয়েছেন, কিমের মৃত্যুর গুজবের পক্ষে তাদের কাছে কোনো তথ্য নেই।
উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদপত্র রোদং সিনমুন প্রকাশিত ছবিতে ৪২ বছর বয়সী কিম জং উনকে সুস্থ ও স্বাভাবিক দেখানো হয়েছে। তিনি তার মেয়ে কিম জু একে সঙ্গে নিয়ে একটি পোশাক ও জুতা প্রদর্শনী পরিদর্শন করছেন। ছবিগুলো ঠিক কবে তোলা হয়েছে, তা নিশ্চিত করা যায়নি। তবে দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কিমের মৃত্যুর গুজবের পক্ষে তাদের কাছে কোনো তথ্য নেই।
২০২০ সালে উত্তর কোরিয়ায় থেকে পালিয়ে আসা এক ব্যক্তি দাবি করেছিলেন, কিমের মৃত্যু হয়েছে। তিনি বলেছিলেন, ‘৯৯ শতাংশ নিশ্চিত’ তিনি। কিন্তু কিছুদিন পর কিমকে জনসমক্ষে দেখা গেলে, ওই দাবি ভেস্তে যায়। কিমের মৃত্যুর গুজব বারবার ফিরে আসার অন্যতম কারণ হলো উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতার উত্তরাধিকার নিয়ে অনিশ্চয়তা। তিন প্রজন্ম ধরে কিম পরিবার উত্তর কোরিয়া শাসন করছে, কিন্তু কিম জং উনের পর কে ক্ষমতায় আসবেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
কিমের দাদা কিম ইল সুং বহু বছর ধরে তাঁর ছেলে কিম জং ইলকে উত্তরসূরি হিসেবে প্রস্তুত করেছিলেন। ১৯৯৪ সালে কিম ইল সুংয়ের মৃত্যুর সময় উত্তরাধিকার পরিকল্পনা সুপ্রতিষ্ঠিত ছিল। অন্যদিকে, ২০০৮ সালে কিম জং ইল স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার পর তাঁর কনিষ্ঠ ছেলে কিম জং উনকে দ্রুত ক্ষমতার জন্য প্রস্তুত করা হয়। বর্তমানে দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থার ধারণা, কিম তাঁর মেয়ে কিম জু একে সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে প্রস্তুত করছেন।
কিম জু এ-এর বয়স আনুমানিক ১৩ বছর। উত্তর কোরিয়ার ইতিহাসে কোনো নারী দেশটির সর্বোচ্চ নেতা হননি, আর কিম জু এ-কে আনুষ্ঠানিকভাবে উত্তরসূরি ঘোষণা করা হয়নি। ফলে ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে। কিমের স্বাস্থ্যঝুঁকি ও পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছে। তিনি অতিরিক্ত ওজনের অধিকারী এবং নিয়মিত ধূমপান করেন। দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা একাধিকবার সতর্ক করেছে, তাঁর জীবনযাপন হৃদ্রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। কিম পরিবারের সদস্যদের মধ্যেও হৃদ্রোগ ও স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার ইতিহাস রয়েছে।
“উত্তর কোরিয়ায় উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা না থাকায় কিমকে বেইজিংয়ে নেওয়া হয়েছিল। পরে তাঁর মৃত্যু হলে মরদেহ গোপনে উত্তর কোরিয়ায় ফিরিয়ে আনা হয় এবং বিষয়টি আড়াল করে রাখা হয়।”
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: উত্তর কোরিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, চীন, যুক্তরাষ্ট্র, বেইজিং, সিউল, ওয়াশিংটন
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: কিম জং উন, কিম জু এ, ওয়ানজুন শিয়ে, কিম ইল সুং, কিম জং ইল
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪২ বছর (কিম জং উনের বয়স), ১৩ বছর (কিম জু এ-এর বয়স), ৯৯ শতাংশ (২০২০ সালের দাবির নিশ্চয়তা), ২৮ হাজার (যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ কোরিয়ায় মোতায়েন সেনা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!