📌 নেপাল-তিব্বত সীমান্তে হঠাৎ হিমবাহ ধসে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় অন্তত ১৬৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। শতাধিক মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ধারকাজ চলমান থাকলেও ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছেন অনেকে
নেপাল-তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় হঠাৎ হিমবাহ ধসে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় মুহূর্তেই তলিয়ে গেছে গ্রাম, বাজার, সড়ক ও সেতু। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অন্তত ১৬৫ জনের মৃত্যু হয়েছে, আর শতাধিক মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ধারকারী দলগুলো সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে জীবিতদের সন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 নেপাল-তিব্বত সীমান্তে হিমবাহ ধসে সৃষ্ট বন্যায় নিহত অন্তত ১৬৫ জন
- 📌 রাসুয়া, নুয়াকোট ও ধাদিং জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত
- 📌 ত্রিশূলী বাজারের ব্যবসায়ী চোখের সামনে স্ত্রী ও ছেলেকে হারিয়েছেন
- 📌 নেপালের কর্মকর্তাদের হিসাবে নিখোঁজ রয়েছেন ৮২৩ জন
- 📌 পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি, নিখোঁজদের মধ্যে প্রায় ৩০০ জন ভারতীয় তীর্থযাত্রী
- 📌 চীনের তিব্বত অঞ্চলে নিখোঁজ ৫৫৮ জন, মৃত্যু ৩ জন
- 📌 যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো সহায়তা দিচ্ছে
📰 বিস্তারিত
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নেপাল-তিব্বত সীমান্তবর্তী রাসুয়াগড়ির কাছে তিমুরে এলাকায় হঠাৎ প্রবল বন্যার সৃষ্টি হয়। কর্তৃপক্ষের ধারণা, একটি হিমবাহ ধসে ভোতে কোশি নদীর উপনদী লেন্ডের প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার পর হঠাৎ পানির চাপ বেড়ে যায়। সেই পানি প্রবল বেগে নেমে এসে প্রথমে তিমুরে এলাকায় আঘাত হানে। কয়েক মিনিটের মধ্যেই বন্যার স্রোত ভাটির দিকে ধেয়ে যায় এবং রাসুয়া, নুয়াকোট ও ধাদিং জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত করে।
স্থানীয়দের মতে, ওই এলাকায় সেদিন উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাতও হয়নি। মানুষ যখন স্বাভাবিক কাজকর্মে ব্যস্ত ছিলেন, তখনই হঠাৎ প্রবল স্রোতে পানির দেয়াল আছড়ে পড়ে। রাসুয়ার প্রধান শুল্ক কর্মকর্তা রাজেন্দ্র ধুঙ্গানা জানান, মাটি কাঁপার মতো অনুভূতি পেয়ে তিনি বাইরে বেরিয়ে আসেন। তখন উজান থেকে তিমুরে বাজারের দিকে প্রচণ্ড বেগে পানির স্রোত নেমে আসতে দেখেন। তার ভাষায়, প্রায় ১০০ মিটার উঁচু ঢেউয়ের মতো পানি বাজারের দিকে ধেয়ে আসে। মুহূর্তের মধ্যেই তিমুরে বাজার কার্যত নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়।
ভয়াবহ পরিস্থিতি দেখে ধুঙ্গানা ও আরও কয়েক ডজন মানুষ কাছের জঙ্গলে আশ্রয় নেন। সীমান্তের কাস্টমস চেকপয়েন্টে অপেক্ষায় থাকা ৩০০টির বেশি গাড়ি ও ট্রাকও বন্যার স্রোতে ভেসে যায়। নেপালের কর্মকর্তাদের হিসাবে, এই দুর্যোগে অন্তত ১৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও ৮২৩ জনের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানালের দাবি, নিখোঁজদের মধ্যে প্রায় ৩০০ জন ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই মানসরোবরের তীর্থযাত্রী।
‘সেকেন্ডের মধ্যেই অনেক মানুষ ভেসে যায়। চোখের সামনে আমার ১৮ বছরের ছেলে ও স্ত্রীকে ভেসে যেতে দেখলাম। তারা এখন নিখোঁজ।’ — ত্রিশূলী বাজারের এক ব্যবসায়ী
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রাসুয়া, নুয়াকোট ও ধাদিং জেলা, নেপাল
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: রাজেন্দ্র ধুঙ্গানা (প্রধান শুল্ক কর্মকর্তা), শিশির খানাল (পররাষ্ট্রমন্ত্রী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: মৃত্যু ১৬৫ জন, নিখোঁজ ৮২৩ জন, ভারতীয় নিখোঁজ ৩০০ জন, চীনের তিব্বতে নিখোঁজ ৫৫৮ জন
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!