📌 সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ আসলে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের সাম্রাজ্যবাদী নীতিরই নতুন সংস্করণ। বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তি ইসরায়েলবিরোধী জোট নয়, বরং মার্কিন স্বার্থরক্ষারই আরেকটি কৌশল। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন, যা মূলত ১৯৫৫ সালের ‘বাগদাদ প্যাক্ট’-এর আদলে গঠিত
সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের সাম্রাজ্যবাদী উচ্চাকাঙ্ক্ষারই নতুন সংস্করণ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তি ইসরায়েলবিরোধী জোট নয়, বরং মার্কিন স্বার্থরক্ষারই আরেকটি কৌশল। অনেকে দাবি করছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলপন্থী কিছু বিশ্লেষক ভুলভাবে এই চুক্তিকে ইসরায়েলবিরোধী হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। আবার অনেকে বলছেন, নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৌদি আরব নতুন কোনো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সন্ধান করছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের সাম্রাজ্যবাদী নীতির নতুন সংস্করণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে
- 📌 বিশ্লেষকদের মতে, চুক্তিটি ইসরায়েলবিরোধী নয়, বরং মার্কিন স্বার্থরক্ষার কৌশল
- 📌 প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চুক্তিটিকে স্বাগত জানিয়ে নিজেকে ‘খুবই আনন্দিত’ বলে ঘোষণা করেছেন
- 📌 চুক্তির আদলে রয়েছে ১৯৫৫ সালের ‘বাগদাদ প্যাক্ট’ (সেন্টো), যা ছিল মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট
- 📌 ১৯৫৫ সালের বাগদাদ প্যাক্টের সদস্যদের মধ্যে ছিল ব্রিটেন, তুরস্ক, ইরান, পাকিস্তান ও ইরাক
- 📌 জর্ডানের বাদশাহ হোসেনের ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও সাম্রাজ্যবাদবিরোধী আন্দোলনের কারণে জর্ডান যুক্ত হতে পারেনি
- 📌 ১৯৭৯ সালে ইরান বেরিয়ে যাওয়ার পর বাগদাদ প্যাক্টের অবসান ঘটে
📰 বিস্তারিত
যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরেই মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের আঞ্চলিক নিরাপত্তা স্বার্থ হাসিল করতে ‘মধ্যপ্রাচ্য ন্যাটো’ গঠনের স্বপ্ন দেখে আসছে। বিশ্লেষকদের মতে, সম্প্রতি স্বাক্ষরিত ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ আসলে সেই পুরোনো মার্কিন নীতিরই নতুন সংস্করণ। এই চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের স্বার্থরক্ষাই মূল লক্ষ্য বলে মনে করছেন অনেকে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চুক্তিটিকে স্বাগত জানিয়ে নিজেকে ‘খুবই আনন্দিত’ বলে ঘোষণা করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তি মূলত ১৯৫৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র-প্রযোজিত সেন্ট্রাল ট্রিটি অর্গানাইজেশন (সেন্টো), যা ‘বাগদাদ প্যাক্ট’ নামে বেশি পরিচিত, তার আদলে গঠিত। সেন্টোর সদস্যদের মধ্যে ছিল ব্রিটেন, তুরস্ক, শাহ-শাসিত ইরান, পাকিস্তান ও ইরাক। মার্কিনরা জর্ডানকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য চেষ্টা করেছিল, কিন্তু বাদশাহ হোসেনের ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও সাম্রাজ্যবাদবিরোধী জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের মুখে তা ব্যর্থ হয়।
১৯৫৭ সালের জানুয়ারিতে ঘোষিত ‘আইজেনহাওয়ার ডকট্রিন’-এর মূল লক্ষ্য ছিল মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের প্রশাসনিক কাঠামো তৈরি করা। সেই ডকট্রিন অনুসারে, সোভিয়েত ও কমিউনিস্টদের তৎপরতা থেকে তথাকথিত ‘মুক্ত’ রাষ্ট্রগুলোকে রক্ষা করা ছিল মূল উদ্দেশ্য। প্রেসিডেন্ট আইজেনহাওয়ার মনে করতেন, মধ্যপ্রাচ্যের পবিত্র স্থানগুলো যাতে ‘ঈশ্বরহীন বস্তুবাদীদের’ নিয়ন্ত্রণে না যায়, সেজন্য যুক্তরাষ্ট্রকে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।
"মধ্যপ্রাচ্য হলো তিনটি প্রধান ধর্ম—ইসলাম, খ্রিষ্ট ও ইহুদি ধর্মের উৎপত্তিস্থল। মক্কা ও জেরুজালেম কেবল মানচিত্রের দুটি স্থান নয়। এগুলো সেই সব ধর্মের প্রতীক, যা শেখায় যে বস্তুর ওপর আত্মার প্রাধান্য রয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মধ্যপ্রাচ্য
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ডোনাল্ড ট্রাম্প, জন ফস্টার ডালেস, বাদশাহ হোসেন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৯৫৫ (বাগদাদ প্যাক্ট গঠন), ১৯৭৯ (ইরান বেরিয়ে যাওয়া)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!