📌 পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয় চক্রান্তের ফল বলে দাবি করেছেন সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি এসআইআর প্রক্রিয়া বাতিল করে পুরোনো ভোটার তালিকা ব্যবহার করে নতুন নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন। এছাড়াও তিনি প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে গ্রেপ্তারের দাবি করেছেন
পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয় চক্রান্তের ফল বলে অভিযোগ করেছেন সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি দাবি করেছেন, ইভিএম হাইজ্যাক এবং এসআইআর প্রক্রিয়ার অপব্যবহার করে বিজেপি দলটিকে হারিয়েছে। পাঁচ মাস পর প্রথম বাইরে রাজনৈতিক সমাবেশে উপস্থিত হয়ে তিনি বলেছেন, পুরোনো ভোটার তালিকা ব্যবহার করে পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, মধ্যপ্রদেশ ও হরিয়ানায় নতুন নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 পুলিশের অনুমতি না পাওয়ায় কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে শ্রীরামপুরের কোর্ট ময়দানে অনুষ্ঠিত হয় মমতার সমাবেশ
- 📌 মমতা দাবি করেছেন, ৯২ লাখ ভোটারের নাম এসআইআর প্রক্রিয়ায় ‘ভ্যানিশ’ করা হয়েছে
- 📌 তিনি প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ‘আইনের রক্ষক হয়ে ভক্ষক’ বলে অভিযুক্ত করেছেন
- 📌 কুনাল ঘোষের গাড়িতে হামলা করে বিজেপিকে দায়ী করেছেন মমতা
- 📌 কংগ্রেসের সমাবেশে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কুশপুত্তলিকা পোড়ানোর চেষ্টা করা হয়
📰 বিস্তারিত
পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে পরাজয়ের পাঁচ মাস পর শনিবার কলকাতার বাইরে প্রথম রাজনৈতিক সমাবেশে উপস্থিত হন সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পুলিশের অনুমতি না পাওয়ায় কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে শ্রীরামপুরের কোর্ট ময়দানে অনুষ্ঠিত হয় এই সমাবেশ। সমাবেশে তিনি বলেন, ‘এসআইআর বাতিল করে পুরোনো ভোটার তালিকার ভিত্তিতে পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, মধ্যপ্রদেশ ও হরিয়ানায় পুনর্নির্বাচনের দাবি জানাচ্ছি। ইভিএম হাইজ্যাক করে এবং এসআইআরের অপব্যবহার করে বিজেপি দলটিকে হারিয়েছে। সংখ্যালঘু, আদিবাসী ও উপজাতিদের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে।’
মমতা প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ‘ভ্যানিশ কুমার’ বলে অভিযুক্ত করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, এসআইআর প্রক্রিয়ায় রাজ্যের প্রায় ৯২ লাখ ভোটারের নাম তালিকা থেকে ‘ভ্যানিশ’ করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার আইনের রক্ষক হয়ে ভক্ষক হিসেবে কাজ করেছেন। তাঁকে অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি।’
মমতা বর্তমান বিজেপি সরকারের সমালোচনা করে বলেন, ‘ক্ষমতায় আসার মাত্র পাঁচ মাসের মধ্যেই মানুষ এই সরকারের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে। অন্নপূর্ণা ভান্ডার, রেশন কার্ডসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্পে অনিয়ম চলছে। পুনর্বাসন ছাড়া হকার উচ্ছেদ করা হচ্ছে এবং সর্বত্র চাঁদাবাজি শুরু হয়েছে।’
এদিকে শ্রীরামপুরের জনসভায় যোগ দিতে যাওয়ার পথে উত্তরপাড়ায় হামলার মুখে পড়েন তৃণমূলের বিধায়ক কুনাল ঘোষ। একদল বিক্ষোভকারী তাঁর গাড়ির সামনে কালো পতাকা প্রদর্শন করে স্লোগান দেয় এবং ইটপাটকেল ছোড়ে। এতে কুনালের গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং তিনি কাঁধে চোট পান বলে দাবি করেন। পথ অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় তিনি কলকাতায় ফিরে যান। কুনাল ঘোষ বিজেপিকে দায়ী করেছেন এই ঘটনায়। তবে বিজেপির দাবি, এটি তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের ফল।
প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ ও গ্রেপ্তারের দাবিতে বিকেলে দক্ষিণ কলকাতার হাজরা মোড়ে কংগ্রেসের বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে স্লোগান দেওয়া হয়। কংগ্রেসের কর্মীরা তাঁর কুশপুত্তলিকা পোড়ানোর চেষ্টা করেন, কিন্তু পুলিশ তা জব্দ করে নেয়।
"এসআইআর বাতিল করে পুরোনো ভোটার তালিকার ভিত্তিতে এই বাংলায় আবার ভোট নিতে হবে। শুধু বাংলাই নয়—বিহার, মধ্যপ্রদেশ ও হরিয়ানাতেও নতুন করে নির্বাচন করতে হবে। ইভিএম হাইজ্যাক করে এবং এসআইআরের অপব্যবহার করে ওরা ভোটে জিতেছে। ভোটে আমরা হারিনি, বরং চক্রান্ত করে আমাদের হারানো হয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: শ্রীরামপুর কোর্ট ময়দান, কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ; হাজরা মোড়, দক্ষিণ কলকাতা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, জ্ঞানেশ কুমার, কুনাল ঘোষ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৯২ লাখ (ভোটার)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!