📌 সুইডেনের নোবেল জাদুঘরে নোবেলজয়ীদের ব্যক্তিগত জীবনের অদ্ভুত স্মারক রয়েছে, যেমন ফ্রেড র্যামসডেলের হাইকিং বুট, আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতা তত্ত্বের হস্তলিখিত নথি, মেরি কুরির তেজস্ক্রিয় নোটবুক রেপ্লিকা এবং রবীন্দ্রনাথের একটি ছোট নোটবুক। এছাড়াও রয়েছে অমর্ত্য সেনের সাইকেল, মালালা ইউসুফজাইয়ের গোলাপি শাল এবং এমন অদ্ভুত বস্তু যেমন ডিটারজেন্টের বোতল ও নখ কাটার কাঁচি।
সুইডেনের স্টকহোমে অবস্থিত নোবেল জাদুঘরে নোবেলজয়ীদের ব্যক্তিগত জীবনের অদ্ভুত স্মারক সংগ্রহ করা হয়েছে। এই জাদুঘরে থেকে শুরু করে পাবলো নেরুদার বিখ্যাত পাইপ থেকে গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেসের চশমা, দালাই লামার কলম পর্যন্ত — প্রতিটি স্মারকই একটি গল্প বহন করে। প্রবেশপথে দেয়ালে সাজানো নোবেল পুরস্কারের বড় রেপ্লিকা ছবি তোলার জন্যই ভিড় লেগে থাকে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ফ্রেড র্যামসডেলের হাইকিং বুট: নোবেল পুরস্কার পাওয়ার খবর পেলে তাঁর স্ত্রী ও পোষা কুকুরের সঙ্গে হাইকিংয়ে যাওয়ার কারণে নোবেল কমিটি তাঁকে খুঁজতে নাজেহাল হয়েছিল।
- 📌 আইনস্টাইনের হস্তলিখিত নথি: ১৯২২ সালের আপেক্ষিকতা তত্ত্বের সমীকরণের নথি এবং ম্যাক্স ভন লাউয়ের সম্পাদকীয় নোট জাদুঘরে রয়েছে, যা সুইডিশ ধনকুবের পার তুবে দান করেছেন।
- 📌 মেরি কুরির তেজস্ক্রিয় নোটবুক রেপ্লিকা: উচ্চমাত্রার তেজস্ক্রিয়তার কারণে তাঁর মূল নোটবুক সিল করে তাঁর মরদেহের সঙ্গে সমাধিস্থ করা হয়েছে।
- 📌 রবীন্দ্রনাথের একটি ছোট নোটবুক: ১৯২৩ সালে ফরাসি বন্ধু আন্দ্রে কার্পেলিসকে উপহার দেওয়া এই নোটবুক জাদুঘরে দান করেছেন তাঁর পালিত কন্যা ফ্লোরা হগম্যান।
- 📌 অমর্ত্য সেনের সাইকেল ও মালালা ইউসুফজাইয়ের গোলাপি শাল: এই স্মারকগুলো দেখে বাঙালি হিসেবে বিশেষ আনন্দ অনুভব করা যায়।
- 📌 অদ্ভুত স্মারক: ডিটারজেন্টের বোতল ও নখ কাটার কাঁচি: প্রতিটি স্মারকবস্তুর পাশে ডিজিটাল স্ক্রিনে রয়েছে তাদের পেছনের গল্প।
📰 বিস্তারিত
নোবেল জাদুঘরে প্রথম ঘরে সাম্প্রতিক নোবেলজয়ীদের স্মারক রয়েছে। ২০২৫ সালে চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন ফ্রেড র্যামসডেল। তাঁর স্মারক হিসেবে রাখা হয়েছে সেই হাইকিং বুট, যেখানে তিনি নোবেল পুরস্কার পাওয়ার খবর পেলে স্ত্রী ও পোষা কুকুরের সঙ্গে হাইকিংয়ে যান। নোবেল কমিটি তাঁকে খুঁজতে নাজেহাল হয়েছিল। তাঁর স্ত্রীর মুঠোফোনে শত শত পেন্ডিং টেক্সট ঢুকতে শুরু করলে তাঁরা অবাক হয়ে জানতে পারেন, ফ্রেড নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন।
আইনস্টাইনের স্মারক সর্বকালের সেরা বিজ্ঞানীদের একজন। তাঁর নিজের হাতে লেখা ১৯২২ সালের আপেক্ষিকতা তত্ত্বের সমীকরণের নথি এবং ম্যাক্স ভন লাউয়ের সম্পাদকীয় নোট জাদুঘরে রয়েছে। এই নথিটি ২০১৯ সালে এক নিলামে চড়া দামে কিনে জাদুঘরকে দান করেছেন সুইডিশ ধনকুবের পার তুবে। আইনস্টাইনের আবিষ্কার নিয়ে বিতর্কের অবসানে ম্যাক্স ভন লাউয়ের নোটটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।
মেরি কুরির ব্যক্তিগত নোটবুক তেজস্ক্রিয়তার কারণে ভারী ধাতু দিয়ে সিল করে তাঁর মরদেহের সঙ্গে সমাধিস্থ করা হয়েছে। জাদুঘরে তাঁর নোটবুকের রেপ্লিকা রয়েছে। বাঙালি হিসেবে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মারক খুঁজতে গেলে মাত্র একটি নোটবুক পাওয়া গেছে। ১৯২৩ সালে ফরাসি বন্ধু আন্দ্রে কার্পেলিসকে উপহার দেওয়া এই নোটবুক জাদুঘরে দান করেছেন তাঁর পালিত কন্যা ফ্লোরা হগম্যান।
অমর্ত্য সেনের সাইকেল এবং মালালা ইউসুফজাইয়ের গোলাপি শাল জাদুঘরে বিশেষ স্থান পেয়েছে। অমর্ত্য সেনের সাইকেলে চড়ে তিনি পশ্চিমবঙ্গের গ্রামে গ্রামে দারিদ্র্য ও বৈষম্যকে বুঝতে যান। মালালা ইউসুফজাইয়ের গোলাপি শাল পরেই তিনি ১৬তম জন্মদিনে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে বক্তৃতা দিয়েছিলেন।
অদ্ভুত স্মারক হিসেবে রয়েছে ডিটারজেন্টের বোতল, নখ কাটার কাঁচি এবং এমন বস্তু যা নোবেলজয়ীদের নিজের কাজের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। যেমন, অর্থনীতিতে নোবেলজয়ী রজার মায়ারসন দিয়েছেন আইজাক আসিমভের বই *ফাউন্ডেশন*। সাহিত্যে নোবেলজয়ী অ্যালিস মানরো দিয়েছেন আন্তন চেখভের সংকলন *পোর্টেবল চেখভ*।
"আইনস্টাইনের এই নথি চড়া দামে কিনে জাদুঘরকে দান করেছেন সুইডিশ ধনকুবের পার তুবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নোবেল জাদুঘর, স্টকহোম, সুইডেন
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ফ্রেড র্যামসডেল, আলবার্ট আইনস্টাইন, মেরি কুরি, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, অমর্ত্য সেন, মালালা ইউসুফজাই, রজার মায়ারসন, অ্যালিস মানরো
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৬ (মালালা ইউসুফজাইয়ের বয়স), ১৯২২ (আইনস্টাইনের নথির বছর), ২০০৭ (ফ্লোরা হগম্যানের দান), ২০২৫ (ফ্রেড র্যামসডেলের নোবেল)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!