📌 জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ভারতের গণতান্ত্রিক আন্দোলনকারীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তিনি নির্বাচনী জবাবদিহি ও মৌলিক স্বাধীনতার দাবিতে আন্দোলনকারীদের সমর্থন জানিয়ে বলেছেন, বাংলাদেশের ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের অভিজ্ঞতা থেকে তারা এই সংগ্রামের সাথে গভীরভাবে সংযুক্ত
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ভারতের আন্দোলনরত তরুণদের প্রতি সক্রিয় সমর্থন জানিয়েছেন। তিনি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের আটক, ইন্টারনেট বন্ধ এবং প্রতিবাদ কর্মসূচিতে বিধিনিষেধের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার লড়াই দক্ষিণ এশিয়ার তরুণদের একত্রিত সংগ্রাম। শনিবার (১০ অক্টোবর) তার বিবৃতিতে তিনি বলেন, “নির্বাচনী জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার দাবিতে আন্দোলনরত ভারতের তরুণদের সঙ্গে আমরা দৃঢ় সংহতি প্রকাশ করছি। নয়াদিল্লিতে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারী, সংগঠক ও সাংবাদিকদের সাম্প্রতিক আটক, ইন্টারনেট বন্ধ এবং যন্ত্র মন্তরে বিধিনিষেধ মৌলিক স্বাধীনতার জন্য সরাসরি হুমকি।”
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **১০ অক্টোবর** তারিখে জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ভারতের গণতান্ত্রিক আন্দোলনকারীদের পাশে দাঁড়িয়ে বিবৃতি দেন
- 📌 **২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান**ের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি বলেন, “আমরা এই লড়াইকে গভীরভাবে বুঝি, কারণ আমরাও এর মধ্য দিয়ে গিয়েছি”
- 📌 **১ হাজার ৪০০ জনেরও বেশি** নিহত হওয়ার সম্ভাবনা ছিল বাংলাদেশের গণঅভ্যুত্থানে, যা জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী
- 📌 **শাহিনবাগের নারীরা** ও **জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা** ভারতের গণতান্ত্রিক প্রতিরোধের ঐতিহ্যকে প্রশংসা করে নাহিদ ইসলাম
- 📌 **হিন্দুত্ববাদী সংখ্যাগরিষ্ঠতাবাদ** ও **ধর্মীয় আধিপত্যবাদ**ের বিরোধিতা করে তিনি বলেন, “কোনো সমাজই প্রকৃত গণতান্ত্রিক হতে পারে না যদি সংখ্যালঘুরা ভয়ের মধ্যে থাকে”
- 📌 **শারজিল ইমাম ও উমর খালিদ** সহ ভারতের কারাবন্দি তরুণদের তিনি সহযোদ্ধা হিসেবে দেখেন
- 📌 **সীমান্তে হত্যাকাণ্ড, পানিবণ্টন ও জাতীয় সার্বভৌমত্ব** বিষয়গুলো বাংলাদেশ-ভারতের অভিন্ন স্বার্থের সঙ্গে যুক্ত বলে উল্লেখ করেন
📰 বিস্তারিত
নাহিদ ইসলামের বিবৃতিতে বাংলাদেশের ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের তুলনা করা হয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা এই লড়াইকে গভীরভাবে বুঝি, কারণ আমরাও এর মধ্য দিয়ে গিয়েছি। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ১৫ বছরের স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। রাষ্ট্রের জবাবে প্রাণঘাতী গুলি ব্যবহার করা হয়। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, ওই অভ্যুত্থান ও তা দমনের ঘটনায় ১ হাজার ৪০০ জন পর্যন্ত নিহত হয়ে থাকতে পারেন।” তিনি ভারতীয় শিক্ষার্থী, লেখক ও স্বাধীন কণ্ঠের মানুষদের সংহতি স্মরণ করে বলেন, “তাদের সহায়তা আমাদের আন্দোলনে অনুপ্রেরণা দিয়েছিল।”
নাহিদ ইসলাম ভারতের গণতান্ত্রিক প্রতিরোধের ঐতিহ্য প্রশংসা করে বলেন, “দিল্লির শীত উপেক্ষা করে শাহিনবাগের নারীরা সমান নাগরিকত্বের পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন। জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদের ধারা ধরে রেখেছেন। বাংলাদেশেও জুলাই বিপ্লবে নারীরা সামনের সারিতে ছিলেন। তাদের সাহস ও আত্মত্যাগ আমাদের বিজয় অর্জনে সহায়তা করেছে।”
বিবৃতিতে তিনি হিন্দুত্ববাদী সংখ্যাগরিষ্ঠতাবাদ, ফ্যাসিবাদ ও ধর্মীয় আধিপত্যবাদের বিরোধিতা করে বলেন, “ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ কিংবা শ্রেণি নির্বিশেষে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সামাজিক ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে আমাদের অভিন্ন ভবিষ্যৎ গড়ে উঠতে হবে। সংখ্যালঘুরা ভয়ের মধ্যে থাকলে, ভিন্নমতকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হলে এবং পরিচয়ের ভিত্তিতে নাগরিকত্ব নির্ধারিত হলে কোনো সমাজই প্রকৃত গণতান্ত্রিক হতে পারে না।”
ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। আটক আন্দোলন সংগঠকদের অবস্থান ও আটকের আইনি ভিত্তি জানাতে হবে। অধিকার চর্চার কারণে আটক ব্যক্তিদের অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে এবং সাংবাদিকদের ভয়ভীতি ছাড়াই সংবাদ সংগ্রহের সুযোগ দিতে হবে।” তিনি আরও বলেন, “আজ অনেক তরুণ নেতাকে অন্যায়ভাবে আটক করা হয়েছে। শারজিল ইমাম ও উমর খালিদ বছরের পর বছর বিচার ছাড়াই কারাগারে রয়েছেন। আমরা তাদের সহযোদ্ধা হিসেবে দেখি।”
"নির্বাচনী জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার দাবিতে আন্দোলনরত ভারতের তরুণদের সঙ্গে আমরা দৃঢ় সংহতি প্রকাশ করছি। নয়াদিল্লিতে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারী, সংগঠক ও সাংবাদিকদের সাম্প্রতিক আটক, ইন্টারনেট বন্ধ এবং যন্ত্র মন্তরে বিধিনিষেধ মৌলিক স্বাধীনতার জন্য সরাসরি হুমকি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা (বাংলাদেশ), নয়াদিল্লি (ভারত)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: নাহিদ ইসলাম (এনসিপি আহ্বায়ক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০ অক্টোবর (তারিখ), ১৫ বছর (স্বৈরাচারী শাসন), ১ হাজার ৪০০ জন (নিহতের সম্ভাব্য সংখ্যা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!