📌 হিমালয়ের ধসজনিত বন্যায় নেপাল ও চিনে মৃত্যু প্রায় ছয়শ ছাড়িয়েছে। উদ্ধারকর্মীরা পুনরায় শুরু করেছেন উদ্ধার তৎপরতা। ভূমিকম্প না হয়ে ধসই ছিল কারণ, জানিয়েছে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ।
হিমালয়ের ধসজনিত বিধ্বংসী বন্যায় বিধ্বস্ত নেপাল ও চিন সীমান্ত অঞ্চলে উদ্ধারকর্মীরা পুনরায় শুরু করেছেন উদ্ধার তৎপরতা। নেপালের দুর্যোগ কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, এখন পর্যন্ত নেপালে মৃত্যু হয়েছে অন্তত ৫৭৯ জনের, আর নিখোঁজ রয়েছেন ১ হাজার ৯২৪ জন। অন্যদিকে চিনের তিব্বত অঞ্চলে মৃত্যু হয়েছে অন্তত পাঁচ জনের, আর নিখোঁজ রয়েছেন ৫৫৮ জন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 হিমালয়ের ধসজনিত কারণে সৃষ্ট বিধ্বংসী বন্যায় নেপালে মৃত্যু ৫৭৯ জন, নিখোঁজ ১ হাজার ৯২৪ জন
- 📌 চিনের তিব্বত অঞ্চলে মৃত্যু ৫ জন, নিখোঁজ ৫৫৮ জন
- 📌 ধসের ঘটনা ঘটে বুধবার সকালে, হিমালয়ের প্রায় ৫ হাজার ২০০ মিটার উচ্চতা থেকে প্রায় ১ হাজার ২০০ মিটার নিচে ধসে পড়ে একটি হিমবাহের অংশ
- 📌 ট্রিশুলি নদীর উচ্চতা ৩০ মিনিটে ৯ মিটার বৃদ্ধি পায়
- 📌 মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ জানায়, ভূমিকম্প নয়, ধসই ছিল প্রাথমিক কারণ
📰 বিস্তারিত
বুধবার সকালে হিমালয়ের প্রায় ৫ হাজার ২০০ মিটার উচ্চতা থেকে প্রায় ১ হাজার ২০০ মিটার নিচে ধসে পড়ে একটি হিমবাহের অংশ। ধসে পড়ার সময় পাথর ও ধ্বংসাবশেষ নিয়ে লেন্ডে নদীতে আছড়ে পড়ে। ফলে সৃষ্ট বন্যায় বিধ্বস্ত হয় নেপালের রসুয়া, নুয়াকোট ও ধাদিং জেলা। ট্রিশুলি নদীর উচ্চতা ৩০ মিনিটে ৯ মিটার বৃদ্ধি পাওয়ার ঘটনা ঘটে।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ প্রাথমিকভাবে ভূমিকম্পকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করলেও পরবর্তীতে জানায়, ভূমিকম্প নয়, ধসই ছিল প্রাথমিক কারণ। ধসের ফলে সৃষ্ট নতুন একটি হ্রদ ক্রমশ পানিতে ভরে উঠতে শুরু করায় উদ্ধার তৎপরতা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে হ্রদের ঝুঁকি কম থাকায় পুনরায় উদ্ধার তৎপরতা শুরু করা হয়েছে।
কলোরাডো বোল্ডার বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব আর্কটিক অ্যান্ড আলপাইন রিসার্চের হিমবাহ বিপদ বিশেষজ্ঞ আল্টন বায়ার্স আল জাজিরাকে বলেন, নতুন হ্রদের বাঁধ অত্যন্ত অস্থিতিশীল। এটি মূলত দুই দিন আগে ধসে পড়া আলগা ধ্বংসাবশেষ দিয়ে গঠিত। তিনি বলেন, "এখানে ধরে রাখার মতো তেমন কিছু নেই।" বায়ার্স আরও বলেন, সবচেয়ে নিরাপদ সমাধান হতে পারে প্রাকৃতিকভাবে ধীরে ধীরে হ্রদের পানি নিষ্কাশন হওয়া। তিনি জানান, চিনের কর্মীরা হাতিয়ার ব্যবহার করে হ্রদের পানি নামানোর চেষ্টাও করতে পারেন।
"এখানে ধরে রাখার মতো তেমন কিছু নেই।"
চিনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্যমতে, চিনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং বৃহস্পতিবার জিরং অঞ্চলের দুর্যোগ এলাকা পরিদর্শন করেন। একই দিন চিনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং উদ্ধার তৎপরতা পরিচালনার জন্য কর্মকর্তাদের "বৈজ্ঞানিকভাবে উদ্ধার পরিকল্পনা প্রণয়ন" এবং হিমবাহ হ্রদগুলোর পর্যবেক্ষণ জোরদার করার নির্দেশ দেন।
ভারত, জাতিসংঘ, রেড ক্রস ফেডারেশন, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আন্তর্জাতিক সহায়তা এসে পৌঁছেছে। কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন যে, এখনও কাদা ও ভেঙে যাওয়া সড়কের কারণে বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকা এলাকায় উদ্ধার তৎপরতা চালানো হচ্ছে বলে মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
"কর্মকর্তাদের বৈজ্ঞানিকভাবে উদ্ধার পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে এবং হিমবাহ হ্রদগুলোর পর্যবেক্ষণ জোরদার করতে হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নেপাল ও চিন সীমান্ত অঞ্চল
- 👥 গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি: আল্টন বায়ার্স, প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং, রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং
- 🔢 মৃত্যু: নেপালে ৫৭৯ জন, চিনে ৫ জন
- 🔢 নিখোঁজ: নেপালে ১ হাজার ৯২৪ জন, চিনে ৫৫৮ জন
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!