📌 নেপালের ত্রিশূলি নদীর বিধ্বংসী বন্যায় অন্তত ১৮০ জন নিহত ও ১ হাজার ৪০০-এর বেশি নিখোঁজ। তিব্বতের হিমবাহ ফেটে যাওয়ার ফলে সৃষ্ট বন্যায় পুরো জনপদ ভেসে গেছে। সরকারি কর্মকর্তা, পর্যটকসহ বহু মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।
কাঠমান্ডু, নেপাল — নেপালের নুওয়াকোট জেলার ত্রিশূলি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বুধবার স্বাভাবিক স্কুল দিবস চলছিল। এ সময় ১১ শ্রেণির ছাত্র জয় দীপ সাপকোটা শ্রুতিমধুরভাবে শিক্ষকদের চিৎকার শুনতে পান। বিদ্যালয়টি অবস্থিত বিদুর শহরটি ত্রিশূলি নদীর তীরে অবস্থিত। উপরের দিকে নদীটি ভোটেকোশি নামে পরিচিত। জয় দীপ বলেন, "আমাদের শিক্ষকরা আমাদের চলে যেতে চিৎকার করছিলেন। কিছু শিক্ষার্থী একটি পুরোনো ছোট সেতু দিয়ে পার হয়ে নিরাপদ এলাকায় চলে যায়, অন্যরা পাহাড়ে উঠে যায়। অনেক শিক্ষার্থীর তখন আতঙ্কিত হয়ে অজ্ঞান হয়ে যায়। এখনও আমার শরীর কাঁটা দিয়ে উঠছে এবং উদ্বেগ হচ্ছে।"
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 তিব্বতের হিমবাহ ফেটে যাওয়ার ফলে সৃষ্ট বিধ্বংসী বন্যায় নেপাল ও চীনের তিব্বত অঞ্চলে অন্তত ১৮০ জন নিহত ও ১ হাজার ৪০০-এর বেশি নিখোঁজ
- 📌 নেপাল পুলিশের মুখপাত্র অভি নারায়ণ কাফলে জানান, বুধবার রাত পর্যন্ত ৯৫টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে
- 📌 নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের ত্রাণ ও উদ্ধার অভিযানকে শক্তিশালী করা হবে এবং জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানান
- 📌 ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নেপালের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে মানবিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেন
- 📌 ত্রাণ কর্মীরা জানান, পুরো অঞ্চলটি বিধ্বস্ত হয়ে গেছে, যেখানে আগে বাড়িঘর, কৃষিজমি ও বিদ্যুৎ কেন্দ্র ছিল
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশ সময় বুধবার সকাল ৬টার দিকে তিব্বতের হিমবাহ ফেটে যাওয়ার ফলে সৃষ্ট বিধ্বংসী বন্যায় পুরো অঞ্চলটি ভেসে যায়। নেপালের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, ১৯টি যানবাহন সেতু ও ৪৩ কিলোমিটার মহাসড়ক ভেসে গেছে। নেপালের রসুয়া, নুওয়াকোট, ধাদিং, গোর্খা ও চিতওয়ান জেলাগুলোকে উচ্চ সতর্কতায় রাখা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জনগণকে নদীর কাছাকাছি না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।
নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন, "বন্যায় নিখোঁজদের উদ্ধারে অভিযান আরও জোরদার করা হবে। জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে এই সংকট মোকাবিলা করতে হবে। স্থানীয় গোষ্ঠী, ব্যবসায়ী, স্বেচ্ছাসেবক ও দেশবাসীকে সরকারের ত্রাণ ও উদ্ধার অভিযানে সহায়তা করার আহ্বান জানাচ্ছি।" ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি একই দিন প্রধানমন্ত্রী বলেনকে ফোন করে মানবিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেন।
ত্রাণ কর্মী রাজেন্দ্র পৌদেল বলেন, "আজ সকাল পর্যন্ত এখানকার দৃশ্য ছিল অত্যন্ত সুন্দর। এখানে বাড়িঘর, কৃষিজমি ও একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র ছিল। সবকিছু ভেসে গেছে। এটা ভয়াবহ। আমি হতবাক হয়ে গেছি।" স্থানীয় বাসিন্দা লাল বাহাদুর রাই বলেন, বন্যার পানি তার বাড়ির ১০ মিটার কাছে এসে থেমেছিল। তিনি বলেন, "আমার গ্রামের ওপারের অনেক বাড়ি ও একটি বিদ্যালয় ভেসে গেছে। আমার বাড়িটা ভাগ্যক্রমে রক্ষা পেয়েছে। এখানে সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র ছিল, সব ধ্বংস হয়ে গেছে। এখানে বিশাল কফি চাষ হতো, সব শেষ হয়ে গেছে।"
"আমাদের শিক্ষকরা আমাদের চলে যেতে চিৎকার করছিলেন। কিছু শিক্ষার্থী একটি পুরোনো ছোট সেতু দিয়ে পার হয়ে নিরাপদ এলাকায় চলে যায়, অন্যরা পাহাড়ে উঠে যায়। অনেক শিক্ষার্থীর তখন আতঙ্কিত হয়ে অজ্ঞান হয়ে যায়।"
"আজ সকাল পর্যন্ত এখানকার দৃশ্য ছিল অত্যন্ত সুন্দর। এখানে বাড়িঘর, কৃষিজমি ও একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র ছিল। সবকিছু ভেসে গেছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নেপালের নুওয়াকোট জেলা, ত্রিশূলি নদী
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: প্রধানমন্ত্রী বলেন, অভি নারায়ণ কাফলে, রাজেন্দ্র পৌদেল, লাল বাহাদুর রাই
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৮০ জন নিহত, ১ হাজার ৪০০-এর বেশি নিখোঁজ, ৯৫টি মৃতদেহ উদ্ধার, ১৯টি সেতু ধ্বংস, ৪৩ কিলোমিটার মহাসড়ক ক্ষতিগ্রস্ত
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!