📌 মুম্বাই পুলিশ গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোইকে কারাগার থেকে বের করে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারছে না। কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশে গুজরাটের কারাগার থেকে তাকে সরানো যাচ্ছে না। বিষ্ণোইয়ের গ্যাংয়ের সাথে টাইগার শ্রফের গাড়িতে গুলি চালানোর ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে
মুম্বাই পুলিশ গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোইকে কারাগার থেকে সরিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারছে না। গত তিন বছরে বিষ্ণোইয়ের গ্যাংয়ের সাথে চারটি বড় অপরাধের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠলেও কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশে গুজরাটের কারাগার থেকে তাকে বের করা যাচ্ছে না। বিষ্ণোইয়ের গ্যাংয়ের সাথে টাইগার শ্রফের গাড়িতে গুলি চালানোর ঘটনায় পুলিশের তদন্তে বাধা সৃষ্টি করছে এই সুরক্ষা ব্যবস্থা।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 গুজরাটের কারাগার থেকে গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোইকে মুম্বাই পুলিশ সরিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারছে না।
- 📌 কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশে ফৌজদারি কার্যবিধির ২৬৮ ও ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ৩০৩ ধারা অনুযায়ী বিষ্ণোইকে কারাগার থেকে সরানো যাচ্ছে না।
- 📌 গত ১৮ অক্টোবর টাইগার শ্রফের গাড়িতে গুলি চালানোর ঘটনায় বিষ্ণোইয়ের গ্যাং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দায় স্বীকার করেছে।
- 📌 গত ১৯ অক্টোবর রাজস্থানের কোটা রেলস্টেশন থেকে তিন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
- 📌 বিষ্ণোইয়ের সহযোগী অনিল পণ্ডিতের সঙ্গে হামলাকারীদের যোগাযোগের অভিযোগ রয়েছে।
- 📌 সালমান খানের সঙ্গে বিষ্ণোইয়ের ঘনিষ্ঠতার কারণে তাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে দাবি করেছে গ্যাংটি।
📰 বিস্তারিত
গত ২১ অক্টোবর এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ২০২৩ সালের আগস্টে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের মন্ত্রণালয় বিষ্ণোইকে কারাগার থেকে সরানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। পরবর্তীতে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (বিএনএসএস) ৩০৩ ধারায়ও এই সুরক্ষা বহাল রাখা হয়। সরকারের যুক্তি, বিষ্ণোইকে স্থানান্তরের সময় জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার এবং সহিংসতার ঝুঁকি থাকার কারণে তাকে সরানো যাচ্ছে না। এই নির্দেশের ফলে আদালতের প্রচলিত প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট বা অন্য সংস্থার হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন কার্যকর করা যাচ্ছে না।
সংশ্লিষ্ট আদালতের অনুমতি নিয়ে ভিডিও মাধ্যমে অথবা কারাগারের ভেতরে গিয়ে বিষ্ণোইকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে তদন্তকারী সংস্থাগুলো। ভারতে প্রভাবশালী অপরাধীদের ক্ষেত্রে এমন ব্যবস্থা নতুন নয়। ২০১৫ সালে ইন্দোনেশিয়া থেকে গ্রেপ্তার করে দেশে ফেরত আনার পর আন্ডারওয়ার্ল্ড ডন ছোটা রাজনকেও একই ধরনের সুরক্ষা দেওয়া হয়েছিল। তাকে দিল্লির তিহার কারাগারে রাখা হয়। রাজনের দাবি ছিল, মুম্বাই পুলিশের কিছু কর্মকর্তা তার প্রতিদ্বন্দ্বী দাউদ ইব্রাহিমের পক্ষে কাজ করতেন এবং মুম্বাইয়ে তার জীবন বিপন্ন হতে পারে। বিষ্ণোইয়ের ছোট ভাই আনমোলও যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরত আসার পর তিহার কারাগারে একই ধরনের সুরক্ষা পেয়েছেন।
২০২৪ সালের এপ্রিলে সালমান খানের বান্দ্রার বাসভবন গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্টের বাইরে গুলিবর্ষণের ঘটনায় বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সদস্যদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠে। একই বছরের অক্টোবরে এনসিপি নেতা বাবা সিদ্দিকি হত্যাকাণ্ডেও বিষ্ণোইকে অভিযুক্ত করে পুলিশ। পরে চলচ্চিত্র নির্মাতা রোহিত শেঠির কাছেও চাঁদাবাজির হুমকি দেয় তার গ্যাং।
"গ্যাংটি সালমান খানের সঙ্গে বিষ্ণোইয়ের ঘনিষ্ঠতার কারণে তাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। কৃষ্ণসার হরিণ শিকার মামলায় সালমানের কথিত সংশ্লিষ্টতা নিয়ে বিষ্ণোই সম্প্রদায়ের কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবিও জানিয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মুম্বাই, গুজরাটের আহমেদাবাদ, রাজস্থানের কোটা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: লরেন্স বিষ্ণোই, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, টাইগার শ্রফ, সালমান খান, বাবা সিদ্দিকি, অনিল পণ্ডিত
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৬৮ (ফৌজদারি কার্যবিধি ধারা), ৩০৩ (বিএনএসএস ধারা), ১৮ (অক্টোবর), ১৯ (অক্টোবর), ২০২৩ (আগস্ট), ২০২৪ (এপ্রিল ও অক্টোবর)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!