📌 দক্ষিণ আফ্রিকার আইনজ্ঞ নাভি পিল্লাই ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছেন আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে। ট্রাম্পের নোবেল আকাঙ্ক্ষা নিয়ে তাঁর রসিকতা এবং গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ড নিয়ে জাতিসংঘের তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে আন্তর্জাতিক আলোচনা জাগ্রত হয়েছে। ইসরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সমালোচনা আসার পাশাপাশি মার্কিন সরকার আইসিসির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে
দক্ষিণ আফ্রিকার আইনজ্ঞ নাভানেথেম ‘নাভি’ পিল্লাই ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছেন আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে। পুরস্কার ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনা জাগ্রত হয়েছে, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নোবেল আকাঙ্ক্ষা নিয়ে তাঁর রসিকতা এবং গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান নিয়ে তাঁর নেতৃত্বাধীন জাতিসংঘের তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনকে কেন্দ্র করে। ইসরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সমালোচনা আসার পাশাপাশি মার্কিন সরকার আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **নোবেল শান্তি পুরস্কার** পেয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার আইনজ্ঞ **নাভি পিল্লাই** (৮৫ বছর) — আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে।
- 📌 **জার্মানির নুরেমবার্গে** ৯ অক্টোবর পুরস্কার ঘোষণার পর পিল্লাই **ট্রাম্পের নোবেল আকাঙ্ক্ষা** নিয়ে রসিকতা করেন: ‘আপনারা যদি আরেকটু জোরে হাততালি দেন, তাহলে আমি ট্রাম্পের সঙ্গে পুরস্কার ভাগ করে নিতে পারি’।
- 📌 **জাতিসংঘের তদন্ত প্রতিবেদন** (২০২৫) গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে **গণহত্যা** হিসেবে অভিহিত করেছে — ইসরায়েল প্রত্যাখ্যান করেছে।
- 📌 **ট্রাম্প** পিল্লাইকে ‘রহস্যময় ব্যক্তি’ বলে সমালোচনা করেছেন এবং নোবেল কমিটিকে নরওয়ের সমালোচনা করেছেন।
- 📌 **মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও** আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)কে ‘নিয়ন্ত্রণহীন’ প্রতিষ্ঠান হিসেবে উল্লেখ করে এর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছেন।
- 📌 **পিল্লাইয়ের কর্মজীবন** শুরু হয় **বর্ণবাদের বিরুদ্ধে** — ১৯৬৭ সালে প্রথম অশ্বেতাঙ্গ নারী হিসেবে নিজস্ব আইনচর্চা প্রতিষ্ঠা করেন।
- 📌 **রুয়ান্ডার গণহত্যা মামলায়** তিনি যৌন সহিংসতাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি দেন।
- 📌 বর্তমানে **রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলায়** আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) অ্যাডহক বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
📰 বিস্তারিত
৯ অক্টোবর জার্মানির নুরেমবার্গে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাৎসি নেতাদের বিচারের ঐতিহাসিক আদালতকক্ষে নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার খবর ঘোষিত হওয়ার পর ৮৫ বছর বয়সী নাভি পিল্লাই বক্তব্য দেন। উপস্থিত ব্যক্তিরা তাঁকে দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানালে তিনি ট্রাম্পের নোবেল পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা নিয়ে রসিকতা করেন। তাঁর মন্তব্য, ‘আপনারা যদি আরেকটু জোরে হাততালি দেন, তাহলে আমি হয়তো এই পুরস্কারটি ট্রাম্পের সঙ্গে ভাগ করে নিতে পারি’ — এই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
পিল্লাইয়ের নেতৃত্বাধীন জাতিসংঘের স্বাধীন তদন্ত কমিশন ২০২৫ সালে গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে গণহত্যা হিসেবে অভিহিত করে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ইসরায়েল ওই প্রতিবেদনের সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে। পিল্লাইয়ের নোবেল প্রাপ্তির পরও ইসরায়েলি পক্ষ থেকে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। এদিকে, ট্রাম্প পিল্লাইকে ‘রহস্যময় ব্যক্তি’ বলে উল্লেখ করেন এবং তাঁকে পুরস্কার দেওয়ার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও নোবেল কমিটির সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেন। তিনি আদালটিকে ‘নিয়ন্ত্রণহীন’ প্রতিষ্ঠান হিসেবে উল্লেখ করেন। তবে নিষেধাজ্ঞার ঘোষণাকে পিল্লাইকে পুরস্কার দেওয়ার সরাসরি প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখানোর ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
নাভি পিল্লাই ১৯৪১ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানে তামিল বংশোদ্ভূত এক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। বর্ণবাদী শাসনামলে বেড়ে ওঠা পিল্লাই শৈশব থেকেই বৈষম্যের বাস্তবতা দেখেছেন। তাঁর বাবা ছিলেন বাসচালক। সীমিত আর্থিক সামর্থ্যের মধ্যেও তিনি পড়াশোনা চালিয়ে যান এবং পরবর্তী সময়ে আইন পেশায় প্রতিষ্ঠিত হন। ১৯৬৭ সালে নিজ প্রদেশ নাটালে প্রথম অশ্বেতাঙ্গ নারী হিসেবে নিজস্ব আইনচর্চা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন পিল্লাই। বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া আন্দোলনকারীদের পক্ষে আইনি লড়াই করেন তিনি।
১৯৯৫ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার হাইকোর্টের প্রথম অশ্বেতাঙ্গ নারী বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান পিল্লাই। এরপর আন্তর্জাতিক বিচারাঙ্গনে তাঁর কর্মজীবন বিস্তৃত হয়। রুয়ান্ডার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে যৌন সহিংসতাকে আন্তর্জাতিক অপরাধের আওতায় বিচারের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতেও বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ২০০৮ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ছিলেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার। এ সময় বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় তিনি সোচ্চার ভূমিকা রাখেন।
‘আপনারা যদি আরেকটু জোরে হাততালি দেন, তাহলে আমি হয়তো এই পুরস্কারটি ট্রাম্পের সঙ্গে ভাগ করে নিতে পারি’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: জার্মানির নুরেমবার্গ, দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবান, গাজা, রুয়ান্ডা, আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: নাভি পিল্লাই, ডোনাল্ড ট্রাম্প, মার্কো রুবিও, ইসরায়েলের নেতারা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮৫ বছর (পিল্লাইয়ের বয়স), ৯ অক্টোবর (পুরস্কার ঘোষণা), ২৩ সেপ্টেম্বর (জন্ম তারিখ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!