📌 মরক্কোর রাজা মোহাম্মদ সিক্সটো ১৬ অক্টোবর প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ফাতিমা জোহরা আল মানসুরিকে সরকারের নেতৃত্ব দিতে নিয়োগ দেন। তবে নতুন সরকারের পিছনে রয়েছে রাজতন্ত্রের প্রভাবিত পার্টি ‘অথেন্টিসিটি অ্যান্ড মডার্নিটি পার্টি’ (পিএম), যা রাজার ঘনিষ্ঠ সহযোগী আলি হিম্মার প্রতিষ্ঠিত। ৬২% ভোটার বয়কটের মধ্যেও পিএম-র নেতৃত্বে গঠিত নতুন সরকারের সামনে অর্থনৈতিক সংকট ও আন্তর্জাতিক চাপের মুখে দাঁড়িয়ে আছে
মরক্কোর রাজা মোহাম্মদ সিক্সটো ১৬ অক্টোবর প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ফাতিমা জোহরা আল মানসুরিকে সরকারের নেতৃত্ব দিতে নিয়োগ দেন। এই ঐতিহাসিক পদে নারী পৌঁছানোর খবর আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। তবে মরক্কোর রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আল মানসুরি ‘অথেন্টিসিটি অ্যান্ড মডার্নিটি পার্টি’ (পিএম)-এর সদস্য। এই পার্টি সেপ্টেম্বর মাসের সাংসদীয় নির্বাচনে সর্বাধিক আসন পেয়েছে। পিএম-এর প্রতিষ্ঠাতা আলি হিম্মা রাজার ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং উপদেষ্টা। রাজার প্রভাবিত এই পার্টি তিনটি অন্যান্য দলের সাথে জোট গঠন করে নতুন সরকারের নেতৃত্ব দিচ্ছে, যা রাজতন্ত্রের অব্যাহত প্রভাবকে নির্দেশ করে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মরক্কোর প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ফাতিমা জোহরা আল মানসুরি ১৬ অক্টোবর সরকারের নেতৃত্ব দিতে নিয়োগ পান, কিন্তু তার পার্টি ‘অথেন্টিসিটি অ্যান্ড মডার্নিটি পার্টি’ (পিএম) রাজার প্রভাবিত একটি দল।
- 📌 পিএম-এর জন্ম ২০০৮ সালে রাজা মোহাম্মদ সিক্সটোর উপদেষ্টা আলি হিম্মা প্রতিষ্ঠা করেন, যার লক্ষ্য ছিল রাজনৈতিক ইসলামের বর্ধিষ্ণু প্রভাবকে প্রতিরোধ করা।
- 📌 ২০২১ সালের নির্বাচনে পিএম ৬২% ভোটার বয়কটের মধ্যেও জিতে সরকার গঠন করে, কিন্তু নির্বাচনে অস্বচ্ছতা ও শেষ মুহূর্তে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের অন্তর্ভুক্তির অভিযোগ উঠেছে।
- 📌 নতুন সরকারের ৫০% সদস্য পূর্ব সরকারের সদস্য এবং ‘সোভেরিন মিনিস্ট্রিজ’ (রাজার সরাসরি নিয়ন্ত্রিত মন্ত্রণালয়) বজায় রাখা হয়েছে, যা রাজতন্ত্রের প্রভাবকে আরো স্পষ্ট করে তুলেছে।
- 📌 ২০২৭ সালের অর্থবিলে সামাজিক সমস্যা ও যুবকদের অন্তর্ভুক্তির উপর জোর দেওয়া হলেও, আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সংকট ও শক্তি দামের বৃদ্ধির কারণে এই উদ্যোগের কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা কম।
📰 বিস্তারিত
মরক্কোর রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ‘অথেন্টিসিটি অ্যান্ড মডার্নিটি পার্টি’ (পিএম) এর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই পার্টি ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল রাজনৈতিক ইসলামের প্রভাবকে প্রতিরোধ করার জন্য। বিশেষত ‘জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি’ (পিজিডি)-এর উত্থানের বিপরীতে পিএম গঠিত হয়েছিল। আরবের শীতলবায়ু বিপ্লবের সময় মরক্কোতে গণপ্রতিবাদ ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের চাপ বেড়ে যায়। এই সময়ে ‘মাখজেন’ (রাজতন্ত্রের প্রতিষ্ঠিত শক্তি) এর প্রভাব কিছুটা হ্রাস পায় এবং পিজিডি-র মতো রাজনৈতিক শক্তির উত্থান ঘটে।
২০১১ সালে আলি হিম্মা রাজার উপদেষ্টা হিসেবে যোগদান করেন এবং পিএম থেকে দূরে সরে যান। তবে পার্টি ‘মাখজেন’ এর সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ থেকে মুক্তি পায়নি। ২০১৬ সালের নির্বাচনে পিএম দ্বিতীয় সর্বাধিক ভোট পায় এবং নিজেকে একটি স্বীকৃত রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে। ২০২১ সালের নির্বাচনে পিএম জোট সরকারে অংশ নেয় এবং অভিজ্ঞতা অর্জন করে। অবশেষে ২০২৬ সালের নির্বাচনে পিএম সর্বাধিক আসন পেয়ে সরকার গঠন করে।
তবে এই নির্বাচনের পটভূমি অস্বচ্ছ ছিল। ৬২% ভোটার বয়কটের কারণে নির্বাচনকে বৈধতা দেওয়া কঠিন। নির্বাচন দিবসে কর্তৃপক্ষ ভোটারদের ভোট দেওয়ার জন্য আহ্বান জানায়। নির্বাচনে অস্বচ্ছতা ও শেষ মুহূর্তে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের অন্তর্ভুক্তির অভিযোগ উঠে। উদাহরণস্বরূপ, ফাউজি লাকজিয়া, যিনি ‘রয়্যাল মরক্কো ফুটবল ফেডারেশনের’ সভাপতি এবং মরক্কো ফুটবলের জনপ্রিয়তা নিয়ে পরিচিত, নির্বাচনের দুই মাস আগে পিএম-এ যোগ দেন।
নতুন সরকারের ৫০% সদস্য পূর্ব সরকারের সদস্য এবং ‘সোভেরিন মিনিস্ট্রিজ’ (রাজার সরাসরি নিয়ন্ত্রিত মন্ত্রণালয়) বজায় রাখা হয়েছে। কিছু মরক্কান প্রশ্ন তুলেছেন যে, নির্বাচন কেন অনুষ্ঠিত হয়েছিল যদি সরকারের সদস্যরা একই রকম থাকে। নতুন সরকারের সামনে অর্থনৈতিক সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে আছে। ১৭ অক্টোবর রাজার নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে ২০২৭ সালের অর্থবিলে সামাজিক সমস্যা, নাগরিকদের ক্রয় ক্ষমতা এবং যুবকদের অন্তর্ভুক্তির উপর জোর দেওয়া হয়েছে।
"আমাদের সামনে অর্থনৈতিক সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে আছে। আন্তর্জাতিক শক্তি দামের বৃদ্ধি এবং ফসফেট উৎপাদন শিল্পের খরচ বাড়ার কারণে এই উদ্যোগের কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা কম।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মরক্কো
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ফাতিমা জোহরা আল মানসুরি (প্রধানমন্ত্রী), আলি হিম্মা (পিএম প্রতিষ্ঠাতা), ফাউজি লাকজিয়া (রয়্যাল মরক্কো ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬২% (ভোটার বয়কট)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!