📌 উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে সৃষ্ট শীতল বলয় বিশ্ব জলবায়ুর প্রধান চালিকাশক্তি ‘অ্যামক’ স্রোত দুর্বল হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিজ্ঞানীদের গবেষণায় দেখা গেছে, গ্রিনল্যান্ডের দক্ষিণ-পূর্বে প্রায় এক ডিগ্রি সেলসিয়াস শীতল হওয়া এই অঞ্চল ইউরোপের জলবায়ু ও বৈশ্বিক বৃষ্টিপাত ব্যবস্থাকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে
উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে বিশ্ব উষ্ণায়নের বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে। গ্রিনল্যান্ডের দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত সমুদ্রের একটি অংশ গত দেড় শতাব্দীতে প্রায় এক ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত শীতল হয়েছে। জলবায়ুবিজ্ঞানীরা এই শীতল বলয়কে ‘কোল্ড ব্লব’ নামে অভিহিত করেছেন। সাম্প্রতিক গবেষণায় উঠে এসেছে যে, এই শীতল বলয় বিশ্ব জলবায়ুর প্রধান চালিকাশক্তি ‘আটলান্টিক মেরিডিওনাল ওভারটার্নিং সার্কুলেশন’ বা ‘অ্যামক’ স্রোত দুর্বল হওয়ার স্পষ্ট লক্ষণ।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 গ্রিনল্যান্ডের দক্ষিণ-পূর্বে উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরের অংশ প্রায় এক ডিগ্রি সেলসিয়াস শীতল হয়েছে
- 📌 বিজ্ঞানীদের মতে, এই শীতল বলয় অ্যামক স্রোত দুর্বল হওয়ার ইঙ্গিত বহন করছে
- 📌 অ্যামক স্রোত ইউরোপকে উষ্ণ রাখতে সাহায্য করে, যার দুর্বলতা ইউরোপজুড়ে স্থবিরতা ডেকে আনতে পারে
- 📌 বিজ্ঞানী স্টেফান রাহমস্টর্ফের গবেষণা অনুসারে, মহাসাগরের নিজস্ব স্রোত দুর্বল হওয়ার কারণেই এই শীতল বলয়ের সৃষ্টি
- 📌 আগামী কয়েক দশকের মধ্যে অ্যামক স্রোত সম্পূর্ণ বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে পারে
📰 বিস্তারিত
বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে গ্রিনল্যান্ডের বরফ গলে বিপুল পরিমাণ মিঠাপানি সমুদ্রে মিশছে। এই মিঠাপানি সমুদ্রের লবণাক্ততার ঘনত্ব কমিয়ে দিচ্ছে, ফলে উষ্ণ পানি সমুদ্রের তলদেশে নামতে পারছে না। এর ফলে অ্যামক স্রোত ধীরগতির হয়ে পড়ছে। বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, আগামী কয়েক দশকের মধ্যে এই স্রোতব্যবস্থাটি সংকটময় সীমা অতিক্রম করলে ইউরোপজুড়ে চরম স্থবিরতা দেখা দেবে। একই সঙ্গে এশিয়া ও আফ্রিকার কৃষিকাজের জন্য অত্যন্ত জরুরি মৌসুমি বায়ু ও বৃষ্টিপাত ব্যাহত হবে।
জার্মানির পটসডাম ইনস্টিটিউট ফর ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট রিসার্চের বিজ্ঞানী স্টেফান রাহমস্টর্ফ ও তাঁর সহকর্মীরা সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখেছেন যে, ১৯৫৫ সাল থেকে এই অঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপের ক্ষয় কমেছে। তবে সমুদ্রের তলদেশ প্রায় এক কিলোমিটার গভীর পর্যন্ত শীতল হয়ে যাচ্ছে। এর অর্থ হলো, মহাসাগরের নিজস্ব স্রোত দুর্বল হওয়ার কারণেই সেখানে উষ্ণ পানি কম পৌঁছাচ্ছে।
বিজ্ঞানীদের মতে, অ্যামক স্রোতের বিপর্যয় শুধু ইউরোপের জলবায়ুকে প্রভাবিত করবে না, বরং তা সাবপোলার জাইর নামে পরিচিত সামুদ্রিক ঘূর্ণিস্রোতকেও ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিতে পারে। এই ঘূর্ণিটি বন্ধ হয়ে গেলে ২০৪০-এর দশকের শুরুতে যুক্তরাজ্যসহ পশ্চিম ইউরোপের তাপমাত্রা নাটকীয়ভাবে কমে যেতে পারে।
"আটলান্টিকের এই শীতল বলয় বিশ্ব জলবায়ুর অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি অ্যামক স্রোত দুর্বল হওয়ার স্পষ্ট ইঙ্গিত বহন করছে। এর ফলে ইউরোপের জলবায়ু ও বৈশ্বিক বৃষ্টিপাত ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: উত্তর আটলান্টিক মহাসাগর, গ্রিনল্যান্ডের দক্ষিণ-পূর্ব
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: বিজ্ঞানী স্টেফান রাহমস্টর্ফ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: প্রায় এক ডিগ্রি সেলসিয়াস (শীতল হওয়ার পরিমাণ)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: প্রায় এক কিলোমিটার (সমুদ্রের গভীরতা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!