📌 নিকারাগুয়ার সরকার ঘোষণা করেছে, তারা কেন্দ্রীয় আমেরিকান সংসদ থেকে প্রত্যাহার করবে। ওরটেগা-মুরিল্লো সরকারের এই পদক্ষেপের পিছনে রয়েছে মানবাধিকার ও গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে তাদের ক্রমবর্ধমান আক্রমণ। আন্তর্জাতিক সমালোচনা ও রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তির দাবির পরও সরকার স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের নামে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয়েছে
নিকারাগুয়ার সরকার ঘোষণা করেছে, তারা কেন্দ্রীয় আমেরিকান সংসদ (Parlamento Centroamericano) থেকে প্রত্যাহার করবে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ওরটেগা-মুরিল্লো সরকারের ক্ষমতা বৃদ্ধির অংশ হিসেবে, যেখানে রাষ্ট্রপতি ড্যানিয়েল ওরটেগা ও তার সহ-রাষ্ট্রপতি ও স্ত্রী রোজারিও মুরিল্লো একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখছেন। বুধবার (৪ অক্টোবর) বিদেশ মন্ত্রণালয় ঘোষণা দিয়েছে, তারা এই ছয়টি দেশের সংসদ থেকে প্রত্যাহার করবে, যা মূলত কেন্দ্রীয় আমেরিকায় মানবাধিকার ও গণতন্ত্রের প্রচারে কাজ করে আসছিল।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **কেন্দ্রীয় আমেরিকান সংসদ থেকে প্রত্যাহার**: নিকারাগুয়া সরকারের এই পদক্ষেপের মাধ্যমে তারা আরো একটি আন্তর্জাতিক সংগঠন থেকে নিজেদের বিচ্ছিন্ন করে নিচ্ছে, যা মানবাধিকার ও গণতন্ত্রের প্রচারের জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
- 📌 **ওএসএস-এর সমালোচনা ও প্রতিক্রিয়া**: শুক্রবার (৩ অক্টোবর) আমেরিকান রাষ্ট্রসমূহের সংস্থা (OAS) একটি প্রস্তাব পাস করে নিকারাগুয়া সরকারকে সিভিল রাইটস পুনরুদ্ধার ও রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তি দিতে বলেছে।
- 📌 **সার্বভৌমত্বের নামে প্রত্যাহার**: নিকারাগুয়া সরকার বলেছে, এই সিদ্ধান্ত "সার্বভৌমত্বের পূর্ণ পরিপূর্ণতা"র অংশ হিসেবে নেওয়া হয়েছে।
- 📌 **মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ**: ওরটেগা সরকারের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে রাজনৈতিক বিরোধীদের কারাগারে মৃত্যুর ঘটনা, নির্যাতন ও নির্বাসন।
- 📌 **মিস্কিটো নেতা ব্রুকলিন রিভেরার মৃত্যু**: একজন মিস্কিটো নেতা ও সরকারের সমালোচক ব্রুকলিন রিভেরা ৩২ মাস কারাগারে বন্দী ছিলেন। তার মৃত্যুর কারণ হিসেবে সরকার COVID-1৯ উল্লেখ করেছে, কিন্তু মানবাধিকার সংস্থা "অস্বাস্থ্যকর" বলে দাবি করেছে।
- 📌 **আমেরিকার প্রতিক্রিয়া**: মার্কিন সরকার ওরটেগা সরকারকে "ডিক্টেটরশিপ" বলে সমালোচনা করেছে এবং তাদের নির্বাচন বাতিলের সিদ্ধান্তকে "কৌল্য ও ভয়"র প্রতীক হিসেবে দেখেছে।
- 📌 **রাজনৈতিক বন্দীদের অভিযোগ**: মার্কিন সরকারের তরফ থেকে ২২২ জন রাজনৈতিক বন্দীকে ২০২৩ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাসিত করা হয়েছিল, কিন্তু পরবর্তীতে নিকারাগুয়া তাদের নাগরিকত্ব বাতিল করে "দেশদ্রোহী" বলে অভিহিত করেছে।
📰 বিস্তারিত
নিকারাগুয়ার সরকারের এই পদক্ষেপের পিছনে রয়েছে তাদের আন্তর্জাতিক সংগঠনসমূহের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান প্রতিরোধ। ওরটেগা সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তারা আন্তর্জাতিক সংগঠনসমূহকে "বাইরের হস্তক্ষেপের সরঞ্জাম" হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। ২০২৩ সালে তারা আমেরিকান রাষ্ট্রসমূহের সংস্থা (OAS) থেকে এবং ২০২৫ সালে জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদ থেকে প্রত্যাহার করেছিল। এই পদক্ষেপের পিছনে ছিল তাদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের সমালোচনা, যা ওরটেগা সরকারের শাসনামলে আরও খারাপ হয়েছে।
২০১৮ সাল থেকে ওরটেগা সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তারা রাজনৈতিক বিরোধীদের শাসনবিরোধী কর্মকাণ্ডের জন্য কারাগারে নির্যাতন, হত্যা ও নির্বাসন করে আসছে। জাতিসংঘের একটি প্রতিবেদন অনুসারে, সরকারের দায়িত্বে থাকা সময়ে অন্তত ৮ জন কারাগারে মৃত্যুবরণ করেছেন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সরকারের কারাগারে মৃত্যুর ঘটনাগুলোর ব্যাখ্যা অসঙ্গতিপূর্ণ, বিশেষ করে মিস্কিটো নেতা ব্রুকলিন রিভেরার মৃত্যুর ক্ষেত্রে। রিভেরা ৩২ মাস কারাগারে বন্দী ছিলেন এবং তার পরিবারের সাথে খুব কম যোগাযোগ ছিল। তার মৃত্যুর কারণ হিসেবে সরকার COVID-১৯ উল্লেখ করেছে, কিন্তু মানবাধিকার সংস্থা "ফিজিশিয়ানস ফর হিউম্যান রাইটস" এই ব্যাখ্যাকে "অস্বাস্থ্যকর" বলে উল্লেখ করেছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তরফ থেকে এই ঘটনাগুলোকে সমালোচনা করা হয়েছে। জুলাই মাসে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও একটি বিবৃতিতে বলেছেন, নিকারাগুয়া সরকারের নির্বাচন বাতিলের সিদ্ধান্ত তাদের "ডিক্টেটরশিপ"র প্রমাণ। তিনি বলেছেন, ওরটেগা সরকারের নির্বাচন বাতিলের সিদ্ধান্ত "নিকারাগুয়ার লোকদের ইচ্ছার ভয় ও কৌল্য"র প্রতীক।
তবে মার্কিন সরকারের নিজস্ব অভিযোগও রয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন নিকারাগুয়ার নাগরিকদেরকে দেশ থেকে বহিষ্কার করার চেষ্টা করছে, যারা ওরটেগা সরকারের শাসনামলে নির্বাসিত হয়েছিল। মানবাধিকার সংস্থা "হিউম্যান রাইটস ওয়াচ" বলেছে, মার্কিন সরকার এখনো ৮ জন নিকারাগুয়ার নাগরিককে দেশ থেকে বহিষ্কার করার চেষ্টা করছে, যাদের মধ্যে ৪ জনের এখনো শরণার্থী আবেদন চলছে।
"সার্বভৌমত্বের পূর্ণ পরিপূর্ণতা"র অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে
"একটি রাষ্ট্র যা বাধ্যতামূলক অদৃশ্যকরণে সক্রিয়ভাবে অংশ নেয় এবং কারাগারে লোকদের মৃত্যুর অনুমতি দেয়, তা গণতান্ত্রিক শাসনের জন্য প্রয়োজনীয় মানবাধিকারের মৌলিক মানদণ্ড পূরণ করতে ব্যর্থ হয়"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নিকারাগুয়া, কেন্দ্রীয় আমেরিকা
- 👥 মুখ্য ব্যক্তিবর্গ: রাষ্ট্রপতি ড্যানিয়েল ওরটেগা, রোজারিও মুরিল্লো, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, ব্রুকলিন রিভেরা, জন-মাইকেল সিমন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩২ মাস (বন্দীকাল), ২২২ জন (রাজনৈতিক বন্দী)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!