📌 নেপালের বন্যা-পীড়িত এলাকায় ৫০০-এরও বেশি শিশু তাদের মা-বাবা হারিয়ে ফেলেছে। তাদের মধ্যে ২৬ জন শিশু একসাথে আশ্রয় কেন্দ্রে বসবাস করছে। আইনানুযায়ী ১২ বছর পরই একজনকে মৃত ঘোষণা করা যায়, কিন্তু বন্যা-বিষয়ক বিশেষ আইন ছাড়া এই শিশুদের অবস্থা অস্থির
নেপালের বন্যা-পীড়িত এলাকায় ৫০০-এরও বেশি শিশু তাদের মা-বাবা হারিয়ে ফেলেছে এবং তাদের অদৃশ্যতার অন্ধকারে জীবনের অজানা ভবিষ্যতের মুখোমুখি হয়েছে। এই শিশুদের মধ্যে ৯ বছর বয়সী রাম থাকুরের মতো অনেকেরই মা-বাবা বন্যা-বিষণ্ণ নদীতে হারিয়ে গেছে। বন্যা-বিষয়ক আইন অনুযায়ী একজনকে মৃত ঘোষণা করার জন্য ১২ বছর অপেক্ষা করতে হয়, কিন্তু বন্যা-বিষয়ক বিশেষ আইন ছাড়া এই শিশুদের অবস্থা অস্থির।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৫০০-এরও বেশি শিশু নেপালের বন্যা-পীড়িত এলাকায় তাদের মা-বাবা হারিয়ে ফেলেছে, তাদের মধ্যে ২৬ জন শিশু একসাথে আশ্রয় কেন্দ্রে বসবাস করছে।
- 📌 ১,৪০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত এবং ৫,০০০ জনেরও বেশি লোক অদৃশ্য হয়ে গেছে বন্যা-বিষণ্ণ নদীতে।
- 📌 ৯ বছর বয়সী রাম থাকুর তার মা-বাবাকে দেখতে পেলেন না যখন বন্যা শুরু হয়েছিল। তিনি এখনও তাদের খোঁজে আশা করছেন।
- 📌 ৪ বছর বয়সী শিবানি তামা তার মা-বাবা উভয়কেই হারিয়েছেন এবং বর্তমানে তিনি কথা বলেন না।
- 📌 ১,০০০-এরও বেশি শিশু বর্তমানে আশ্রয় কেন্দ্রে বসবাস করছে, যার মধ্যে ১০০ জনেরও বেশি শিশু তাদের কোনো আত্মীয়ের সাথে নেই।
- 📌 ৩২,০০০ শিশু বন্যা থেকে বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং সংস্থাগুলি তাদের পরিবারের সাথে পুনরায় মিলিত করার চেষ্টা করছে।
📰 বিস্তারিত
২৬ আগস্ট নেপালের বন্যা শুরু হওয়ার সময় ৯ বছর বয়সী রাম থাকুর তার মা-বাবার সাথে স্কুলের দিকে যাচ্ছিলেন। বন্যা শুরু হওয়ার সাথে সাথে লোকেরা চিৎকার করল, “ডাউদানু, বাদ্দি” অর্থাৎ “ডাঁড়িয়ে দৌড়াও, বন্যা!” রামের মা তার হাত ধরে তাকে দ্রুত উঁচুতে নিয়ে যান। কিন্তু যখন রাম পেছনে তাকালেন, তিনি দেখলেন তার মা আর তার পিতা আর নেই। বন্যা থেকে বাঁচতে রাম এক দিন এক হিলে ১৩ জনের সাথে আটকে পড়েন। পরে সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার তাদের উদ্ধার করে।
রামের বর্তমান অবস্থান নুওয়াকোট জেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে, যেখানে তিনি ২৬ জন শিশুর সাথে বসবাস করছেন। এই শিশুদের মধ্যে অনেকেরই মা-বাবা নিহত বা অদৃশ্য। বন্যা-বিষয়ক আইন অনুযায়ী একজনকে মৃত ঘোষণা করার জন্য ১২ বছর অপেক্ষা করতে হয়, কিন্তু বন্যা-বিষয়ক বিশেষ আইন ছাড়া এই শিশুদের অবস্থা অস্থির।
রামের মা-বাবা জলচলিত হওয়ার ক্ষমতা ছিল বলে তিনি আশা করছেন তারা তাকে খুঁজে পাবেন। তিনি বলেন, “মুম্মি এবং পাপা জলচলিত হওয়ার ক্ষমতা ছিল, তাই তারা এখনও আমাকে খুঁজে পেতে পারতেন।”
একটি আশ্রয় কেন্দ্রে ৪ বছর বয়সী শিবানি তামা তার মা-বাবা উভয়কেই হারিয়েছেন। তিনি আর কথা বলেন না। শিবানি বর্তমানে তার আশ্রয় কেন্দ্রে অন্য শিশুদের সাথে বসবাস করছেন।
"চিত্তো মাথি হিন্দা, পাচ্ছাদি না-হেরা"
অর্থাৎ, “উঁচুতে দ্রুত চড়, পেছনে তাকাও না” — এই কথাগুলি রামের মা তাকে বলেছিলেন যখন তারা বন্যা থেকে পালাতে শুরু করেছিলেন।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নেপালের ধাদিং, রাসুয়া ও নুওয়াকোট জেলা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: রাম থাকুর, শিবানি তামা, আয়ুশ জোশি, লিওন মুয়োনি
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫০০+ শিশু (মা-বাবা হারানো), ১,৪০০+ নিহত, ৫,০০০+ অদৃশ্য, ৩২,০০০ বাস্তুচ্যুত শিশু
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!