📌 মরক্কোর চারজন জার্নালিস্ট ও মানবাধিকার কর্মী পেগাসাস সফটওয়্যারের মাধ্যমে ২০১৭ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত নজরদারি ও হুমকির শিকার হয়েছিলেন। আমনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের নতুন রিপোর্টে এই তথ্য উন্মোচিত হয়েছে, যেখানে ১০৩টি মরক্কো নম্বরকে লক্ষ্য করে পেগাসাসের ব্যবহার প্রমাণিত হয়েছে, যার মধ্যে ৬৫ জন সিভিল সোসাইটি কর্মী ছিলেন
মরক্কোর রাজধানী রাবাত থেকে আল জাজীরার প্রতিবেদন: মরক্কোর চারজন জার্নালিস্ট ও মানবাধিকার কর্মী পেগাসাস সফটওয়্যারের মাধ্যমে ২০১৭ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ব্যাপক নজরদারি ও হুমকির শিকার হয়েছিলেন। আমনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের নতুন রিপোর্টে এই তথ্য উন্মোচিত হয়েছে, যেখানে মরক্কোর সরকারি নজরদারি সংস্থা জেনারেল ডিরেক্টরেট ফর টেরিটোরিয়াল সার্ভিল্যান্স (ডিজিএসটি) পেগাসাস সফটওয়্যার ব্যবহার করে সিভিল সোসাইটি কর্মীদের লক্ষ্য করে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, মরক্কো সরকারের এই নজরদারি কার্যক্রমের মধ্যে জার্নালিস্ট ও মানবাধিকার কর্মীদের নামও ছিল।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মরক্কোর জার্নালিস্ট ও মানবাধিকার কর্মী ওমার রাদি (Omar Radi) বলেছেন, তিনি কোনো নির্দিষ্ট প্রতিবেদনের জন্য নজরদারি করা হয়নি, বরং মরক্কোর জমি অধিগ্রহণ বিষয়ে তদন্ত করছিলেন। পরে তিনি জানতে পারেন পেগাসাস সফটওয়্যারের লক্ষ্য হয়ে গেছেন।
- 📌 ওমার রাদি ২০১৮ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ফোনের ব্যাটারি দ্রুত খরচ হচ্ছিল, তাপমাত্রা বাড়ছিল এবং নেটওয়ার্ক ধীর হয়ে যাচ্ছিল। তিনি বলেন, তার উপর শারীরিক নজরদারি করা হতো, যেখানে প্রতিদিন পার্কিং অ্যাটেন্ডেন্ট, দোকানদার ও বন্ধুদের কাছ থেকে প্রতিবেদন নেওয়া হতো।
- 📌 ওমার রাদি বলেন, “আমি কখনো কখনো পিছনে ফিরে যেতাম এবং অনুসরণকারী ব্যক্তিদের দিকে যেতাম ফটোগ্রাফ করার জন্য, কিন্তু তারা দ্রুত পালিয়ে যেত এবং তাদের মুখ লুকিয়ে নিত।”
- 📌 আমনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের রিপোর্টে মরক্কোর চারজন ব্যক্তির কেস বিশ্লেষণ করা হয়েছে: ওমার রাদি, ফুয়াদ আবদেলমুমনি (Fouad Abdelmoumni), আবদেসসাদাক এল বুচাত্তাউই (Abdessadak El Bouchattaoui) এবং হিচাম ম্যানসুরি (Hicham Mansouri)।
- 📌 আমনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের রিপোর্টে বলা হয়েছে, মরক্কোর পেগাসাস নজরদারি কার্যক্রম ২০১৭ সালের অক্টোবর থেকে সম্পূর্ণভাবে কার্যকর ছিল। রিপোর্টে ১০৩টি মরক্কো নম্বরকে লক্ষ্য করে পেগাসাসের ব্যবহার প্রমাণিত হয়েছে, যার মধ্যে ৬৫ জন সিভিল সোসাইটি কর্মী ছিলেন, যার মধ্যে ৩৪ জন মানবাধিকার কর্মী, ২২ জন জার্নালিস্ট ও মিডিয়া কর্মী, পাঁচ জন আইনজীবী এবং চার জন শিক্ষাবিদ ছিলেন।
- 📌 আমনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের রিপোর্টে বলা হয়েছে, মরক্কো সরকারের পেগাসাস নজরদারি কার্যক্রমের বিরুদ্ধে সরকারের কোনো প্রতিক্রিয়া আসেনি।
📰 বিস্তারিত
মরক্কোর মানবাধিকার কর্মী ও জার্নালিস্ট ওমার রাদি, যিনি বর্তমানে জার্মানিতে বসবাস করছেন, আল জাজীরাকে বলেছেন, তিনি ২০১৮ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ফোনের ব্যাটারি দ্রুত খরচ হচ্ছিল, তাপমাত্রা বাড়ছিল এবং নেটওয়ার্ক ধীর হয়ে যাচ্ছিল। তিনি বলেন, তার উপর শারীরিক নজরদারি করা হতো, যেখানে প্রতিদিন পার্কিং অ্যাটেন্ডেন্ট, দোকানদার ও বন্ধুদের কাছ থেকে প্রতিবেদন নেওয়া হতো। তিনি আরও বলেন, “আমি কখনো কখনো পিছনে ফিরে যেতাম এবং অনুসরণকারী ব্যক্তিদের দিকে যেতাম ফটোগ্রাফ করার জন্য, কিন্তু তারা দ্রুত পালিয়ে যেত এবং তাদের মুখ লুকিয়ে নিত।”
আমনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের রিপোর্টে বলা হয়েছে, ওমার রাদির কেসটি চারটি কেসের মধ্যে একটি, যা রিপোর্টে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। রিপোর্টে ফুয়াদ আবদেলমুমনি, একজন সিনিয়র অ্যাক্টিভিস্ট; আবদেসসাদাক এল বুচাত্তাউই, একজন মানবাধিকার আইনজীবী; এবং হিচাম ম্যানসুরি, একজন বিতর্কিত জার্নালিস্টের কেস অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যিনি ২০১৫ সালে অশ্লীলতা ও যৌন শোষণের অভিযোগে কারাবন্দী ছিলেন। আমনেস্টি বলেছে, এই অভিযোগগুলি ছিল কৃত্রিম।
রিপোর্টে বলা হয়েছে, আমনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের সিকিউরিটি ল্যাব ২০২০ সালের জুন মাসে ওমার রাদির ফোন পরীক্ষা করে পেগাসাস সফটওয়্যারের ব্যবহার প্রমাণিত হয়েছে। রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, আমনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের ১৪টি মিডিয়া সংস্থার সহযোগিতায় এবং ফরবিডেন স্টোরিজের আন্তর্জাতিক জার্নালিস্ট নেটওয়ার্কের সমন্বয়ে এই রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে।
আমনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের রিপোর্টে বলা হয়েছে, মরক্কোর পেগাসাস নজরদারি কার্যক্রমের মধ্যে ১০৩টি মরক্কো নম্বরকে লক্ষ্য করে সফটওয়্যার ব্যবহার করা হয়েছিল। এর মধ্যে ৬৫ জন সিভিল সোসাইটি কর্মী ছিলেন, যার মধ্যে ৩৪ জন মানবাধিকার কর্মী, ২২ জন জার্নালিস্ট ও মিডিয়া কর্মী, পাঁচ জন আইনজীবী এবং চার জন শিক্ষাবিদ ছিলেন।
"আমি নজরদারি করা হয়নি কোনো নির্দিষ্ট প্রতিবেদনের জন্য। আমি মরক্কোর জমি অধিগ্রহণ বিষয়ে তদন্ত করছিলাম। পরে আমি জানতে পারলাম যে আমি পেগাসাসের লক্ষ্য হয়ে গেছি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রাবাত, মরক্কো
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ওমার রাদি, ফুয়াদ আবদেলমুমনি, আবদেসসাদাক এল বুচাত্তাউই, হিচাম ম্যানসুরি
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০৩টি মরক্কো নম্বর লক্ষ্য করা হয়েছিল, যার মধ্যে ৬৫ জন সিভিল সোসাইটি কর্মী, ৩৪ জন মানবাধিকার কর্মী, ২২ জন জার্নালিস্ট ও মিডিয়া কর্মী
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!