📌 ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বিজয়া দশমীতে বলেছেন, দেশের শত্রুদের চিনতে হবে এবং তাদের পরাজিত করতে হবে। তিনি রামের আদর্শের ওপর জোর দিয়েছেন এবং দেশবাসীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন
বিজয়া দশমীর পবিত্র অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশের শত্রুদের চিনতে এবং তাদের পরাজিত করতে হবে বলে আহ্বান জানিয়েছেন। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দিল্লির আইপি এক্সটেনশনের ডিডিএ উৎসব ময়দানে অনুষ্ঠিত বিজয়া দশমী অনুষ্ঠানে তিনি বলেছেন, দেশের সম্মান, মর্যাদা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে ক্ষুণ্ন করার শক্তিকে শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করতে হবে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মোদি বলেছেন, দেশের শত্রুদের চিনতে হবে এবং তাদের পরাজিত করতে হবে — যারা দেশের সম্মান ক্ষুণ্ন করে, সমাজকে বিভক্ত করে এবং সংস্কৃতিকে ঘৃণা করে।
- 📌 বিজয়া দশমীকে তিনি ‘অশুভ শক্তির ওপর শুভ শক্তির বিজয়ের প্রতীক’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং রামের আদর্শকে ভারতের জীবনশক্তি হিসেবে তুলে ধরেছেন।
- 📌 প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘রামরাজ্য’-এর আদর্শ হলো ন্যায়বিচার, অন্তর্ভুক্তি ও নাগরিক কল্যাণের উপর ভিত্তি করে শাসন ব্যবস্থা।
- 📌 মোদি রামের লঙ্কা যাত্রার উদাহরণ দিয়ে বলেছেন, সংকটের মুখেও আত্মনির্ভরতা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব।
- 📌 তিনি বলেছেন, বিজয়া দশমী হলো ‘বিজয়ের উৎসব’ — যেখানে সত্য ও মানবতারই শেষ পর্যন্ত জয় হবে।
📰 বিস্তারিত
হলুদ রঙের কুর্তা ও ঐতিহ্যবাহী হ্যান্ডলুমের চাদর গলায় পরা মোদি দিল্লির ডিডিএ উৎসব ময়দানে বক্তব্য দেন। তিনি রাবণের কুশপুত্তলিকা দহনের ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠানে অংশ নেন। বিজয়া দশমীকে ‘অশুভ শক্তির ওপর শুভ শক্তির বিজয়ের প্রতীক’ হিসেবে বর্ণনা করে মোদি বলেন, ‘যে শক্তিগুলো দেশের সম্মান ক্ষুণ্ন করে, যারা সমাজকে বিভক্ত করে এবং যারা আমাদের সংস্কৃতিকে ঘৃণা করে—তারাই দেশের শত্রু।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজ বিজয়া দশমীর এই পবিত্র দিনে আমাদের সংকল্প আবারও দৃঢ় করতে হবে। মা ভারতীর শত্রুদের চিনতে হবে। তাদের পরাজিত করতে হবে।’ তিনি দেশের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রাচীন ঋষিদের শিক্ষার কথাও উল্লেখ করেন। মোদি বলেন, ‘আমাদের প্রাচীন ঋষিরা শিখিয়েছেন, শত্রুদের বিরুদ্ধে সব রাজনৈতিক দল ও প্রতিষ্ঠানকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’
বক্তব্যের শুরুতে মোদি শ্রীরাম, মা জানকী ও বজরংবলীর প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, ‘বিজয়া দশমীর এই পবিত্র দিনে আমি শ্রীরাম, মা জানকী এবং বজরংবলীর চরণে প্রণাম জানাই।’ মোদি আরও বলেন, ‘আমাদের কাছে এগুলো কেবল উৎসব নয়; এগুলো ভারতের জীবনশক্তি।’
রামের আদর্শের প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরতে গিয়ে মোদি বলেন, ‘রামরাজ্য’ এখনো ন্যায়সংগত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রশাসনের মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত হয়। তিনি বলেন, ‘রামরাজ্য বলতে এমন শাসনব্যবস্থাকে বোঝায়, যেখানে কারও প্রতি বৈষম্য করা হয় না, সবাই ন্যায়বিচার পায় এবং সবার জন্য সমান সুযোগ থাকে।’
মোদি রামের লঙ্কা যাত্রার উদাহরণ দিয়ে বলেন, ‘সংকট যত বড়ই হোক, চ্যালেঞ্জ যত কঠিনই হোক, অন্যের ওপর নির্ভর করে বসে থাকলে চলবে না। নিজেদের শক্তি চিনতে হবে। নিজেদের সম্পদের ওপর আস্থা রাখতে হবে। সংকল্পকে শক্তিতে রূপান্তর করতে হবে এবং নিজেদের কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে সমাধান খুঁজে বের করতে হবে।’
"বিজয়া দশমী হলো বিজয়ের উৎসব। এই উৎসব আমাদের বিশ্বাস করার সাহস দেয় যে শত্রু যত শক্তিশালীই হোক না কেন, আমরা যখন সত্য ও মানবতার পক্ষে দাঁড়াই, শেষ পর্যন্ত জয় আমাদেরই হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: দিল্লি, ভারত
- 👥 মুখ্য ব্যক্তি: নরেন্দ্র মোদি (ভারতের প্রধানমন্ত্রী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: বিজয়া দশমী (২০ অক্টোবর, ২০২৬)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!