📌 দক্ষিণ আফ্রিকার বিচারক ও মানবাধিকারকর্মী নাভি পিল্লাই ২০২৬ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করেন। বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলন, গণহত্যা বিচার ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রতিষ্ঠায় তাঁর দীর্ঘদিনের অবদানকে স্বীকৃতি হিসেবে পুরস্কার প্রদান করা হয়
দক্ষিণ আফ্রিকার বিচারক ও মানবাধিকারকর্মী নাভানেথেম ‘নাভি’ পিল্লাই ২০২৬ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করেছেন। আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার রক্ষায় তাঁর অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি তাঁকে ‘বিচারিক কঠোরতা, ব্যক্তিগত সততা ও অসাধারণ সাহস’ প্রদর্শনের জন্য সম্মানিত করেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২০২৬ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার পান দক্ষিণ আফ্রিকার বিচারক ও মানবাধিকারকর্মী নাভি পিল্লাই
- 📌 বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলন, গণহত্যা বিচার ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রতিষ্ঠায় তাঁর দীর্ঘদিনের অবদান স্বীকৃত
- 📌 ১৯৯৪ সালের রুয়ান্ডা গণহত্যা বিচারের সময় ধর্ষণ ও যৌন সহিংসতাকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি প্রতিষ্ঠা করেন
- 📌 জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনার (২০০৮-২০১৪) ও আইসিজে বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন
- 📌 গাজা যুদ্ধে ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে গণহত্যা হিসেবে চিহ্নিতকারী ২০২৫ সালের জাতিসংঘ প্রতিবেদনের নেতৃত্ব দিয়েছেন
- 📌 নোবেল পুরস্কার গ্রহণে বলেছেন: ‘আন্তর্জাতিক অপরাধের শিকারদের জন্য এই সম্মান উৎসর্গ করব’
📰 বিস্তারিত
১৯৪০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার নাটাল প্রদেশের ডারবানে জন্মগ্রহণকারী নাভি পিল্লাই তামিল বংশোদ্ভূত। বর্ণবৈষম্যের পরিবেশে বেড়ে ওঠা এই আইনজীবী কর্মজীবনের শুরু থেকেই মানবাধিকার রক্ষায় সক্রিয় ছিলেন। ইউনিভার্সিটি অব নাটাল থেকে আইন ডিগ্রি অর্জনের পর তিনি ওই প্রদেশের প্রথম নারী হিসেবে নিজস্ব আইন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের কর্মীদের পক্ষে আইনি লড়াইয়ে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি, ১৯৭৩ সালে রবেন দ্বীপে বন্দী রাজনৈতিক বন্দীদের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ওই দ্বীপে দীর্ঘদিন বন্দী ছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদবিরোধী নেতা নেলসন ম্যান্ডেলা।
পিল্লাই দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী হিসেবে হাইকোর্টের বিচারপতি পদে অধিষ্ঠিত হন। পরবর্তীতে তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ফর রুয়ান্ডার (আইসিটিআর) সভাপতিত্ব করেন। ১৯৯৪ সালের রুয়ান্ডা গণহত্যা বিচারের সময় তিনি ধর্ষণ ও যৌন সহিংসতাকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। নোবেল কমিটি বলেছে, তাঁর অবদান আন্তর্জাতিক আইনে গুরুত্বপূর্ণ নজির স্থাপন করেছে।
২০০৮ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন পিল্লাই। সাম্প্রতিককালে তিনি অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড বিষয়ক জাতিসংঘের স্বাধীন তদন্ত কমিশনের নেতৃত্ব দেন। ২০২৫ সালের প্রতিবেদনে গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে গণহত্যা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। প্রতিবেদন প্রকাশের পর তিনি যুদ্ধবিরতি ও ন্যায়বিচারের দাবিতে জাতিসংঘ সদস্যরাষ্ট্রগুলোর প্রতি আহ্বান জানান। বর্তমানে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।
"আন্তর্জাতিক অপরাধের শিকার ও বেঁচে ফেরা ব্যক্তিদের জন্য এই সম্মান উৎসর্গ করতে চাই। আইনের শাসন ও স্বাধীন আদালত রক্ষায় সম্মিলিতভাবে দাঁড়ানোর প্রত্যয় এ পুরস্কারকে আরও দৃঢ় করেছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: দক্ষিণ আফ্রিকা (ডারবান, নাটাল প্রদেশ), রুয়ান্ডা, গাজা (ফিলিস্তিন), আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (দ্য হেগ)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: নাভানেথেম ‘নাভি’ পিল্লাই, নেলসন ম্যান্ডেলা, সিরিল রামাফোসা (দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০২৬ (নোবেল পুরস্কার), ১৯৯৪ (রুয়ান্ডা গণহত্যা), ২০০৮-২০১৪ (জাতিসংঘ মানবাধিকার হাইকমিশনার)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!