📌 লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশ ইসরায়েলের সাথে সম্পর্ক মজবুত করার পথে এগিয়ে যাচ্ছে। ইসরায়েলের বিদেশমন্ত্রী গিডিয়ন সার বলেছেন, জেরুজালেমে কোলম্বিয়ার দূতাবাস স্থানান্তর একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশল। রাজনৈতিক ও ধর্মীয় কারণসহ বিভিন্ন কারণেই এই সম্পর্কের উন্নতি ঘটছে।
লাতিন আমেরিকার বেশ কয়েকটি দেশ ইসরায়েলের সাথে সম্পর্ক মজবুত করার পথে এগিয়ে যাচ্ছে। এই সম্পর্কের উন্নতির পেছনে রয়েছে রাজনৈতিক পরিবর্তন, ধর্মীয় প্রভাব এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সার্বভৌমতন্ত্রের সন্ধান। ইসরায়েলের বিদেশমন্ত্রী গিডিয়ন সার ৮ অক্টোবর ঘোষণা করেন যে, কোলম্বিয়া তার দূতাবাস জেরুজালেমে স্থানান্তর করবে। তিনি বলেন, এই পদক্ষেপ ইসরায়েলের বৈদেশিক কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং লাতিন আমেরিকার সরকারগুলোর সাথে সম্পর্কের উন্নতির প্রতীক।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 গিডিয়ন সার বলেছেন, “আমরা কঠোর পরিশ্রম করব কারণ এটি সত্যের বৈদেশিক যুদ্ধ। জেরুজালেম সর্বদা এক জাতির রাজধানী ছিল।”
- 📌 ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা এবং তার প্রতিদ্বন্দ্বী ফ্লাভিও বলসোনারো ইসরায়েলের সাথে সম্পর্কের বিষয়ে প্রতিযোগিতা করছেন। বলসোনারোর ইসরায়েলের সাথে সম্পর্কের প্রতি সমর্থন তার নির্বাচনী প্রচারণায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।
- 📌 কোলম্বিয়া এবং ইসরায়েলের মধ্যে ভিসা মুক্ত ভ্রমণের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, যা তাদের সম্পর্কের উন্নতির একটি সাক্ষ্য।
- 📌 আবেলার্দো ডি লা এস্প্রিয়েলা সরকার কোলম্বিয়ার দূতাবাসকে জেরুজালেমে স্থানান্তর করার পরিকল্পনা করেছে এবং ইসরায়েলের অধিকৃত সিরিয়ান অঞ্চল গোলান হাইটসের নিয়ন্ত্রণ স্বীকৃতি দিয়েছে।
- 📌 লাতিন আমেরিকার রাজনৈতিক পরিবর্তন এবং ইভাঞ্জেলিক্যাল খ্রিস্টান গোষ্ঠীর প্রভাব এই সম্পর্কের উন্নতির মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
📰 বিস্তারিত
লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর সাথে ইসরায়েলের সম্পর্কের উন্নতির পেছনে একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো এই অঞ্চলে ডানপন্থী সরকারগুলোর উত্থান। এই সরকারগুলো ইসরায়েলের প্রতি সমর্থন প্রদর্শন করে তাদের নির্বাচনী ভোটের ভিত্তি তৈরি করছে। ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভা, যিনি প্যালেস্টাইন সমর্থক, তার প্রতিদ্বন্দ্বী ফ্লাভিও বলসোনারোর ইসরায়েলের সাথে সম্পর্কের প্রতি সমর্থন তার নির্বাচনী প্রচারণায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। বলসোনারো ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনজামিন নেটানিয়াহুর সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেছেন এবং ইসরায়েলের সাথে সম্পর্কের উন্নতির প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
কোলম্বিয়ার নতুন সরকার আবেলার্দো ডি লা এস্প্রিয়েলা ইসরায়েলের সাথে সম্পর্কের উন্নতির জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছেন। তিনি কোলম্বিয়ার দূতাবাসকে জেরুজালেমে স্থানান্তর করার ঘোষণা দিয়েছেন এবং ইসরায়েলের সাথে ভিসা মুক্ত ভ্রমণের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এছাড়াও, তিনি ইসরায়েলের অধিকৃত সিরিয়ান অঞ্চল গোলান হাইটসের নিয়ন্ত্রণ স্বীকৃতি দিয়েছেন। এই পদক্ষেপগুলো ইসরায়েলের সাথে সম্পর্কের উন্নতির একটি অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
লাতিন আমেরিকার রাজনৈতিক বিশ্লেষক মার্টা তাওয়িল কুরি বলেছেন, এই সম্পর্কের উন্নতির পেছনে রয়েছে ডানপন্থী নেতৃত্বের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সার্বভৌমতন্ত্রের সন্ধান, ইভাঞ্জেলিক্যাল খ্রিস্টানদের নির্বাচনী ও আদর্শগত ভিত্তি এবং ইসরায়েলের বৈদেশিক কৌশল। তিনি বলেন, “এটি একক কারণ নয়, বরং একাধিক কারণের সমন্বয়। ডানপন্থী নেতৃত্ব মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন পেতে চায়, ইভাঞ্জেলিক্যাল খ্রিস্টানরা তাদের নির্বাচনী ভিত্তি তৈরি করতে চায় এবং ইসরায়েলের বৈদেশিক কৌশল এই অঞ্চলে ফলপ্রসূ হচ্ছে, যেখানে ইসরায়েলের চিত্র অন্যান্য অঞ্চলে হ্রাস পাচ্ছে।”
কোলম্বিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেট্রো ইসরায়েলের সাথে সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করেছিলেন, কারণ তিনি গাজার যুদ্ধকে গণহত্যা হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। তিনি কোলম্বিয়ার কোলকে ইসরায়েলে রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছিলেন এবং সামরিক সহযোগিতার চুক্তি বাতিল করেছিলেন। পেট্রোর স্থলাভিষিক্ত ডি লা এস্প্রিয়েলা সরকার এই অবস্থানকে সম্পূর্ণ বিপরীত করেছেন এবং দ্রুত ইসরায়েলের সাথে সম্পর্কের উন্নতির পদক্ষেপ নিচ্ছেন।
"আমরা কঠোর পরিশ্রম করব কারণ এটি সত্যের বৈদেশিক যুদ্ধ। জেরুজালেম সর্বদা এক জাতির রাজধানী ছিল।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: লাতিন আমেরিকা, ব্রাজিল, কোলম্বিয়া, নিউ ইয়র্ক সিটি
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: গিডিয়ন সার (ইসরায়েলের বিদেশমন্ত্রী), লুলা দা সিলভা (ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট), ফ্লাভিও বলসোনারো (ব্রাজিলের সিনেটর), আবেলার্দো ডি লা এস্প্রিয়েলা (কোলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট), মার্টা তাওয়িল কুরি (বিশ্লেষক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮ অক্টোবর (ঘোষণা তারিখ), ৩টি দেশ (কোলম্বিয়া, ভেনেজুয়েলা, এল সালভাদোর)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!