📌 আমনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মরক্কোর গোয়েন্দা সংস্থা পেগাসাস স্পাইওয়্যার, গোপন মাইক্রোফোন ও প্রি-ইনফেক্টেড ফোন ব্যবহার করে সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীদের নিরাপত্তা লঙ্ঘন করে। ১০৩টি ফোন নম্বর বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এর মধ্যে ৬৫টি সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীদের ছিল
মরক্কোর গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিটাল সার্ভিল্যান্সের অত্যাধুনিক ও ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতির সমন্বয়ে সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীদের নিরাপত্তা লঙ্ঘন করে তাদেরকে ‘দমন’ করার চেষ্টা করছে। আমনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের একটি বিস্তৃত প্রতিবেদনে এই দাবি উঠে এসেছে, যেখানে গোয়েন্দা সংস্থার এক প্রাক্তন কর্মচারী, লিক করা ডকুমেন্ট এবং সাংবাদিকতাবিদদের তদন্তের ভিত্তিতে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়েছে ১ অক্টোবর, ২০২৬ তারিখে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মরক্কোর গোয়েন্দা সংস্থা (ডিজিএসটি) ২০১৭ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত পেগাসাস স্পাইওয়্যার ব্যবহার করে সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীদের নিরাপত্তা লঙ্ঘন করেছে।
- 📌 ১০৩টি মরক্কোভিত্তিক ফোন নম্বর বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এর মধ্যে ৬৫টি সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীদের ছিল, যার মধ্যে ৩৪ জন মানবাধিকারকর্মী ও ২২ জন সাংবাদিক।
- 📌 গোয়েন্দা সংস্থা গোপন মাইক্রোফোন, প্রি-ইনফেক্টেড ফোন, ইন্টারনেট ক্যাফে ও বিমানবন্দরে ইনফেক্টেড ডিভাইস ব্যবহার করে তথ্য সংগ্রহ করত।
- 📌 সাংবাদিক ওমান রাদির বাসায় লাইট ফিক্সচার থেকে গোপন মাইক্রোফোন স্থাপন করা হয়েছিল, যিনি পরে কারাবরণ করছেন।
- 📌 আমনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের সিকিউরিটি ল্যাবের প্রধান ডনচা ও কেরবহিল বলেছেন, ‘মরক্কোর পেগাসাস সিস্টেমে প্রথমে প্রবেশ করা ফোন নম্বরগুলোর মধ্যে ছিল মানবাধিকারকর্মী ও সাংবাদিকদের’।
- 📌 মরক্কো সরকারের মালিকানাধীন মরোক টেলিকম নেটওয়ার্কের মাধ্যমে স্পাইওয়্যার প্রেরণ করা হয়েছে।
- 📌 আমনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের সেক্রেটারি জেনারেল অগনেস ক্যালামার্ড বলেছেন, ‘মরক্কো সম্পূর্ণরূপে টেকনো-অথোরিটেরিয়ান পদ্ধতি গ্রহণ করেছে’।
📰 বিস্তারিত
আমনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের ‘মরক্কোর সার্ভিল্যান্স মেশিন ইনসাইড’ শিরোনামের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মরক্কোর গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএসটি (ডোমেস্টিক সিকিউরিটি টিম) ‘অনিয়মিত সার্ভিল্যান্স’ চালিয়ে যাচ্ছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গোয়েন্দা সংস্থা ‘অত্যাধুনিক সরঞ্জাম’ যেমন পেগাসাস স্পাইওয়্যার এবং ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতি যেমন ট্রেইলিং, ওয়াইরট্যাপিং ব্যবহার করে সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীদের নিরাপত্তা লঙ্ঘন করছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘লোকেরা গোপনে কারাগারে, তাদের নিজস্ব অফিসে, গাড়িতে এবং এমনকি নিজেদের ঘরে ভিডিও ও অডিও রেকর্ড করা হয়। ফোন কলগুলো সিস্টেমেটিকভাবে রেকর্ড এবং স্পাই করা হয়।’ এছাড়াও, ‘শপ থেকে ডিজিএসটি এজেন্টদের দ্বারা প্রি-ইনফেক্টেড মোবাইল ফোন বিক্রি করা হয়’।
গোয়েন্দা সংস্থা ইন্টারনেট ক্যাফে এবং বিমানবন্দরে ইনফেক্টেড ডিভাইস ব্যবহার করে তথ্য সংগ্রহ করত। এছাড়াও, সাংবাদিক ওমান রাদির বাসায় লাইট ফিক্সচার থেকে গোপন মাইক্রোফোন স্থাপন করা হয়েছিল।
আমনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মরক্কো সরকারের নিরাপত্তা সংস্থা মানবাধিকারকর্মীদের বিরুদ্ধে জনপ্রিয় প্রচারাভিযান চালায়। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মরক্কো সরকারের নিরাপত্তা সংস্থা পেগাসাস স্পাইওয়্যার কেনা হয়েছে ইসরায়েল, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিদের থেকে।
"মরক্কো সম্পূর্ণরূপে টেকনো-অথোরিটেরিয়ান পদ্ধতি গ্রহণ করেছে"
আমনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের সেক্রেটারি জেনারেল অগনেস ক্যালামার্ড বলেছেন, ‘মরক্কো সরকারের এই ধরনের নিরাপত্তা লঙ্ঘন অব্যাহত রাখা উচিত নয়।’ তিনি আরও বলেছেন, ‘মরক্কো সরকারকে এই ধরনের নিরাপত্তা লঙ্ঘন বন্ধ করতে হবে এবং অন্যান্য রাষ্ট্রগুলিকে মরক্কোতে মানবাধিকার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত স্পাইওয়্যার রপ্তানি বন্ধ রাখতে হবে।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মরক্কো
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অগনেস ক্যালামার্ড (আমনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল সেক্রেটারি জেনারেল), ডনচা ও কেরবহিল (আমনেস্টি সিকিউরিটি ল্যাব প্রধান), ওমান রাদি (সাংবাদিক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০৩টি ফোন নম্বর, ৬৫টি সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মী, ৩৪টি মানবাধিকারকর্মী, ২২টি সাংবাদিক, ১৮ দিন (লেবাননের হাঙ্গার স্ট্রাইক)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!