📌 ১৯৪৫ সালের পারমাণবিক বোমা হামলা থেকে বেঁচে গেলেন জুনকো ওয়াকিয়ামা। বর্তমানে ৮৯ বছর বয়সী তিনি নাগাসাকিতে খাদ্য অপচয় রোধ ও ঐতিহ্যবাহী রান্না শেখান। যুদ্ধের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি শেখান যে, সদিচ্ছা ও সৃজনশীলতা দিয়ে খাবারকে পুষ্টিকর ও সুস্বাদু করা যায়
১৯৪৫ সালের ৯ আগস্টের সেই তপ্ত দুপুরে নাগাসাকির একটি বাড়ির দোতলায় দাঁড়িয়ে ছিল ৯ বছর বয়সী জুনকো ওয়াকিয়ামা। মার্কিন পারমাণবিক বোমা হামলার ধ্বংসলীলা থেকে তিনি অল্পের জন্য বেঁচে গিয়েছিলেন। বর্তমানে ৮৯ বছর বয়সী এই রন্ধনশিল্পী ও খাদ্যবিশেষজ্ঞ আজও যুদ্ধের সেই কালো দিনগুলোকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন এবং খাদ্য অপচয় রোধে সচেতনতা ছড়িয়ে দিচ্ছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১৯৪৫ সালের ৯ আগস্ট নাগাসাকিতে পারমাণবিক বোমা হামলায় ৩.৩ কিলোমিটার দূরে থাকায় বেঁচে গেলেন জুনকো ওয়াকিয়ামা, যিনি বর্তমানে ৮৯ বছর বয়সী
- 📌 যুদ্ধের পর চরম খাদ্যসংকটে মা তোশিকো বুনো শাকসবজি ও শুকনা মাছ দিয়ে সন্তানদের পুষ্টিকর খাবার তৈরি করতেন
- 📌 জুনকো নাগাসাকি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক থিসিসে মায়ের রান্নায় ব্যবহৃত শুকনা সার্ডিনের অ্যামিনো অ্যাসিড বিশ্লেষণ করেন
- 📌 আজ তিনি নাগাসাকিতে ঐতিহ্যবাহী রান্নার কর্মশালা পরিচালনা করেন এবং খাদ্য অপচয় রোধের শিক্ষা দেন
- 📌 মা তোশিকো বলতেন, ‘পাথর ছাড়া বাকি সবকিছু খাওয়া যায়’ — এই শিক্ষা জুনকোকে অনুপ্রাণিত করেছিল
📰 বিস্তারিত
জুনকো ওয়াকিয়ামার জন্ম ও বেড়ে ওঠা হয়েছিল জাপানের নাগাসাকি শহরে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ দিকে, ১৯৪৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে তার বাবা যক্ষ্মায় মারা যান। মাত্র ৪২ বছর বয়সে বাবার মৃত্যুর পর মা তোশিকো পাঁচ সন্তানের একা দায়িত্ব নেন। তিনি ছিলেন স্থানীয় একটি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের গার্হস্থ্য বিজ্ঞানের শিক্ষিকা। কিন্তু যুদ্ধের পরিস্থিতি আরো খারাপ হয়ে পড়লে নাগাসাকিতে নেমে আসে পারমাণবিক বোমার নারকীয় বিপর্যয়। হাইপোসেন্টার থেকে ৩.৩ কিলোমিটার দূরে থাকায় জুনকো বেঁচে গেলেন, কিন্তু তাঁর স্কুলের উরাকামি এলাকার অর্ধেক সহপাঠী আর বাড়ি ফিরেননি। বোমা হামলায় তাঁর প্রাথমিক বিদ্যালয় ছাই হয়ে যায়।
যুদ্ধের পর শুরু হলো চরম খাদ্যসংকট। শিশুদের শরীর শীর্ণকায় হয়ে পড়েছিল। স্কুলের রিপোর্ট কার্ডে সবার স্বাস্থ্যবিষয়ক মন্তব্যের ঘরে লেখা থাকত ‘অপুষ্টি’। কিন্তু মা তোশিকো হার মানেননি। তিনি সন্তানদের বাঁচিয়ে রাখতে প্রতিদিনের যুদ্ধ শুরু করেন খাবারের খোঁজে। জুনকো আর তাঁর ভাইবোনেরা বাইরে থেকে যা খাওয়ার উপযোগী বুনো গাছপালা পেতেন, কুড়িয়ে আনতেন। মা সেই বুনো শাকসবজি দিয়ে সুস্বাদু সুইতন ডাম্পলিং সুপ, সাগোর পেস্ট দিয়ে জিয়াওজি ডাম্পলিং এবং আলুর হালকা ঝোল তৈরি করতেন। মিছো সুপ বানানোর পর কড়াইয়ে পড়ে থাকা সেদ্ধ শুকনা চ্যাপা বা সার্ডিন মাছগুলোও ফেলে দেওয়া হতো না। মায়ের এই অমূল্য শিক্ষা জুনকোর মনে গভীর ছাপ ফেলেছিল।
জুনকো বুঝেছিলেন, একটু সদিচ্ছা ও সৃজনশীলতা থাকলে যেকোনো সাধারণ খাবারই সুস্বাদু ও পুষ্টিকর করা সম্ভব। মায়ের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি নাগাসাকি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হোম ইকোনমিকস বিষয়ে স্নাতক হন। স্নাতক থিসিসে তিনি মায়ের রান্নায় ব্যবহৃত শুকনা সার্ডিন মাছের অ্যামিনো অ্যাসিডের পরিমাণগত বিশ্লেষণ করেন। জীবনের দীর্ঘ সময় ধরে তিনি বিভিন্ন হাইস্কুল ও কলেজে পুষ্টিবিজ্ঞান বিষয়ে অধ্যাপনা করেন।
আজ ৮৯ বছর বয়সে পৌঁছেও জুনকো ওয়াকিয়ামা সেই সংগ্রামের দিনগুলো ভুলে যাননি। তিনি নাগাসাকির ঐতিহ্যবাহী রান্নার কর্মশালা পরিচালনা করেন। নবীনদের শেখান উরাকামি সোবোরো তৈরি করতে, যেখানে শূকরের মাংস, গাজর আর বরবটি দিয়ে এক চমৎকার মিষ্টি ও ঝাল স্বাদের তরকারি তৈরি করা হয়। তিনি আজকের তরুণ প্রজন্মকে শেখান খাদ্য অপচয় না করার মন্ত্র। মায়ের স্মৃতি মনে করে বলেন, ‘মূল-জাতীয় সবজির খোসা ফেলবে না, তাও খাওয়া যায়। চিংড়ির শক্ত খোসা বা বাঁধাকপির ভেতরের শক্ত অংশটুকুও ফেলে দেওয়ার মতো নয়।’
"মূল-জাতীয় সবজির খোসা ফেলবে না, তাও খাওয়া যায়। চিংড়ির শক্ত খোসা বা বাঁধাকপির ভেতরের শক্ত অংশটুকুও ফেলে দেওয়ার মতো নয়।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নাগাসাকি, জাপান
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: জুনকো ওয়াকিয়ামা (৮৯ বছর), মা তোশিকো
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৯ বছর (জুনকোর বয়স বোমা হামলার সময়), ৮৯ বছর (বর্তমান বয়স), ৩.৩ কিলোমিটার (বোমা হামলা থেকে দূরত্ব), ৪২ বছর (বাবার বয়স মৃত্যুর সময়)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!