📌 মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (HRW) জানিয়েছে, মালির সামরিক বাহিনী ও রুশ নিয়ন্ত্রিত প্যারামিলিটারি গোষ্ঠী আফ্রিকা কর্পস নিরপরাধ নাগরিকদের হত্যা ও আহত করছে। সংস্থাটি বলেছে, এই অপরাধগুলো আন্তর্জাতিক মানবতাবিরোধী আইনের লঙ্ঘন
মালির সামরিক বাহিনী ও রুশ নিয়ন্ত্রিত প্যারামিলিটারি গোষ্ঠী আফ্রিকা কর্পস আন্তর্জাতিক মানবতাবিরোধী আইনের লঙ্ঘন করে নিরপরাধ নাগরিকদের হত্যা ও আহত করছে। একইসাথে বিরোধী অস্ত্রধারী গোষ্ঠীও আইনের বিরুদ্ধে অপরাধ করছে। মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (HRW) এই দাবি করেছে। সংস্থাটি বলেছে, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও সরকারসমূহ এই অপরাধের বিরুদ্ধে নীরব থাকায় এই ধরনের অপরাধ বাড়ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মালির সামরিক বাহিনী ও রুশ নিয়ন্ত্রিত আফ্রিকা কর্পস ৩০ জনের সাথে সাক্ষাৎকার নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, যেখানে বলা হয়েছে, তারা নিরপরাধ নাগরিকদের হত্যা ও আহত করেছে।
- 📌 জুলাই ২৯ তারিখ কিডাল অঞ্চলে একটি স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ড্রোন হামলায় ক্ষতি হয়, আর আগস্ট ১৯ তারিখ বান্দিয়াগারা অঞ্চলের একটি বাজারে ড্রোন হামলায় ছয়জন নিহত ও অন্তত ২০ জন আহত হয়।
- 📌 সেগু অঞ্চলে সামরিক বাহিনী পাঁচজন মেয়েকে গুলি করে হত্যা করে, আর মপ্তি অঞ্চলে সামরিক-সমর্থিত ডোজো মিলিশিয়া তিনজন নাগরিককে হত্যা করে।
- 📌 জামা’আত নুসরাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন (জেএনআইএম) ও আলজাজওয়াত তহরির ফ্রন্টের লড়াইয়ে ১৯ জন মালিয়ান সৈনিককে ধরে নিয়ে তারা তাদেরকে নির্যাতন ও হত্যা করে।
- 📌 HRW জানায়, এপ্রিল থেকে আগস্ট পর্যন্ত মালিয়ান বাহিনী ও আফ্রিকা কর্পসের ৪৯টি বিমান হামলায় ৮৯ জন নাগরিক নিহত হয়, যা একই সময়ে গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণ বেশি।
- 📌 HRW মালির প্রতিরক্ষা মন্ত্রীকে আগস্ট ৫ তারিখে তাদের খুঁটিনাটি তথ্য ও প্রশ্নপত্র পাঠিয়েছিল, কিন্তু কোনো প্রতিক্রিয়া পায়নি।
📰 বিস্তারিত
মালি দেশে ২০১২ সাল থেকে সামরিক বাহিনী ও তাদের রুশ সমর্থিত গোষ্ঠীগুলির সাথে বিভিন্ন অস্ত্রধারী গোষ্ঠীর মধ্যে লড়াই চলছে। এই লড়াইয়ে নিরপরাধ নাগরিকদের উপর নানা ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘন ঘটছে। HRW-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মালির সামরিক বাহিনী ও আফ্রিকা কর্পসের সদস্যরা নিরপরাধ নাগরিকদের হত্যা ও আহত করেছে। সংস্থাটি বলেছে, এই অপরাধগুলো আন্তর্জাতিক মানবতাবিরোধী আইনের লঙ্ঘন।
HRW-এর প্রতিবেদনটি ৩০ জনের সাথে সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে, যাদের মধ্যে ছিল সাক্ষী, মানবাধিকার কর্মী, সম্প্রদায়ের নেতা, জার্নালিস্ট এবং একটি মালিয়ান সৈনিক। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামরিক বাহিনী ও আফ্রিকা কর্পসের সদস্যরা নিরপরাধ নাগরিকদের হত্যা ও আহত করেছে।
HRW-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, জুলাই ২৯ তারিখ কিডাল অঞ্চলে একটি স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ড্রোন হামলায় ক্ষতি হয়। আর আগস্ট ১৯ তারিখ বান্দিয়াগারা অঞ্চলের একটি বাজারে ড্রোন হামলায় ছয়জন নিহত ও অন্তত ২০ জন আহত হয়। এই হামলাগুলো ছিল অপরাধমূলক এবং নিরপরাধ নাগরিকদের লক্ষ্য করে করা হয়েছিল।
সেগু অঞ্চলে সামরিক বাহিনী পাঁচজন মেয়েকে গুলি করে হত্যা করে, আর মপ্তি অঞ্চলে সামরিক-সমর্থিত ডোজো মিলিশিয়া তিনজন নাগরিককে হত্যা করে। এই ঘটনাগুলোও ছিল আইনের বিরুদ্ধে এবং কোনো ধরনের শাস্তি পায়নি।
জামা’আত নুসরাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন (জেএনআইএম) ও আলজাজওয়াত তহরির ফ্রন্টের লড়াইয়ে ১৯ জন মালিয়ান সৈনিককে ধরে নিয়ে তারা তাদেরকে নির্যাতন ও হত্যা করে। জেএনআইএম এই ঘটনার স্বীকৃতি দিয়েছে, কিন্তু বলেছে তারা সৈনিকদের হত্যা করার আদেশ দেনি। অন্যদিকে, আলজাজওয়াত তহরির ফ্রন্ট বলেছে তারা সামরিক বাহিনী ও রুশ বাহিনীর সাথে লড়াই করেছিল, কিন্তু সৈনিকদের হত্যা করেনি।
"আন্তর্জাতিক সংস্থা ও সরকারসমূহ এই অপরাধের বিরুদ্ধে নীরব থাকায় এই ধরনের অপরাধ বাড়ছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মালি (কিডাল, বান্দিয়াগারা, সেগু, মপ্তি, গাও অঞ্চল)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (HRW), জামা’আত নুসরাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন (জেএনআইএম), আলজাজওয়াত তহরির ফ্রন্ট, আফ্রিকা কর্পস
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩০ জন সাক্ষাৎকারগ্রাহক, ৮৯ জন নিহত নাগরিক, ৪৯টি বিমান হামলা, ১৯ জন সৈনিক, ৬ জন বাজার হামলায় নিহত
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!