📌 মদিনার একটি প্রধান বিদ্যুৎ বিতরণ কেন্দ্রে ড্রোন হামলার অভিযোগ উঠেছে। সৌদি জোট হুথি গোষ্ঠীকে দায়ী করে, কিন্তু তারা এই দাবিকে মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। ইয়েমেনের তাইজ প্রদেশে সরকারি বাহিনী ও হুথির মধ্যে সংঘর্ষে ৩০ হুথি নিহত হয়
মদিনার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ বিতরণ কেন্দ্রে ড্রোন হামলার অভিযোগ উঠেছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট এই হামলার জন্য ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীকে দায়ী করেছে, কিন্তু হুথি গোষ্ঠী এই দাবিকে পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছে। সংবাদমাধ্যমের তথ্যানুযায়ী, গত মঙ্গলবার (১ অক্টোবর) মদিনার একটি প্রধান বিদ্যুৎ বিতরণ কেন্দ্রে এই হামলা চালানো হয়। হামলায় কেন্দ্রটির একটি ট্রান্সফরমার বিকল হয়ে পড়ে, তবে বিকল্প ব্যবস্থায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সৌদি জোটের দাবি: মদিনার বিদ্যুৎকেন্দ্রে ড্রোন হামলায় হুথি গোষ্ঠীর সরাসরি জড়িততা
- 📌 হুথি গোষ্ঠী: এই অভিযোগকে 'মিথ্যা ও সাজানো' বলে প্রত্যাখ্যান করেছে
- 📌 সৌদি জোট সীমান্তে প্রতিহত করেছে চারটি ড্রোন ও দুটি ক্ষেপণাস্ত্র
- 📌 ইয়েমেনের তাইজ প্রদেশে সরকারি বাহিনী ও হুথির মধ্যে সংঘর্ষে ৩০ হুথি নিহত
- 📌 বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা বেড়েছে ১ লাখ ৯৭ হাজার ৯০৬ জন
📰 বিস্তারিত
সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের দাবি, মদিনার বিদ্যুৎ বিতরণ কেন্দ্রে চালানো ড্রোন হামলার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে হুথি বিদ্রোহীরাই সরাসরি জড়িত। তারা দাবি করেছে, মক্কার মসজিদুল হারাম ও মদিনার মসজিদে নববীকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে এই ধারাবাহিক ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে এই হামলা চালানো হয়েছে। তাদের মতে, বিশ্বজুড়ে মুসলিমদের অনুভূতিতে আঘাত হানার অপচেষ্টা করা হচ্ছে। তবে হুথিদের নিয়ন্ত্রিত বার্তা সংস্থা সাবার প্রতিবেদনে এই অভিযোগকে পুরোপুরি 'মিথ্যা ও সাজানো' বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। হুথির এক সামরিক কর্মকর্তা দাবি করেছেন, পূর্বে মক্কায় হামলার যে ভুয়া অভিযোগ সৌদি আরব তুলেছিল, তার কোনো প্রমাণ হাজির করতে না পেরে সেই ব্যর্থতা ঢাকতেই এখন মদিনার ঘটনার নাটক সাজানো হচ্ছে।
সৌদি জোটের সামরিক সূত্র জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সৌদি সীমান্তে হুথির ছোড়া চারটি ড্রোন এবং দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে প্রতিহত ও ধ্বংস করা হয়েছে। এদিকে ইয়েমেনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় তাইজ প্রদেশে সরকারি বাহিনীর সঙ্গে হুথিদের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে অন্তত ৩০ হুথি যোদ্ধা নিহত হয়েছে। সামরিক সূত্রের তথ্যানুযায়ী, বুধবার সন্ধ্যায় তাইজের পশ্চিমে জাবাল হাবাশি, মাকবানাহ এবং দক্ষিণ-পূর্বের আল-আকরুদ ফ্রন্টে হুথিরা প্রচণ্ড গোলাবর্ষণ চালালে তুমুল সংঘর্ষ বাধে। এতে আল-আকরুদ যুদ্ধক্ষেত্রেই অন্তত ৩০ হুথি সদস্য নিহত এবং বহু যোদ্ধা আহত হয়। এছাড়া তাইজের বিভিন্ন ফ্রন্টে সরকারি বাহিনীর চালানো ছয়টি নিখুঁত বিমান হামলায় হুথিদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
ইয়েমেনে সংঘাতের কারণে অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা নতুন করে বেড়েছে। দেশটির বাস্তুচ্যুত শিবির ব্যবস্থাপনা ইউনিটের তথ্যানুযায়ী, বুধবার পর্যন্ত ২৯ হাজার ৫১৯টি পরিবারের মোট ১ লাখ ৯৭ হাজার ৯০৬ জন বাস্তুচ্যুত মানুষের নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে। এদের মধ্যে ৯৭ হাজারের বেশি বাস্তুচ্যুত মানুষ আশ্রয় নিয়েছে সংঘাতকবলিত তাইজ প্রদেশে, আর লাহিজ প্রদেশে আরও ৫০ হাজারের বেশি বাস্তুচ্যুত মানুষ আশ্রয় নিয়েছে।
"মক্কায় হামলার যে ভুয়া অভিযোগ সৌদি আরব তুলেছিল, তার কোনো প্রমাণ হাজির করতে না পেরে সেই ব্যর্থতা ঢাকতেই এখন মদিনার ঘটনার নাটক সাজানো হচ্ছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মদিনা (সৌদি আরব), তাইজ প্রদেশ (ইয়েমেন), সৌদি সীমান্ত
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সৌদি জোটের সামরিক কর্মকর্তা, হুথির সামরিক কর্মকর্তা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩০ হুথি নিহত, ১ লাখ ৯৭ হাজার ৯০৬ জন বাস্তুচ্যুত
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!