📌 মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের ফোন হ্যাকের মাধ্যমে প্রকাশ পায় মধ্যপ্রাচ্য পুনর্গঠনের গোপন ষড়যন্ত্র। নেদারল্যান্ডসের গোয়েন্দারা আবিষ্কার করেন, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের নেতারা কুশনারের মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসনের সাথে ২ বিলিয়ন ডলারের লেনদেনের পরিকল্পনা করছিলেন। অভিযোগে জড়িত ৭৫০ মিলিয়ন ডলার একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হয়েছিল, যা কুশনারের অনুমোদন নিয়ে পরিচালিত হত
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের ফোন হ্যাকের মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে মধ্যপ্রাচ্য পুনর্গঠনের একটি গোপন ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত। নেদারল্যান্ডসের গোয়েন্দারা ট্রাম্প প্রশাসনের সময় কুশনারের ফোন কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণ করে আবিষ্কার করেন, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের নেতারা কুশনারের মাধ্যমে মার্কিন সরকারের সাথে ২ বিলিয়ন ডলারের আর্থিক লেনদেনের পরিকল্পনা করছিলেন। এই অভিযোগের পেছনে রয়েছে একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, যেখানে ৭৫০ মিলিয়ন ডলার জমা হয়েছিল এবং কুশনারের অনুমোদন নিয়ে পরিচালিত হত।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 জ্যারেড কুশনারের ফোন হ্যাকের মাধ্যমে প্রকাশ পায় সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের নেতাদের সাথে মার্কিন প্রশাসনের গোপন আর্থিক বন্দোবস্তের পরিকল্পনা।
- 📌 নেদারল্যান্ডসের গোয়েন্দারা আবিষ্কার করেন, ৭৫০ মিলিয়ন ডলার একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হয়েছিল, যা মোহাম্মদ বিন জায়েদ ও মোহাম্মদ বিন সালমানের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হত।
- 📌 অভিযোগে জড়িত দুটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে মোট ২ বিলিয়ন ডলার জমা হয়েছিল, যার মধ্যে ১ বিলিয়ন ডলার সৌদি আরবের নেতারা কুশনারের ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য স্থানান্তর করেছিলেন।
- 📌 ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কুশনারের কাছে পরামর্শ দিয়েছিলেন, অর্থটি ইসরায়েলে জমা রাখার জন্য।
- 📌 কুশনার অভিযোগগুলো জোরালোভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন, অভিযোগগুলোকে ‘আপত্তিকর’ ও ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলে উল্লেখ করেছেন।
📰 বিস্তারিত
মার্কিন সাময়িকী ভ্যানিটি ফেয়ারের নতুন প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ট্রাম্প প্রশাসনের সময় নেদারল্যান্ডসের গোয়েন্দারা জ্যারেড কুশনারের ফোন কার্যকলাপ নজরদারি করতেন। এই নজরদারির মাধ্যমে তারা আবিষ্কার করেন, কুশনার একটি গোপন ব্যাংক অ্যাকাউন্টের অনুমোদিত স্বাক্ষরকারী ছিলেন। এই অ্যাকাউন্টটি ছিল সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত ‘ওয়াতানি আল এমারাত ফাউন্ডেশন’-এর নামে। অ্যাকাউন্টটি পরিচালনা করতেন তাহনুন বিন জায়েদ, যিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতের শাসক মোহাম্মদ বিন জায়েদের ভাই এবং ফার্স্ট আবুধাবি ব্যাংকের চেয়ারম্যান।
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এই অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ৭৫০ মিলিয়ন ডলার জমা হয়েছিল, যা আজারবাইজানের একটি ব্যাংক থেকে স্থানান্তরিত হয়েছিল। এই অর্থের পেছনে ছিল মধ্যপ্রাচ্য পুনর্গঠনের একটি গোপন ষড়যন্ত্র। সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের শাসক মোহাম্মদ বিন জায়েদ এই পরিকল্পনার পেছনে ছিলেন। তারা ট্রাম্প প্রশাসনের সাথে সহযোগিতা করে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের লক্ষ্যে একটি ‘স্ল্যাশ ফান্ড’ গঠনের পরিকল্পনা করেছিলেন।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, কুশনারের সাথে সংযুক্ত আরব আমিরাতের নেতারা ২ বিলিয়ন ডলারের লেনদেন করার পরিকল্পনা করেছিলেন। এর মধ্যে ১ বিলিয়ন ডলার সৌদি আরবের নেতারা কুশনারের ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য স্থানান্তর করেছিলেন। এই অর্থ স্থানান্তরের ব্যবস্থা করেছিলেন মোহাম্মদ বিন জায়েদ। অন্যদিকে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কুশনারের কাছে পরামর্শ দিয়েছিলেন, অর্থটি ইসরায়েলে জমা রাখার জন্য। এই যোগাযোগের মাধ্যমে ছিলেন সে সময় ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ডেভিড ফ্রিডম্যান।
জ্যারেড কুশনার অভিযোগগুলো প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘এগুলো অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার নামে উপস্থাপন করা কিছু আপত্তিকর বানোয়াট গল্প। এটি সাংবাদিকতা নয়। বরং কল্পনা, মনগড়া কাহিনি ও পক্ষপাতদুষ্ট প্রচারণার মিশ্রণ।’ তিনি আরও বলেছেন, ‘এমন একজন ব্যক্তি এটি লিখেছেন, যিনি হয় গভীরভাবে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত, নয়তো অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করছেন।’
"এগুলো অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার নামে উপস্থাপন করা কিছু আপত্তিকর বানোয়াট গল্প। এটি সাংবাদিকতা নয়। বরং কল্পনা, মনগড়া কাহিনি ও পক্ষপাতদুষ্ট প্রচারণার মিশ্রণ।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, ইসরায়েল, নেদারল্যান্ডস
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: জ্যারেড কুশনার, মোহাম্মদ বিন জায়েদ, মোহাম্মদ বিন সালমান, বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, ডোনাল্ড ট্রাম্প
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭৫০ মিলিয়ন ডলার, ২ বিলিয়ন ডলার, ১ বিলিয়ন ডলার
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!