📌 ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের হামলা মোকাবিলায় মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের আওতায় তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরব দ্রুত সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেয়। চুক্তি অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর হামলা সবার ওপর হামলা হিসেবে গণ্য হবে। সৌদি আরবের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খালিদ বিন সালমান জানান, জোটের আওতায় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে
মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের প্রথম কার্যকরীকরণে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের জরুরি বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের হামলা মোকাবিলায় এই তিন দেশ দ্রুত সেনা মোতায়েনের প্রতিশ্রুতি দেয়। গত ৭ আগস্ট সই হওয়া ‘মক্কা ডিফেন্স অ্যালায়েন্স’ বা ‘মক্কা প্রতিরক্ষা জোট’-এর আওতায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। চুক্তি অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর হামলা হলে তা সবার ওপর হামলা হিসেবে গণ্য হবে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের প্রথম কার্যকরীকরণ**: সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান যৌথভাবে সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেয়
- 📌 **হুতি বিদ্রোহীদের হামলা মোকাবিলায় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা**: সৌদি আরবের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খালিদ বিন সালমান জানান, জোটের আওতায় ‘সম্মিলিত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা’ সক্রিয় করা হয়েছে
- 📌 **ইয়েমেনের মোখা পুনর্দখল**: সৌদি সমর্থিত ইয়েমেনি বাহিনী লোহিত সাগরের বন্দরনগরী মোখা পুনর্দখল করে এবং কৌশলগত প্রণালি বাব আল-মানদেব নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে
- 📌 **জোটের সামরিক শক্তি**: ১৪ লাখ সক্রিয় সেনা, ৩ হাজার ৪০০ বিমান, ৬ হাজার ট্যাংক ও ৩৪০টিরও বেশি নৌযুদ্ধের সরঞ্জাম
- 📌 **হুতি হামলার প্রতিক্রিয়া**: সৌদি আরবের কিং খালিদ বিমানবন্দর ও আরামকো তেল শোধনাগারে হামলা চালানোর দাবি করেছে হুতিরা
📰 বিস্তারিত
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে গতকাল সোমবার তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের জরুরি বৈঠকে মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের কার্যকরীকরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের হামলা মোকাবিলায় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে। সৌদি আরবের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খালিদ বিন সালমান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, ইয়েমেনের ইরানপন্থী হুতিদের হামলা এবং তাদের পেছনে জড়িতদের জবাব দিতে এই জোটের আওতায় ‘সম্মিলিত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা’ সক্রিয় করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এই জোট সৌদি আরব এবং পবিত্র স্থানগুলোর ওপর হওয়া হামলা মোকাবিলায় তিন দেশের সংহতি ও ঐক্য আবারও দৃঢ় করেছে।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তিন দেশ চুক্তি অনুযায়ী তাদের পূর্বনির্ধারিত সামরিক শক্তি ও সক্ষমতার জোগান দেবে এবং সৌদি আরবে তাদের দ্রুত মোতায়েন নিশ্চিত করবে। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, অঙ্গীকারগুলো অনুমোদিত চুক্তি ও প্রতিটি দেশের নিজস্ব আইন মেনেই বাস্তবায়ন করা হবে।
ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের অনুগত বাহিনী গত মাসে হুতিদের দখল করা এলাকাগুলো পুনর্দখলের অভিযানে সফলতা পায়। তারা লোহিত সাগরের বন্দরনগরী মোখা পুনর্দখল করে এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মানদেব প্রণালির নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে চলে আসে। সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের ১০০টি যুদ্ধবিমান এই অভিযানে সহায়তা দিচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।
"‘সম্মিলিত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা’ সক্রিয় করার বিষয়ে কমিটি একমত হয়েছে। এ জোট সৌদি আরব এবং পবিত্র স্থানগুলোর ওপর হওয়া হামলা মোকাবিলায় তিন দেশের সংহতি ও ঐক্য আবারও দৃঢ় করেছে।"
হুতিরা সৌদি আরবের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও উপকূলীয় শহর রাবিগের আরামকো তেল শোধনাগারে হামলা চালানোর দাবি করেছে। তারা আরও দাবি করেছে যে তারা একটি বিমানবন্দর, একটি বিমানঘাঁটিসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আঘাত হেনেছে। তবে হুতিদের এ দাবির বিষয়ে রিয়াদের পক্ষ থেকে কোনো নিশ্চয়তা বা আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রিয়াদ (সৌদি আরব), লোহিত সাগর (ইয়েমেন), কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (সৌদি আরব)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: খালিদ বিন সালমান (সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী), খাজা আসিফ (পাকিস্তান প্রতিরক্ষামন্ত্রী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০০টি যুদ্ধবিমান, ১৪ লাখ সক্রিয় সেনা, ৩ হাজার ৪০০ বিমান, ৬ হাজার ট্যাংক, ৩৪০টি নৌযুদ্ধের সরঞ্জাম
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!