📌 উত্তর কোরিয়া গতকাল এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে একটি মধ্যম পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালায়। দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী জানায়, ক্ষেপণাস্ত্রটি ৭০০ কিলোমিটার পাড়ি দিয়েছে। উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উনের বোন দাবি করেন, এ প্রযুক্তি দিয়ে ক্ষেপণাস্ত্রের গতিপথ আকাশেই বদলানো যায়। দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান উত্তর কোরিয়ার এই পদক্ষেপের প্রতি সতর্কতা প্রকাশ করেছে
উত্তর কোরিয়া গতকাল শনিবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে একটি মধ্যম পাল্লার কৌশলগত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালিয়েছে। এই ঘটনার খবর প্রকাশের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী জানিয়েছিল, উত্তর কোরিয়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার সীমান্ত অঞ্চলের অসামরিকীকৃত এলাকায় (ডিএমজেড) গত মাসে একটি বিস্ফোরণে তিনজন দক্ষিণ কোরীয় সেনা আহত হয়েছিলেন। সিউল ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের ঘটনাকে পিয়ংইয়ংকে দায়ী করে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছিল। তবে উত্তর কোরিয়া বিস্ফোরণের দায় অস্বীকার করে দক্ষিণ কোরিয়াকে ‘নিন্দনীয়’ বলে আখ্যা দিয়েছিল। এ ঘটনায় দুই দেশের বেসামরিক নেতৃত্বের মধ্যে আলোচনার সম্ভাব্য আবহও ধ্বংস হয়ে যায়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 উত্তর কোরিয়া এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে মধ্যম পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালায়; দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী জানায়, ক্ষেপণাস্ত্রটি ৭০০ কিলোমিটার পাড়ি দিয়েছে
- 📌 উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উনের বোন কিম ইয়ো-জং দাবি করেন, এ প্রযুক্তি দিয়ে ক্ষেপণাস্ত্রের গতিপথ আকাশেই বদলানো যায় এবং এতে ‘বাঁচার কোনো উপায় নেই’
- 📌 কিম জং-উন বিশ্বাস করেন, বিশ্বের অন্য কোনো দেশ এ প্রযুক্তির নাগাল পাবে না অন্তত কয়েক বছরের মধ্যে
- 📌 দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান উত্তর কোরিয়ার এই পদক্ষেপের প্রতি সতর্কতা প্রকাশ করেছে এবং নিবিড় তথ্য আদান-প্রদান করছে
- 📌 উত্তর কোরিয়া ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার সহায়তা পেয়ে নিজেদের ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি দ্রুত উন্নত করছে
📰 বিস্তারিত
উত্তর কোরিয়ার এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনীর জন্য একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী জানায়, ক্ষেপণাস্ত্রটি ৭০০ কিলোমিটার (৪৩৫ মাইল) পাড়ি দিয়েছে। এ প্রযুক্তি দিয়ে ক্ষেপণাস্ত্রের গতিপথ আকাশেই বদলানো যায় বলে দাবি করেছেন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উনের বোন কিম ইয়ো-জং। তিনি বলেন, এ ক্ষেপণাস্ত্রের হামলা থেকে ‘বাঁচার কোনো উপায় নেই’। কিম ইয়ো-জং আরও উল্লেখ করেন, কিম জং-উন বিশ্বাস করেন যে বিশ্বের অন্য কোনো দেশ এ প্রযুক্তির নাগাল পাবে না অন্তত কয়েক বছরের মধ্যে।
উত্তর কোরিয়ার এই পদক্ষেপের পিছনে রাশিয়ার সহায়তা একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ইউক্রেন যুদ্ধে সহায়তার বিনিময়ে রাশিয়া উত্তর কোরিয়াকে সামরিক সহায়তা প্রদান করছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই সহায়তার ফলে উত্তর কোরিয়া দ্রুত তাদের ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি উন্নত করতে সক্ষম হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক গবেষক হং সুং-পিও বলেন, বিশ্বজুড়ে সামরিক প্রযুক্তিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার ক্রমেই বাড়ছে এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রও এর বাইরে নয়। এআই মূলত লক্ষ্যবস্তুর তথ্য এবং ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের কার্যক্রমে সহায়তা করতে পারে।
হং সুং-পিও বলেন, ইউক্রেন ও ইরানের যুদ্ধগুলো ইতিমধ্যে দেখিয়েছে যে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের সঙ্গে এআই যুক্ত করলে তাদের কার্যকারিতা কতটা বেড়ে যায়। তবে তিনি উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তির দাবি সম্পর্কে সতর্কতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বিশ্বের শীর্ষ সামরিক শক্তিগুলোর তুলনায় উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি খুব একটা উন্নত নয়। লক্ষ্যবস্তুর কাছাকাছি গিয়ে যেসব ক্ষেপণাস্ত্র গতিপথ পরিবর্তন করতে পারে, সেগুলো প্রতিহত করা কঠিন হলেও, তা একদম নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে না।
"বিশ্বজুড়ে সামরিক প্রযুক্তিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার ক্রমেই বাড়ছে এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রও এর বাইরে নয়। এআই মূলত লক্ষ্যবস্তুর তথ্য এবং ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের কার্যক্রমে সহায়তা করতে পারে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: উত্তর কোরিয়া (পিয়ংইয়ং), দক্ষিণ কোরিয়া (সিউল), রাশিয়া (মস্কো)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: কিম ইয়ো-জং (কিম জং-উনের বোন), হং সুং-পিও (কোরিয়া ইনস্টিটিউট ফর মিলিটারি অ্যাফেয়ার্সের জ্যেষ্ঠ গবেষক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭০০ কিলোমিটার (ক্ষেপণাস্ত্রের দূরত্ব), ৪৩৫ মাইল (৭০০ কিলোমিটার সমতুল্য)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!