📌 নেপালের বন্যা ও ভূস্পর্শণে ১৪৫০-এরও বেশি মানুষ মারা গেছে। পর্যটন খাতের ৮% অর্থনীতির অবদানকারী এই খাত এখন লকডাউনের মতো অবস্থায়। পর্যটকরা সফর বাতিল করে, স্থানীয় ব্যবসায়ীরা আয় হারাচ্ছেন
নেপালের বন্যা ও ভূস্পর্শণে পর্যটন খাতের মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে। বর্ষাকালের শেষে শুরু হওয়া পর্যটন মৌসুমে বন্যা ও মৃত্যুতে সফর বাতিল করে পর্যটকরা। নেপালের অর্থনীতির ৮% অবদানকারী এই খাতের ব্যবসায়ীরা আয় হারাচ্ছেন এবং আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 নেপালে বন্যা ও ভূস্পর্শণে ১৪৫০-এরও বেশি মানুষ মারা গেছে, যা পর্যটন খাতকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
- 📌 পর্যটন মৌসুমে শুরু হওয়ার পরও পর্যটকরা সফর বাতিল করছেন, যার ফলে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা আয় হারাচ্ছেন।
- 📌 কাঠমান্ডুতে ট্যাক্সি চালক পুষ্পরাজ রিমাল বলেছেন, ‘এখনো লকডাউনের মতো অবস্থা চলছে’।
- 📌 সীতা নেপালি ও তার স্বামী রামকান্ত নেপালি বলেছেন, ‘আমরা আগের মতো বিক্রি করতে পারছি না, বর্তমানে আয়ের মাত্র এক চতুর্থাংশ’।
- 📌 ব্রিটিশ পর্যটক আলেক্সা ও তার দলের সদস্যরা সফর বাতিল করে দিয়েছেন, কারণ বন্যা ও মৃতদেহের অবস্থা ছিল বিপজ্জনক।
📰 বিস্তারিত
কাঠমান্ডু, চিতোয়ান ও নুয়াকোটের মতো নেপালের পর্যটন কেন্দ্রগুলো বন্যা ও ভূস্পর্শণের কারণে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নেপালের অর্থনীতির ৮% অবদানকারী পর্যটন খাতের জন্য এই বন্যা একটি মারাত্মক আঘাত। বর্ষাকালের শেষে শুরু হওয়া পর্যটন মৌসুমে বন্যা ও মৃত্যুতে পর্যটকরা সফর বাতিল করে দিয়েছেন।
পুষ্পরাজ রিমাল, একজন ট্যাক্সি চালক ও পর্যটন পরিকল্পক, বলেছেন, ‘এখনো লকডাউনের মতো অবস্থা চলছে’। তিনি কাঠমান্ডু ও পোকারা শহরে হোটেল ও ট্রেকিং কোম্পানির জন্য কমিশন নিয়ে কাজ করেন। তিনি বলেন, ‘আমি দুই মাসের জন্য দুইটি গাড়ি ভাড়া নিয়েছিলাম, কিন্তু মৌসুমের এক চতুর্থাংশেরও কম ব্যবসা হয়েছে। পর্যটকরা সাধারণত সেপ্টেম্বর থেকে আসতে শুরু করেন, কিন্তু এই বছর সবাই সফর বাতিল করেছেন। আমি এখন মৌসুম শেষ হওয়ার জন্য অপেক্ষা করছি।’
সীতা নেপালি ও তার স্বামী রামকান্ত নেপালি, যারা কাঠমান্ডু থেকে পোকারা ও চিতোয়ান পর্যন্ত সড়কপথে হোমমেড বুটমিল্ক ও কটেজ চিজ বিক্রি করেন, বলেছেন, ‘আমাদের শহর বন্যায় ধ্বংস হয়ে যায়নি, কিন্তু বন্যা আমাদের কাছে বিক্রেতা না পাওয়ার মাধ্যমে আসে। সড়ক বন্ধ থাকা ১১ দিনে আমরা কিছুই বিক্রি করতে পারিনি। সড়ক খুলে গেলেও শুধু সরকারি গাড়িই যেত। এখন কিছু পর্যটক আসছেন, কিন্তু আগের মতো বিক্রি করতে পারছি না। আমরা আগের মতো আয়ের মাত্র এক চতুর্থাংশ করছি।’
ব্রিটিশ পর্যটক আলেক্সা ও তার পাঁচজন বন্ধুর সফর বাতিল হয়ে গেছে। তারা পোকারা ও ধুলিকেলে সফর করার পরিকল্পনা করেছিল, কিন্তু বন্যা ও মৃতদেহের অবস্থা দেখে সফর বাতিল করে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘এই ছিল আমাদের নেপালে প্রথম সফর। আমরা জুলাইয়ে কাঠমান্ডু বিমানবন্দর থেকে পোকারা পর্যন্ত দুটি ট্যাক্সি ভাড়া নিয়েছিলাম। ২৬ আগস্ট বন্যার খবর শুনে আমরা সবকিছু বাতিল করে দিয়েছি।’
"আমি এখন মৌসুম শেষ হওয়ার জন্য অপেক্ষা করছি। আমার দুই বাচ্চার জন্য দুস্সাহের সময়ে ট্যাবলেট দিতে পারব না। তাদের হৃদয় ভাঙতে হবে, প্রথমবারের মতো আমার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করতে হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কাঠমান্ডু, চিতোয়ান, পোকারা, নুয়াকোট, নেপাল
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: পুষ্পরাজ রিমাল, সীতা নেপালি, রামকান্ত নেপালি, আলেক্সা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৪৫০ জন মৃত্যু, ১১ দিন সড়ক বন্ধ, ৮% অর্থনৈতিক অবদান, ১.১৫ মিলিয়ন পর্যটক (২০২৫)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!