📌 জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে নেপালে ভয়াবহ বন্যা ও হিমবাহ ধসের পর প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ জাতিসংঘে ২ কোটি ডলার সহায়তা চেয়েছেন। তিনি বলেছেন, নেপালের গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ মাত্র ০.১ শতাংশ হলেও দেশটি সংকটের মূল্য বহন করছে
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে নেপালে ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ হিমবাহ ধসের পর প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ জাতিসংঘে আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, নেপালের গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ বিশ্বের মোটের মাত্র ০.১ শতাংশ হলেও দেশটি এই সংকটের মূল্য একা বহন করছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২৫ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ ২ কোটি ডলার সহায়তা চেয়েছেন লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ড থেকে।
- 📌 গত মাসে নেপাল-চীন সীমান্তে হিমবাহ ধসে ১ হাজার ৪০০-এর বেশি মানুষ নিহত এবং ৬ হাজার মানুষ নিখোঁজ।
- 📌 ৫০০ কোটি ডলার অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণের বিপরীতে, ২ কোটি ডলার সহায়তা ‘অত্যন্ত কম’ বলে মনে করা হচ্ছে।
- 📌 জলবায়ু পরিবর্তন হিমালয় পরিবেশব্যবস্থাকে অস্থিতিশীল করে তুলেছে, যার ফলে পারমাফ্রস্ট গলছে এবং হিমবাহ দ্রুত সরে যাচ্ছে।
- 📌 জি-৭ দেশগুলো অনানুষ্ঠানিকভাবে ৩ কোটি ১০ লাখ ডলার সহায়তা দানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
📰 বিস্তারিত
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে ভাষণ দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ বলেন, উষ্ণ হয়ে যাওয়া জলবায়ু হিমালয় পরিবেশব্যবস্থাকে অস্থিতিশীল করে তুলেছে। এতে পারমাফ্রস্ট গলছে এবং হিমবাহ দ্রুত সরে যাচ্ছে, যা প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলেছে। তিনি উল্লেখ করেন, গত মাসের শেষে নেপাল-চীন সীমান্তে হিমবাহ ধসের ফলে সৃষ্ট প্রবল ঢলে দেশটির ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটে। এতে ১ হাজার ৪০০-এর বেশি মানুষ নিহত এবং ৬ হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ ৫০০ কোটি ডলার বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিজ্ঞানীরা এই ঘটনাটিকে ‘সম্মিলিত সংকট’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাদের মতে, স্থানীয় ভূতাত্ত্বিক অস্থিতিশীলতার সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি উষ্ণায়নের সংমিশ্রণ হিমবাহ সরে যাওয়া ও পারমাফ্রস্ট গলার মতো প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্বের মোট গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে নেপালের অবদান মাত্র ০.১ শতাংশেরও কম। আমরা এই সংকট তৈরি করিনি, অথচ এর মূল্য আমাদেরই দিতে হচ্ছে।’
জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে নেপালের প্রয়োজনীয় বিপুল ব্যয়ের একটি অংশ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বহনের আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে তিনি ‘হিমালয়া ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স মেকানিজম’ নামে একটি আঞ্চলিক উদ্যোগ গঠনের প্রস্তাব দেন। এতে নেপাল, ভারত ও চীনকে যুক্ত করে স্যাটেলাইট তথ্য ও বিশেষজ্ঞ মতামত বিনিময়, হিমবাহের হ্রদ পর্যবেক্ষণ এবং যৌথ আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা শক্তিশালী করার কথা বলা হয়েছে।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে নেপালকে বন্যা-পরবর্তী পুনরুদ্ধারে ৩ কোটি ১০ লাখ ডলার সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল এএফপিকে জানিয়েছেন, বুধবারের এক বৈঠকে জি-৭ দেশগুলো অনানুষ্ঠানিকভাবে সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। যুক্তরাজ্যও নেপালকে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে।
"বিশ্বের মোট গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে নেপালের অবদান ০.১ শতাংশেরও কম। আমরা এই সংকট তৈরি করিনি, অথচ এর মূল্য আমাদেরই দিতে হচ্ছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ (নিউ ইয়র্ক), নেপাল-চীন সীমান্ত (হিমবাহ ধসের স্থান)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: বালেন্দ্র শাহ (নেপালের প্রধানমন্ত্রী), শিশির খানাল (নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২ কোটি ডলার (সহায়তা চাওয়া), ১ হাজার ৪০০ (নিহত), ৬ হাজার (নিখোঁজ), ৫০০ কোটি ডলার (ক্ষতি), ০.১ শতাংশ (গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!