📌 ব্রাজিলের নাইমা যাজবেক লেবাননে আসার মূল কারণ ছিলো লেবাননীয় সংস্কৃতি ও ভাষা শিখতে এবং বংশানুক্রমের সাথে পরিচিত হওয়া। তিনি লেবাননের বংশানুক্রম পরীক্ষায় ৭০.৯ শতাংশ লেবাননীয় বংশের প্রমাণ পেয়েছেন, যদিও তিনি লেবাননের নাগরিকত্ব পাননি। লেবানন ও ব্রাজিলের মধ্যে এই বংশানুক্রমের গল্প বিশ্বের এক অনন্য অভিজ্ঞতা হয়ে দাঁড়িয়েছে
লেবাননের রাজধানী বেইরুতে একটি ক্লাবে নাচের মঞ্চে দাঁড়িয়ে নাইমা যাজবেক (৫৫) ‘আলফ লাইলা ওয়া লাইলা’ গানের সাথে নাচে মেতে যাচ্ছেন। তার সাদা রেশমি চাদর ঘোরে যাচ্ছে, এবং দর্শকরা তার নাচের প্রতি মুগ্ধ হয়ে উঠেছেন। এই নাচের মধ্য দিয়ে তিনি লেবাননের সংস্কৃতি ও বংশানুক্রমের সাথে নিজের সম্পর্ক আবিষ্কার করেছেন। বেইরুতের হামরা এলাকার কাফে ইউনেসের বাইরে বসে তিনি বলেছেন, ‘বেল্লি ড্যান্সার এবং গায়ক হিসেবে আমি এখানে আসতে চেয়েছিলাম, লেবাননীয় ভাষা, সংস্কৃতি শিখতে এবং আমার পরিবারের জন্মভূমির সাথে পরিচিত হওয়ার জন্য।’
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **ব্রাজিলের নাইমা যাজবেক** লেবাননে আসার মূল উদ্দেশ্য ছিল লেবাননীয় সংস্কৃতি, ভাষা শিখতে এবং বংশানুক্রমের সাথে পরিচিত হওয়া।
- 📌 **২৩এন্ডমি বংশানুক্রম পরীক্ষায়** তিনি ৭০.৯ শতাংশ লেবাননীয় বংশের প্রমাণ পেয়েছেন, কিন্তু লেবাননের নাগরিকত্ব পাননি।
- 📌 **১৯শ শতাব্দীতে** লেবাননের অর্থনৈতিক সংকটের কারণে লক্ষ লক্ষ লেবাননীয় ব্রাজিলে অভিবাসিত হন।
- 📌 **১০ মিলিয়ন** লেবাননীয় বংশোদ্ভূত ব্যক্তি বর্তমানে ব্রাজিলে বসবাস করেন।
- 📌 **লেবাননের নাগরিকত্ব আইনে** পিতার বংশধরদেরকে নাগরিকত্ব দেওয়া হয়, কিন্তু মায়ের বংশধরদেরকে নয়।
- 📌 **নাইমা** লেবাননে আসার পর থেকে নিজের মধ্যে একটি ‘অজানা শক্তি’ অনুভব করেন, যা তিনি ‘ধর্মীয়, কার্মা বা মিশন’ বলে বর্ণনা করেছেন।
📰 বিস্তারিত
নাইমা যাজবেকের লেবানন সম্পর্কের গল্প শুরু হয়েছিলো তার জন্মের অনেক আগে। তার লেবাননীয় খ্রিস্টান পূর্বপুরুষরা ১৯শ শতাব্দীতে তৎকালীন উসমানীয় শাসিত গ্রেটার সিরিয়ায় থেকে ব্রাজিলে অভিবাসিত হন। অর্থনৈতিক সংকট, বিশেষ করে লেবাননের সিল্ক অর্থনীতির পতনের কারণে এই অভিবাসন ঘটে। ব্রাজিলে তারা নতুন জীবন শুরু করেন এবং লেবাননীয় বংশোদ্ভূত পরিবার গড়ে তোলেন।
নাইমা বলেন, ‘আমার পরিবার ব্রাজিলে বসবাস করতেন এবং প্রায়শই লেবাননীয় বংশোদ্ভূতদের মধ্যে বিবাহ হয়তো। কিন্তু লেবাননের প্রতি আমার সম্পর্ক কখনোই হারিয়ে যায়নি।’ তার দাদা ১৯২৮ সালে তার দাদীকে লেবাননে নিয়ে যান, কিন্তু মাত্র কয়েক মাস পরে ফিরে আসেন। তিনি লেবাননকে সেই দেশ হিসেবে দেখেন যা তিনি মনে করতেন না।
৮০ বছর পরে, নাইমা নিজেই লেবাননে আসেন এবং তার পূর্বপুরুষদের মতোই একই ভুল করেননি। তিনি লেবাননে আসার পর থেকে নিজের মধ্যে একটি অজানা শক্তি অনুভব করেন। তিনি বলেন, ‘লেবাননে আসার মুহুর্ত থেকে আমি কিছু অনুভব করি, যা আমি ব্যাখ্যা করতে পারি না — এটি ধর্মীয়, কার্মা বা মিশন মতো কিছু।’
লেবাননের নাগরিকত্ব আইন তাকে নাগরিকত্ব পেতে বাধা দেয়। লেবাননের নাগরিকত্ব পেতে শুধুমাত্র পিতার বংশধরদেরকে নাগরিকত্ব দেওয়া হয়, কিন্তু মায়ের বংশধরদেরকে নয়। নাইমা তার মা ও দাদীর বংশধর হওয়ায় লেবাননের নাগরিকত্ব পাননি। তিনি বলেন, ‘লেবানন আমার বংশানুক্রমের অংশ, কিন্তু আইনগতভাবে আমি বিদেশী।’
"আমি এখানে আসতে চেয়েছিলাম, লেবাননীয় ভাষা, সংস্কৃতি শিখতে এবং আমার পরিবারের জন্মভূমির সাথে পরিচিত হওয়ার জন্য।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বেইরুত (লেবানন), সাও পাওলো (ব্রাজিল), হামরা এলাকা (বেইরুত)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: নাইমা যাজবেক (৫৫), তার পূর্বপুরুষ ও পরিবার
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭০.৯ শতাংশ (বংশানুক্রম পরীক্ষা), ১০ মিলিয়ন (ব্রাজিলে লেবাননীয় বংশোদ্ভূত), ১৯শ শতাব্দী (অভিবাসনের শুরু)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!