📌 নেপালের হোকসে গ্রামে দালালদের মিথ্যা আশ্বাসে কিডনি বিক্রির কারণে 'কিডনি ভ্যালি' নামে পরিচিতি পেয়েছে। দারিদ্র্যের কারণে বহু মানুষ কিডনি বিক্রি করলেও অনেকেই পরে শোষণের শিকার হয়েছেন। সাম্প্রতিক গবেষণা ও অভিযোগে দেখা গেছে, ভারত সীমান্ত দিয়ে কিডনি পাচারের নতুন চক্র সক্রিয়
নেপালের হোকসে গ্রামে দালালদের মিথ্যা আশ্বাসে কিডনি বিক্রির কারণে 'কিডনি ভ্যালি' নামে পরিচিতি পেয়েছে। দারিদ্র্যের চাপে বহু মানুষ কিডনি বিক্রি করলেও তাদের শরীরে দীর্ঘমেয়াদী সমস্যা দেখা দিচ্ছে। দালালরা তাদের বোঝাত, কিডনি বিক্রি করলেও শরীরে কোনো সমস্যা হবে না—কতিপয়কে এমনকি বলা হয়েছিল, কিডনি আবার গজাবে। কিন্তু এই মিথ্যা প্রতিশ্রুতি মানুষের জীবনকে নষ্ট করছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 নেপালের হোকসে গ্রামে দারিদ্র্যের কারণে কিডনি বিক্রির কারণে 'কিডনি ভ্যালি' নামে পরিচিতি পেয়েছে, যেখানে প্রতিটি পরিবারের অন্তত একজন কিডনি বিক্রি করেছেন
- 📌 দালালরা মিথ্যা আশ্বাস দিয়েছেন যে কিডনি বিক্রি করলেও শরীরে কোনো সমস্যা হবে না, এমনকি কিডনি আবার গজাবে বলে দাবি করা হয়েছে
- 📌 কাঞ্চা ও রাম নামে দুই ব্যক্তি কিডনি বিক্রি করার পর অস্ত্রোপচারের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় কাজ করতে পারছেন না, কাঞ্চা এখনো ব্যথায় ভুগছেন
- 📌 নেপাল-ভারত সীমান্ত দিয়ে কিডনি পাচারের নতুন চক্র সক্রিয়, দরিদ্র নেপালিদের চাকরির মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভারতে নিয়ে যাওয়া হয় এবং জোর করে কিডনি অপসারণ করা হয়
- 📌 সিন্ধুলির একজন ব্যক্তি ২০২৫ সালে ভারতে নিয়ে যাওয়া হয় এবং জোর করে কিডনি অপসারণ করা হয়, বিনিময়ে দেওয়া হয় মাত্র ১০ হাজার রুপি
- 📌 নেপালের গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিইএসএলএএম-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল মানুষদের বিদেশে চাকরির মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে অঙ্গ পাচারচক্রে ফাঁসানো হচ্ছে
📰 বিস্তারিত
নেপালের হোকসে গ্রামে দালালদের মিথ্যা আশ্বাসে কিডনি বিক্রির কারণে 'কিডনি ভ্যালি' নামে পরিচিতি পেয়েছে। দারিদ্র্যের চাপে বহু মানুষ কিডনি বিক্রি করলেও তাদের শরীরে দীর্ঘমেয়াদী সমস্যা দেখা দিচ্ছে। দালালরা তাদের বোঝাত, কিডনি বিক্রি করলেও শরীরে কোনো সমস্যা হবে না—কতিপয়কে এমনকি বলা হয়েছিল, কিডনি আবার গজাবে। কিন্তু এই মিথ্যা প্রতিশ্রুতি মানুষের জীবনকে নষ্ট করছে।
কাঞ্চা ও রাম নামে দুই ব্যক্তি আর্থিক সংকটের কারণে কিডনি বিক্রি করেছিলেন। অস্ত্রোপচারের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় কাঞ্চা এখনো ব্যথায় ভুগছেন এবং কাজ করতে পারছেন না। তিনি বলেছেন, ‘কতজন এমন করেছে, তার হিসাব করা অসম্ভব। এই গ্রাম, ওই গ্রাম—সব জায়গাতেই অনেক মানুষ কিডনি বিক্রি করেছে।’
বিষয়টি অবৈধ হওয়া সত্ত্বেও বছরের পর বছর দালালরা হোকসে এলাকায় এসে মানুষকে কিডনি বিক্রিতে রাজি করিয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের কেউ কেউ বলেছেন, তারা প্রতারিত ও শোষণের শিকার হয়েছেন। কারও দাবি, তাদের বলা হয়েছিল কিডনি আবার গজাবে। এসব অস্ত্রোপচারের কারণে কয়েকজনের মৃত্যুও হয়েছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে স্থানীয়রা এই বদনাম থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছেন। কিন্তু নেপালে দারিদ্র্য এখনো কিডনি-সংক্রান্ত নতুন সংকট তৈরি করছে। নেপালের গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিইএসএলএএম-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেপাল-ভারত সীমান্ত দিয়ে কিডনি পাচারের নতুন অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে। বিশেষ করে হোটেলে ভালো বেতনের চাকরির কথা বলে দরিদ্র ও আর্থিকভাবে অসহায় নেপালিদের ভারতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সিন্ধুলির এক ব্যক্তি ২০২৫ সালে এমন একটি চক্রের ফাঁদে পড়েন। তাকে ভারতে নিয়ে যাওয়ার পর প্রায় এক মাস একটি অ্যাপার্টমেন্টে আটকে রাখা হয়। পরে তার কিডনি অপসারণের কথা জানানো হলে তিনি রাজি হননি। কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, তাকে জোর করে একটি ক্লিনিকে নিয়ে অচেতন করে বাম কিডনি অপসারণ করা হয়। ওই ব্যক্তির দাবি, কিডনি অপসারণের বিনিময়ে তাকে ৬ লাখ রুপি দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নেপালে ফেরত পাঠানোর সময় তাকে মাত্র ১০ হাজার রুপি দেওয়া হয়। পরে অসুস্থ হয়ে তিনি পরিবারের কাছে পুরো ঘটনা জানান এবং নেপালের অ্যান্টি-হিউম্যান ট্র্যাফিকিং ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (AHTIB)-তে অভিযোগ করেন।
"কতজন এমন করেছে, তার হিসাব করা অসম্ভব। এই গ্রাম, ওই গ্রাম—সব জায়গাতেই অনেক মানুষ কিডনি বিক্রি করেছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নেপালের হোকসে গ্রাম, নেপাল-ভারত সীমান্ত
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: কাঞ্চা, রাম, সিন্ধুলির ব্যক্তি, নেপালিদের
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬ লাখ রুপি (প্রত্যাশিত), ১০ হাজার রুপি (দেওয়া), ২০২৫ (অভিযোগের বছর)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!