📌 মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের কিয়াউকতাও শহরের একটি বাজারে সেনাবাহিনীর বিমান হামলায় অন্তত ৫০ জন নিহত ও ৫৮ জন আহত হয়েছেন। জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনার ফলকার টুর্ক এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের লঙ্ঘনের সতর্কবার্তা দিয়েছেন। টুর্ক বলেছেন, মিয়ানমারে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও সহিংসতা অব্যাহত থাকায় শরণার্থীদের ফেরত পাঠানোর কোনো বিকল্প নেই না
মিয়ানমারের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্যের কিয়াউকতাও শহরের একটি বাজারে সেনাবাহিনীর বিমান হামলায় গত সোমবার দুপুরে অন্তত ৫০ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত ও ৫৮ জন আহত হয়েছেন। এই প্রাণঘাতী হামলায় নারী ও শিশুসহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের জীবন হারিয়েছে। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার টুর্ক এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের লঙ্ঘনের বিষয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের কিয়াউকতাও শহরের বাজারে সেনাবাহিনীর বিমান হামলায় ৫০ জন নিহত ও ৫৮ জন আহত
- 📌 হামলার সময় বাজারে ২০০টিরও বেশি দোকান খোলা ছিল এবং বিপুলসংখ্যক বেসামরিক নাগরিক উপস্থিত ছিলেন
- 📌 নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুসহ রোহিঙ্গা, রাখাইন, হিন্দু ও দেইংনেটসহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ অন্তর্ভুক্ত
- 📌 জাতিসংঘের হাইকমিশনার ফলকার টুর্ক বলেছেন, এই হামলা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের লঙ্ঘন এবং যুদ্ধের ক্ষেত্রে লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণের নীতির বিরুদ্ধে
- 📌 টুর্ক মিয়ানমারে মানবাধিকার লঙ্ঘনের তীব্রতা উল্লেখ করে বলেছেন, শরণার্থীদের ফেরত পাঠানোর কোনো বিকল্প নেই না
- 📌 মালয়েশিয়া মিয়ানমারের প্রায় পাঁচ হাজার নাগরিক ফেরত পাঠানোর পরিকল্পনা বাতিলের আহ্বান জানিয়েছেন টুর্ক
📰 বিস্তারিত
গত সোমবার দুপুরে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের কিয়াউকতাও শহরের একটি বাজারে সেনাবাহিনীর বিমান হামলায় বেসামরিক নাগরিকদের জীবন হারানো ঘটনা ঘটেছে। এই হামলায় নিহতদের সংখ্যা ৫০ এবং আহতদের সংখ্যা ৫৮। হামলার সময় বাজারে ২০০টিরও বেশি দোকান খোলা ছিল এবং বাজার ও এর আশপাশে বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুসহ রোহিঙ্গা, রাখাইন, হিন্দু ও দেইংনেটসহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ অন্তর্ভুক্ত।
জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার টুর্ক এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, ‘সর্বশেষ এই হামলা যুদ্ধের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনে চলার বিষয়টি নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ তৈরি করেছে।’ তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের আওতায় যুদ্ধে জড়িত পক্ষগুলোকে অবশ্যই হামলার ক্ষেত্রে লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ, আনুপাতিকতা এবং সতর্কতা অবলম্বনের নীতি মেনে চলতে হবে।’
টুর্ক আরও বলেছেন, ‘এই হামলাগুলো দেশজুড়ে বেসামরিক মানুষের ভয়াবহ দুর্দশার চিত্র তুলে ধরছে। তবে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মানুষের পরিস্থিতি অন্য যেকোনো এলাকার চেয়ে বেশি ভয়াবহ।’ তিনি মিয়ানমারে চলমান মানবাধিকার লঙ্ঘনের তীব্রতা উল্লেখ করে বলেছেন, ‘বেশ কয়েক বছর ধরেই মিয়ানমার চরম সহিংসতার শিকার। দেশটির জনগণ ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘন ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছে।’
"সর্বশেষ এই হামলা যুদ্ধের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনে চলার বিষয়টি নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ তৈরি করেছে। আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের আওতায় যুদ্ধে জড়িত পক্ষগুলোকে অবশ্যই হামলার ক্ষেত্রে লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ, আনুপাতিকতা এবং সতর্কতা অবলম্বনের নীতি মেনে চলতে হবে।"
মিয়ানমারে চলমান সহিংসতার কারণে মালয়েশিয়া মিয়ানমারের প্রায় পাঁচ হাজার নাগরিক ফেরত পাঠানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই এই হামলা ঘটেছে। ফলকার টুর্ক মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষকে এই পরিকল্পনা অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন ও নির্যাতনে জর্জর একটি দেশে কাউকে জোর করে ফেরত পাঠানোর সময় এখন নয়। কারণ, মিয়ানমারে ফিরে গেলে অনেকেই আবারও একই ধরনের সহিংসতার শিকার হওয়ার বাস্তব ঝুঁকিতে পড়বেন।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কিয়াউকতাও শহর, রাখাইন রাজ্য, মিয়ানমার
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ফলকার টুর্ক (জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনার)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫০ জন নিহত, ৫৮ জন আহত, ২০০টি দোকান
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!