📌 হিমালয়ের পাদদেশে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে নেপাল ও চীনের তিব্বত অঞ্চলে মৃত্যু হয়েছে ৩৮৯ জনের। নিখোঁজ রয়েছেন দেড় হাজারের বেশি মানুষ। উদ্ধার অভিযান চলমান থাকলেও নতুন বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে
হিমালয়ের পাদদেশে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে নেপাল ও চীনের তিব্বত অঞ্চলে মৃতের সংখ্যা ৩৮৯ জন ছাড়িয়েছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন দেড় হাজারের বেশি মানুষ। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও মরদেহ থাকার আশঙ্কায় উদ্ধার অভিযান জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে উজানে নতুন করে একটি জলাধারসদৃশ হ্রদ তৈরি হওয়ায় ফের বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৮৯ জনে
- 📌 নিখোঁজ রয়েছেন দেড় হাজারের বেশি মানুষ
- 📌 নেপালের বিভিন্ন এলাকায় উদ্ধারকারীরা ৩৮৯টি মরদেহ উদ্ধার করেছেন
- 📌 নেপাল ও চীনের তিব্বত জুড়ে অন্তত ৮০০ বিদেশিসহ প্রায় ১৫০০ জন নিখোঁজ
- 📌 নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্যার পর ৯১০ জন মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন
- 📌 নিখোঁজদের মধ্যে ১৭৮ জন ভারতীয়, ১২৭ জন নেপালি, ৬৫ জন আমেরিকান এবং যুক্তরাজ্যের ৩৩ জন নাগরিক রয়েছেন
- 📌 চীনের তিব্বতের জিরং কাউন্টিতে নিখোঁজের সংখ্যা ৫৫৮ জন, যার মধ্যে ২৬০ জন বিদেশি নাগরিক
- 📌 নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন
- 📌 অনুসন্ধান কার্যক্রমে অংশ নিতে সেনাবাহিনী, সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী এবং জাতীয় পুলিশের ১৩ হাজারের বেশি সদস্যকে মোতায়েন করা হয়েছে
- 📌 দিনজুড়ে পরিচালিত ৬৯টি ফ্লাইটের মাধ্যমে ৫৭৩ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে
📰 বিস্তারিত
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) রাতে স্থানীয় পুলিশের বরাতে বিবিসি জানিয়েছে, দেশটির বিভিন্ন এলাকায় উদ্ধারকারীরা এখন পর্যন্ত ৩৮৯টি মরদেহ উদ্ধার করেছেন। নেপাল ও চীনের তিব্বত জুড়ে অন্তত ৮০০ জন বিদেশিসহ প্রায় ১৫০০ জন নিখোঁজ হয়েছেন। নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্যার পর ৯১০ জন মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন এবং তাদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়নি।
সীমান্তের উভয় পাশেই নিখোঁজদের উল্লেখযোগ্য অংশ বিদেশি পর্যটক। নেপাল জানিয়েছে, নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে ১৭৮ জন ভারতীয়, ১২৭ জন নেপালি, ৬৫ জন আমেরিকান এবং যুক্তরাজ্যের ৩৩ নাগরিক রয়েছেন। এ ছাড়া অনেক সেনা ও পুলিশ সদস্যও নিখোঁজ রয়েছেন। চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম সিসিটিভি বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, তিব্বতের জিরং কাউন্টিতে নিখোঁজের সংখ্যা ৫৫৮ জন, যার মধ্যে ২৬০ জন বিদেশি নাগরিক।
আজ নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ এই আকস্মিক বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি এলাকা পরিদর্শন করেছেন। এর মধ্যে নুয়াকোট জেলার বিদুর ও এর পার্শ্ববর্তী জনপদগুলো রয়েছে। বালেন্দ্র শাহ জানিয়েছেন, অনুসন্ধান কার্যক্রমে অংশ নিতে নেপাল সেনাবাহিনী, সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী এবং জাতীয় পুলিশের ১৩ হাজারের বেশি সদস্যকে মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া দিনজুড়ে পরিচালিত ৬৯টি ফ্লাইটের মাধ্যমে ৫৭৩ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।
"স্যাটেলাইটের ছবিতে দেখা গেছে, প্রায় ৫ হাজার ২০০ মিটার উচ্চতায় একটি হিমবাহের নিচের অংশের বড় একটি খণ্ড ভেঙে পড়ে। প্রায় ১ হাজার ২০০ মিটার নিচে পড়ে যাওয়ার সময় বরফের সঙ্গে বিপুল পরিমাণ পাথর ও পলি যুক্ত হয়। এই বরফ-পাথরের বিশাল ধস তিব্বতের লেন্দে নদীতে গিয়ে পড়ে। নেপাল-চীন সীমান্তের কাছাকাছি নদীটির ওপর ধ্বংসাবশেষ সাময়িকভাবে প্রাকৃতিক বাঁধ তৈরি করে। পরে সেই বাঁধ ভেঙে গেলে আটকে থাকা বিপুল পরিমাণ পানি ও ধ্বংসাবশেষ হঠাৎ করে নিচের দিকে ছুটে যায়। এর ফলেই সৃষ্টি হয় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও কাদার স্রোত।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নেপাল ও চীনের তিব্বত অঞ্চল
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: মৃত্যু ৩৮৯ জন, নিখোঁজ ১৫০০+ জন, সেনাবাহিনী সদস্য ১৩ হাজার
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!