📌 মার্কো রুবিও উজবেকিস্তানের সিল্ক রোড শহর সামারকান্ডে সফর করছেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নীতির অংশ হিসেবে কেন্দ্রীয় এশিয়া চায় পুঁজিবাদী, লেনদেনভিত্তিক সম্পর্ক — নৈতিকতা বা গণতন্ত্রের কথা বলা ছাড়াই। পশ্চিমা দেশের নৈতিকতা-গণতন্ত্রের শিক্ষা কেন্দ্রীয় এশিয়ার নেতাদের চীনের দিকে ঝুঁকিয়ে দিয়েছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সোমবার (১৭ অক্টোবর) উজবেকিস্তানের ঐতিহাসিক সিল্ক রোড শহর সামারকান্ডে উপস্থিত হন। সেখানে তিনি সপ্তাহব্যাপী সি৫+১ (কেন্দ্রীয় এশিয়া প্লাস মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র) শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেবেন। এই সম্মেলন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় এশিয়ার প্রতি নতুন নীতির প্রতীক — যা সম্পূর্ণ লেনদেনভিত্তিক এবং নৈতিকতা বা গণতন্ত্রের কথা বলা ছাড়াই।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ১৭ অক্টোবর উজবেকিস্তানের সামারকান্ডে সি৫+১ শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন, যেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নীতির পরিবর্তন স্পষ্ট — নৈতিকতা বা গণতন্ত্রের কথা ছাড়াই লেনদেনভিত্তিক সম্পর্ক চায় কেন্দ্রীয় এশিয়া।
- 📌 ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলি কেন্দ্রীয় এশিয়ার নেতাদেরকে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার বিষয়ে শিক্ষা দিত, কিন্তু তাদের নৈতিকতা-গণতন্ত্রের শিক্ষা কেন্দ্রীয় এশিয়ার নেতাদের চীনের দিকে ঝুঁকিয়ে দিয়েছে।
- 📌 উজবেকিস্তানের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ইসলাম কারিমভ ২০০১ সালে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের অনুমতি দিয়েছিলেন, কিন্তু ২০০৫ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আন্দিজান গণহত্যা নিন্দা করার পর ঘাঁটি বন্ধ করে দেন।
- 📌 রাশিয়া কেন্দ্রীয় এশিয়ায় ‘রুশ বিশ্ব’ ধারণা প্রচার করে, যেখানে অঞ্চলটিকে রাশিয়ার ‘নিকটবর্তী বিদেশ’ হিসেবে দেখানো হয় এবং সেখানে রাশিয়ান ভাষা ও সংস্কৃতিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।
- 📌 রাশিয়া কেন্দ্রীয় এশিয়ার শ্রমিকদেরকে ইউক্রেন যুদ্ধে লড়াইয়ে জড়িয়ে দিচ্ছে, যেখানে তারা মাইক্রোচিপ, যোগাযোগ সরঞ্জাম ও ড্রোন তৈরিতে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি সরবরাহ করছে।
📰 বিস্তারিত
১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর কেন্দ্রীয় এশিয়া অর্থনৈতিক অবনতি, বেকারত্ব ও দারিদ্র্যের সম্মুখীন হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলি এই অঞ্চলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের প্রচার করে। তারা কেন্দ্রীয় এশিয়ার নেতাদেরকে সোভিয়েত যুগের কর্তৃত্ববাদী শাসন ব্যবস্থা ত্যাগ করতে বলত। পশ্চিমা দেশগুলি অর্থনৈতিক সহায়তা, প্রযুক্তি ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দিতে রাজি ছিল — শর্তে তাদেরকে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার বিষয়ে শিক্ষা নিতে হবে।
কিন্তু পশ্চিমা দেশগুলির নৈতিকতা-গণতন্ত্রের শিক্ষা কেন্দ্রীয় এশিয়ার নেতাদের চীনের দিকে ঝুঁকিয়ে দিয়েছে। উজবেকিস্তানের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ইসলাম কারিমভের কন্যা গুলনারা কারিমভাকে মার্কিন সরকারের একটি লিকড ডিপ্লোম্যাটিক কেবলে “রব্বার ব্যারন” (দুর্নীতিবাজ শাসক) হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। কারিমভের পরিবার ও বন্ধুদেরকে সরকারি পদে নিয়োগ দেওয়া হত এবং তারা ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য গড়ে তুলত, যা পশ্চিমা বিনিয়োগকারীদের সাথে প্রতিযোগিতা করত।
রাশিয়ার পক্ষ থেকে, ভ্লাদিমির পুতিনের শাসনামলে ‘রুশ বিশ্ব’ ধারণা প্রচার করা হচ্ছে, যেখানে কেন্দ্রীয় এশিয়া রাশিয়ার ‘নিকটবর্তী বিদেশ’ হিসেবে বিবেচিত। রাশিয়া কেন্দ্রীয় এশিয়ার সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তার করে — চলচ্চিত্র, সঙ্গীত, নাটক ও টেলিভিশন মাধ্যমে। রাশিয়া কেন্দ্রীয় এশিয়ার গ্যাস সরবরাহ করে এবং ইউক্রেন যুদ্ধে তাদের শ্রমিকদেরকে লড়াইয়ে জড়িয়ে দিচ্ছে।
"কখনো পশ্চিমা দেশগুলি নৈতিকতা ও গণতন্ত্রের কথা বলতে শুরু করল, শিক্ষা দিতে শুরু করল — তখনই তারা চীনের দিকে ঝুঁকতে শুরু করে।"
— গালিয়া ইব্রাগিমোভা, উজবেকিস্তান-জাতীয় কেন্দ্রীয় এশিয়া বিশেষজ্ঞ
রাশিয়া কেন্দ্রীয় এশিয়ায় প্রভাব বিস্তার করতে চায়, কিন্তু তাদের নৈতিকতা-গণতন্ত্রের শিক্ষা পশ্চিমা দেশগুলির মতোই। রাশিয়া কেন্দ্রীয় এশিয়ার কোম্পানিগুলিকে মাইক্রোচিপ, যোগাযোগ সরঞ্জাম ও ড্রোন তৈরিতে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি সরবরাহ করে। এছাড়াও, রাশিয়া কেন্দ্রীয় এশিয়ার রাজনৈতিক বিরোধীদেরকে বিতর্কিতভাবে বন্দী করে এবং তাদেরকে রাশিয়ায় ফিরিয়ে দেয়।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সামারকান্ড, উজবেকিস্তান
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন, উজবেকিস্তানের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ইসলাম কারিমভ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩৭ মিলিয়ন (উজবেকিস্তানের জনসংখ্যা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!