📌 নিউ মেক্সিকো আদালত মেটা প্ল্যাটফর্মকে ২৫ বিলিয়ন ডলার জরিমানা করেছে। আদালতের মতে, কোম্পানিটি ব্যবহারকারীদের ডেটা গোপনীয়তার বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে জাল তথ্য প্রদান করেছে। এছাড়াও, ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকার মতো তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের ডেটা চুরির ঘটনায় মেটার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
নিউ মেক্সিকো আদালত মেটা প্ল্যাটফর্মকে ২৫ বিলিয়ন ডলার জরিমানা করার সিদ্ধান্ত নেয়। এই জরিমানাটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একক রাজ্য কর্তৃক কোনো কোম্পানির বিরুদ্ধে প্রদত্ত সর্বোচ্চ জরিমানার মধ্যে অন্যতম। আদালতের মতে, মেটা ব্যবহারকারীদের ডেটা গোপনীয়তার বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে জাল তথ্য প্রদান করেছে এবং ব্যবহারকারীদের ডেটা তৃতীয় পক্ষের কাছে অপ্রয়োজনীয়ভাবে উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২৫ বিলিয়ন ডলার জরিমানা: নিউ মেক্সিকো আদালত মেটাকে ২৫ বিলিয়ন ডলার জরিমানা করার সিদ্ধান্ত নেয়। আদালতের মতে, মেটা ব্যবহারকারীদের ডেটা গোপনীয়তার বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে জাল তথ্য প্রদান করেছে এবং ব্যবহারকারীদের ডেটা তৃতীয় পক্ষের কাছে অপ্রয়োজনীয়ভাবে উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।
- 📌 ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকা সঙ্কট: ২০২১ সালে নিউ মেক্সিকোর অ্যাটর্নি জেনারেল মেটা বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলায় উল্লেখ করা হয়, ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকা ৮৭ মিলিয়ন ফেসবুক ব্যবহারকারীর ডেটা চুরি করে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন প্রচারণায় ব্যবহার করেছিল।
- 📌 হেট স্পিচ ও মিসইনফরমেশন: মেটা ব্যবহারকারীদের ডেটা গোপনীয়তার বিষয়ে মিথ্যা তথ্য প্রদান করেছে এবং হেট স্পিচ বা মিসইনফরমেশন সহ ক্ষতিকর বিষয়বস্তুকে সহজেই সহ্য করেছে।
- 📌 মেটার প্রতিক্রিয়া: মেটার চিফ লেগাল অফিসার সি জে মহোনি বলেছেন, এই সিদ্ধান্ত এবং অ্যাটর্নি জেনারেলের নীতির কারণে নিউ মেক্সিকোতে ব্যবসা করার জন্য বড় বাধা সৃষ্টি হয়েছে।
- 📌 অন্যান্য মামলা: মেটা বর্তমানে হাজারো মামলার সম্মুখীন। বিশেষ করে, ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুক ব্যবহারকারীদের বিশেষ করে কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্যের উপর নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে মামলা চলছে।
📰 বিস্তারিত
নিউ মেক্সিকোর জজ ফ্রান্সিস ম্যাথিউ মেটা প্ল্যাটফর্মকে ২৫ বিলিয়ন ডলার জরিমানা করার আদেশ দিয়েছেন। আদালতের মতে, মেটা ব্যবহারকারীদের ডেটা গোপনীয়তার বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে জাল তথ্য প্রদান করেছে। জজ ম্যাথিউ বলেছেন, “ফেসবুকের অপরাধ – বছরের পর বছর ধরে এবং জনগণের কাছে সিস্টেমেটিকভাবে প্রচারিত – ফেসবুকের মূল ব্যবসা পদ্ধতির কেন্দ্রে অবস্থিত।”
২০২১ সালে নিউ মেক্সিকোর অ্যাটর্নি জেনারেল রাউল টোরেস মেটা বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলার মূল কারণ ছিল ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকা নামক একটি ব্রিটিশ রাজনৈতিক উপদেষ্টা সংস্থা ২০১৬ সালের ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন প্রচারণায় ৮৭ মিলিয়ন ফেসবুক ব্যবহারকারীর ডেটা ব্যবহার করেছিল। অ্যাটর্নি জেনারেলের দাবি, মেটা ব্যবহারকারীদের জানিয়েছিল যে তাদের ডেটা তৃতীয় পক্ষের কাছে বিক্রি হয় না। কিন্তু আসলে, ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকা এবং অন্যান্য তৃতীয় পক্ষের কাছে ব্যবহারকারীদের ডেটা অপ্রয়োজনীয়ভাবে উন্মুক্ত ছিল।
মেটার চিফ লেগাল অফিসার সি জে মহোনি বলেছেন, এই সিদ্ধান্ত এবং অ্যাটর্নি জেনারেলের নীতির কারণে নিউ মেক্সিকোতে ব্যবসা করার জন্য বড় বাধা সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, “এই রায় এবং অ্যাটর্নি জেনারেলের নীতির কারণে, নিউ মেক্সিকো রাজ্যে ব্যবসা করার জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। মূলত, এই মামলার লক্ষ্য হলো অনলাইনে মানুষ কী বলতে পারে তার উপর নতুন নিয়ম আরোপ করে বক্তৃতার উপর কর আরোপ করা।”
মেটা বর্তমানে হাজারো মামলার সম্মুখীন। বিশেষ করে, ক্যালিফোর্নিয়ার একটি ফেডারেল আদালতে ২৯টি রাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেলের একটি গठবন্ধন মেটা বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। মামলায় দাবি করা হয়েছে, মেটা ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামকে কিশোরদের জন্য নির্ভরশীল করে তুলেছে, যা কোম্পানিকে বিশাল ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে এবং তাদের প্ল্যাটফর্মে ব্যাপক পরিবর্তন আনতে বাধ্য করতে পারে।
২০২৬ সালের আগস্টে, মেটা ১৭ বিলিয়ন ডলার মূল্যের একটি বহু-রাজ্য সমঝোতা চুক্তিতে স্বাক্ষর করে, যেখানে ৬টি রাজ্য ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকা মামলায় ৪৫৯ মিলিয়ন ডলার পেয়েছে। এছাড়াও, মেটা কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্যের উপর নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে মামলা সমাধানের জন্য ১৭ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করেছে।
"ফেসবুকের অপরাধ – বছরের পর বছর ধরে এবং জনগণের কাছে সিস্টেমেটিকভাবে প্রচারিত – ফেসবুকের মূল ব্যবসা পদ্ধতির কেন্দ্রে অবস্থিত।"
"এই রায় এবং অ্যাটর্নি জেনারেলের নীতির কারণে, নিউ মেক্সিকো রাজ্যে ব্যবসা করার জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। মূলত, এই মামলার লক্ষ্য হলো অনলাইনে মানুষ কী বলতে পারে তার উপর নতুন নিয়ম আরোপ করে বক্তৃতার উপর কর আরোপ করা।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নিউ মেক্সিকো, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: রাউল টোরেস (নিউ মেক্সিকো অ্যাটর্নি জেনারেল), ফ্রান্সিস ম্যাথিউ (জজ), সি জে মহোনি (মেটার চিফ লেগাল অফিসার)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৫ বিলিয়ন ডলার জরিমানা, ৮৭ মিলিয়ন ব্যবহারকারীর ডেটা চুরি, ২৯টি রাজ্যের মামলা, ১৭ বিলিয়ন ডলার বহু-রাজ্য সমঝোতা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!