📌 মিসরীয় নির্মাণ প্রতিষ্ঠান 'অর্গানি গ্রুপ' গাজার রাফাহে 'গ্রিন রাফাহ' নামে আবাসন প্রকল্পের জন্য জরিপ সম্পন্ন করেছে। ইসরায়েলি বাহিনীর তদারকিতে প্রকৌশলীরা ধ্বংসস্তূপ পরিদর্শন করেছেন। প্রকল্পে শুরুতে ২০ হাজার ফিলিস্তিনিকে থাকার ব্যবস্থা করা হবে
গাজার রাফাহে 'গ্রিন রাফাহ' নামে একটি নতুন আবাসন প্রকল্পের জন্য মিসরীয় নির্মাণ প্রতিষ্ঠানগুলো জরিপ সম্পন্ন করেছে। ইসরায়েলি বাহিনীর তদারকিতে প্রকৌশলীরা ধ্বংসস্তূপ পরিদর্শন করেছেন এবং প্রকল্পের জন্য এলাকা নির্বাচন করেছেন। মধ্যপ্রাচ্যের সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই (এমইই) জানিয়েছে, মিসরের উত্তর সিনাই প্রদেশের কর্মরত এক জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা বলেছেন, মিসরের প্রকৌশলীরা রাফাহর পূর্বাঞ্চলের এলাকা জরিপ করেছেন। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ও বিমানবাহিনীর সদস্যরা তাদের সঙ্গে ছিলেন এবং পুরো কাজ তদারকি করেছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মিসরীয় প্রতিষ্ঠান 'অর্গানি গ্রুপ' গাজার রাফাহে 'গ্রিন রাফাহ' প্রকল্পের জন্য জরিপ সম্পন্ন করেছে।
- 📌 প্রকল্পে শুরুতে ২০ হাজার ফিলিস্তিনিকে থাকার ব্যবস্থা করা হবে, যা শারম আল-শেখ শান্তি চুক্তির আওতায় বহুজাতিক তত্ত্বাবধানে থাকবে।
- 📌 ইসরায়েলি বাহিনী প্রকৌশলীদের সঙ্গে ছিলেন এবং অবরুদ্ধ ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড ছেড়ে যাওয়া পর্যন্ত তদারকি করেছেন।
- 📌 প্রকল্পের জরিপের তথ্য ইতিমধ্যে জমা দেওয়া হয়েছে, ধ্বংসস্তূপ সরানোর অনুমতি পেলে নির্মাণকাজ শুরু হবে।
- 📌 মিসরীয় প্রতিষ্ঠানটির মালিক ইব্রাহিম আল-আরজানি, যিনি উত্তর সিনাই অঞ্চলে প্রভাবশালী ব্যবসায়ী।
- 📌 ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ রাফাহে অবকাঠামো নির্মাণের অনুমোদন দিয়েছেন।
📰 বিস্তারিত
গাজার রাফাহ গভর্নরেটে ইসরায়েলের গণহত্যামূলক যুদ্ধের পর থেকে ধ্বংসস্তূপের মধ্যে আবাসন প্রকল্পের জন্য জরিপ সম্পন্ন করেছে মিসরীয় প্রতিষ্ঠানগুলো। মিসরের নির্মাণ প্রতিষ্ঠানগুলো গাজার দক্ষিণাঞ্চলের ধ্বংসস্তূপের মধ্যে 'গ্রিন রাফাহ' নামে একটি আবাসন প্রকল্পের জন্য জরিপ করেছে। মিসরের উত্তর সিনাই প্রদেশে কর্মরত এক জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা এমইইকে বলেছেন, মিসরের প্রকৌশলীরা রাফাহর পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি এলাকা জরিপ করেছেন। ইসরায়েলি বাহিনী প্রকৌশলীদের সঙ্গে ছিলেন এবং অবরুদ্ধ ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড ছেড়ে যাওয়া পর্যন্ত তদারকি করেছেন।
গাজায় ইসরায়েলি বাহিনী রাফাহ গভর্নরেটের অন্তত ৮০ শতাংশ ভবন ধ্বংস করেছে। আগে এই এলাকায় প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার ফিলিস্তিনি বসবাস করতেন। কিন্তু যুদ্ধের পর থেকে সেখানকার বাসিন্দাদের প্রায় সবাই গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। মিসরীয় নির্মাণ প্রতিষ্ঠান অর্গানি গ্রুপের একটি সূত্র জানিয়েছে, প্রস্তাবিত আবাসিক এলাকায় শুরুতে প্রায় ২০ হাজার ফিলিস্তিনিকে থাকার ব্যবস্থা করা হবে। এই প্রকল্পটি শারম আল-শেখ শান্তি চুক্তির আওতায় বহুজাতিক তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে।
মিসরীয় সূত্র জানিয়েছে, জরিপের তথ্য ইতিমধ্যে জমা দেওয়া হয়েছে। ধ্বংসস্তূপ সরানোর অনুমতি পেলে নির্মাণকাজের আগে প্রকৌশল নকশা ও সমীক্ষা তৈরি করা যাবে। এই কাজের মধ্যে ধ্বংসস্তূপ সরানো এবং জমি প্রস্তুত করার কাজও রয়েছে। মিসরীয় সূত্র আরও বলেছেন, 'গ্রিন রাফাহ' প্রকল্পটি আন্তর্জাতিক প্রশাসনের অধীনে পরিচালিত হবে বলে পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে গাজাকে ইসরায়েল থেকে আলাদা রাখা হবে।
৪৯ বছর বয়সী ইব্রাহিম আল-আরজানি, যিনি মিসরীয় প্রতিষ্ঠান অর্গানি গ্রুপের মালিক, উত্তর সিনাই অঞ্চলে প্রভাবশালী ব্যবসায়ী। তিনি মিসরীয় সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক কাজে লাগিয়ে উত্তর সিনাইয়ে নিজের প্রভাব বাড়ানোর অভিযোগে প্রায়ই সমালোচিত হন। ইসরায়েলি আর্মি রেডিও জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ রাফাহর পূর্বাঞ্চলে অবকাঠামো নির্মাণের অনুমোদন দিয়েছেন। এই এলাকা 'ইয়েলো লাইনের' ইসরায়েল-নিয়ন্ত্রিত অংশে অবস্থিত।
"জরিপকারী দলের সঙ্গে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ছিল। নির্ধারিত এলাকার জরিপ ইতিমধ্যে জমা দেওয়া হয়েছে। এর ভিত্তিতে নির্মাণকাজের আগে প্রয়োজনীয় প্রকৌশল নকশা ও সমীক্ষা তৈরি করা যাবে। ধ্বংসস্তূপ সরানো ও জমি সমতল করার অনুমতি পেলেই কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রাফাহ, গাজা, ইসরায়েল-মিসর সীমান্ত এলাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ইব্রাহিম আল-আরজানি (অর্গানি গ্রুপের মালিক), জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা (মিসর), বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু (ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২ লাখ ৫০ হাজার (রাফাহে আগে বসবাসকারী), ৮০ শতাংশ (ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবন), ২০ হাজার (প্রকল্পে থাকার ব্যবস্থা), ৪৯ বছর (ইব্রাহিম আল-আরজানি)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!