📌 লন্ডনের সদবিস নিলামে বাংলাদেশের চার শিল্পীর ৭৩টি দক্ষিণ এশীয় আধুনিক ও সমকালীন শিল্পকর্মের মোট বিক্রয় ৩১৭ কোটি টাকা। ৯টি বিশ্ব রেকর্ড গড়া হয়, ৯৯ শতাংশ চিত্রকর্ম বিক্রি হয়। বাংলাদেশের শিল্পকর্মের আন্তর্জাতিক চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন শিল্প ইতিহাসবিদ আবুল মনসুর
লন্ডনের সদবিস নিলামে বাংলাদেশের চার শিল্পীর চিত্রকর্মের সাফল্য নতুন রেকর্ড গড়েছে। দক্ষিণ এশীয় আধুনিক ও সমকালীন শিল্পকলা বিভাগের নিলামে বাংলাদেশের শিল্পকর্মের চাহিদা বিশ্বব্যাপী বৃদ্ধি পেয়েছে। ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত এই নিলামে বাংলাদেশের চার শিল্পী — এস এম সুলতান, মোহাম্মদ কিবরিয়া, আমিনুল ইসলাম ও রশিদ চৌধুরী — এর চারটি চিত্রকর্ম বিশেষ আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 লন্ডনের সদবিস নিলামে বাংলাদেশের চার শিল্পীর ৭৩টি দক্ষিণ এশীয় শিল্পকর্মের মোট বিক্রয় ১৯.৮ মিলিয়ন পাউন্ড (প্রায় ৩১৭ কোটি টাকা)।
- 📌 ৯৯ শতাংশ চিত্রকর্ম বিক্রি হয়, যার মধ্যে ৮৯ শতাংশ সর্বোচ্চ আনুমানিক মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হয়।
- 📌 এই নিলামে ৯টি বিশ্ব রেকর্ড গড়া হয়, যার মধ্যে রয়েছে মোহন শর্মা, ভূপেন খাক্কর, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরসহ দক্ষিণ এশীয় শিল্পীদের চিত্রকর্ম।
- 📌 রশিদ চৌধুরীর ব্যতিক্রমী চক্রাকার ট্যাপেস্ট্রি বাংলাদেশের শিল্পকর্মের মধ্যে অন্যতম আকর্ষণ ছিল।
- 📌 সদবিসের দক্ষিণ এশীয় শিল্পকলা বিভাগের ইতিহাসে সর্বোচ্চ মোট বিক্রয় রেকর্ড গড়া হয় এই নিলামে।
- 📌 চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক আবুল মনসুর বলেন, আন্তর্জাতিক নিলামে বাংলাদেশের শিল্পকর্মের চাহিদা বাড়ছে, তবে নকল ছবির চেষ্টাও দেখা যায়।
- 📌 সদবিসের ওয়াল্ডওয়াইড হেড মঞ্জরী সিহারে সুতিন বলেন, দক্ষিণ এশীয় শিল্পকলার আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা ক্রমবর্ধমান।
📰 বিস্তারিত
২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে লন্ডনে অনুষ্ঠিত সদবিসের ‘দক্ষিণ এশীয় আধুনিক ও সমকালীন শিল্পকলা’ নিলামে বাংলাদেশের চার শিল্পীর চারটি চিত্রকর্ম বিশেষ সাড়া ফেলেছে। এই নিলামে মোট ৭৩টি লটে দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন শিল্পীর চিত্রকর্ম উপস্থাপিত হয়েছিল। বাংলাদেশের অংশগ্রহণকারী শিল্পীদের মধ্যে ছিলেন এস এম সুলতান, মোহাম্মদ কিবরিয়া, আমিনুল ইসলাম ও রশিদ চৌধুরী। রশিদ চৌধুরীর একটা ব্যতিক্রমী চক্রাকার ট্যাপেস্ট্রি বাংলাদেশের শিল্পকর্মের মধ্যে অন্যতম আকর্ষণ ছিল।
নিলামে মোট ১৯.৮ মিলিয়ন পাউন্ড (প্রায় ৩১৭ কোটি টাকা) মূল্যের চিত্রকর্ম বিক্রি হয়। ৯৯ শতাংশ চিত্রকর্ম বিক্রি হয়, যার মধ্যে ৮৯ শতাংশ সর্বোচ্চ আনুমানিক মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হয়। এই নিলামে ৯টি বিশ্ব রেকর্ড গড়া হয়, যার মধ্যে রয়েছে মোহন শর্মা, ভূপেন খাক্কর, হুগো ভিলফ্রেড পেডারসেন, অলিন্টো গিলার্ডি, অ্যান্টোনিও পিয়েদাদে দা ক্রুজ, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সুনয়নী দেবী, গোপাল ঘোষ ও ধ্রুব মিস্ত্রীর চিত্রকর্ম।
সদবিসের দক্ষিণ এশীয় শিল্পকলা বিভাগের ওয়াল্ডওয়াইড হেড মঞ্জরী সিহারে সুতিন বলেন, ‘এই নিলাম আমাদের বিভাগের ইতিহাসে সর্বোচ্চ মোট বিক্রয় রেকর্ড। এটি দক্ষিণ এশীয় শিল্পকলার আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা ও বাজারের গভীরতা প্রতিফলিত করে।’ তিনি আরও বলেন, ‘বাজারের পরিধি ক্রমবর্ধমান এবং সংগ্রাহকরা শুধু সুপরিচিত শিল্পীদের কাজ নয়, অঞ্চলের বিভিন্ন শিল্পী ও শিল্প ইতিহাসের প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছেন।’
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ও বিশিষ্ট শিল্প ইতিহাসবিদ আবুল মনসুর বলেন, ‘বাংলাদেশের শিল্পকর্মের আন্তর্জাতিক নিলামে উপস্থিতি ইতিবাচক। তবে নকল ছবির চেষ্টাও দেখা যায়।’ তিনি উল্লেখ করেন, ‘এই প্রবণতা শিল্পকলার আন্তর্জাতিক মর্যাদা বৃদ্ধি করছে।’
"আমাদের বিভাগের ইতিহাসে সর্বোচ্চ মোট বিক্রয় রেকর্ড গড়া হয়েছে। দক্ষিণ এশীয় শিল্পকলার আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা ও বাজারের গভীরতা প্রতিফলিত হয়েছে এই ফলাফলে।"
"দক্ষিণ এশিয়ার শিল্পকলা এক অনন্য ও বৈচিত্র্যময় জগৎ। বাজারের পরিধি উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং সংগ্রাহকরা শিল্প ইতিহাসের প্রতি গভীর আগ্রহ দেখাচ্ছেন।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: লন্ডন, যুক্তরাজ্য
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মঞ্জরী সিহারে সুতিন (সদবিস), আবুল মনসুর (শিল্প ইতিহাসবিদ), রশিদ চৌধুরী (শিল্পী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩১৭ কোটি টাকা (মোট বিক্রয়), ৭৩টি চিত্রকর্ম, ৯টি বিশ্ব রেকর্ড, ৯৯ শতাংশ বিক্রি, ৮৯ শতাংশ উচ্চ মূল্যে বিক্রি
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!