📌 কসোভোর সংসদে হেগের যুদ্ধাপরাধ আদালতের ক্ষমতা সীমাবদ্ধ করার বিরুদ্ধে বিক্ষোভকারীদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষে ১২ জন আহত হয়। এই বিক্ষোভে কসোভো লিবারেশন আর্মির (KLA) সমর্থক ও সাবেক সৈনিকরা অংশ নিয়েছিলেন। সংসদে পাস হওয়া প্রস্তাবিত আইন অনুযায়ী, ২৫ বছরের কারাদণ্ড থেকে ১৫ বছরের সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হবে এবং কারাদণ্ড কসোভোতে কাটানো যাবে
কসোভোর রাজধানী প্রিস্টিনায় সংসদ ভবনের বাইরে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষে ১২ জন আহত হয়। এই সংঘর্ষের মূল কারণ ছিল হেগের যুদ্ধাপরাধ আদালতের ক্ষমতা সীমাবদ্ধ করার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ। বিক্ষোভকারীরা সংসদে পাস হওয়া প্রস্তাবিত আইনকে নিন্দা জানিয়েছেন, যা কসোভো বিশেষ আদালতের (Kosovo Specialist Chambers) ক্ষমতা সীমাবদ্ধ করে। এই আদালত ১৯৯৮-২০০০ সালের কসোভো যুদ্ধের সময় সংঘটিত যুদ্ধাপরাধের বিচার করে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১২ জন আহত — এর মধ্যে ১১ জন সাধারণ নাগরিক, বিক্ষোভের সময় পুলিশের সাথে সংঘর্ষে আহত হন। হাসপাতালের তদন্ত পরিচালক নাসের সিলা এ তথ্য দেন।
- 📌 বিক্ষোভকারীরা সংসদ ভবন ব্লক করে — কসোভো লিবারেশন আর্মির (KLA) সাবেক সৈনিক ও সমর্থকরা সংসদ সেশনের শেষে আইনসভার সদস্যদের বের হওয়া থেকে রোধ করার চেষ্টা করেন।
- 📌 পুলিশের জবাবদিহিতা — পুলিশ তরল গ্যাস ও জলপ্রবাহের মাধ্যমে বিক্ষোভকারীদের বিতরণের চেষ্টা করে। বিক্ষোভকারীরা ফ্লেয়ার ও আগুনের বোমা ছুঁড়ে দেন।
- 📌 ২৫ বছরের কারাদণ্ড থেকে ১৫ বছরের সীমাবদ্ধতা — প্রস্তাবিত আইনে যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ কারাদণ্ড ১৫ বছরে সীমাবদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়াও, কারাদণ্ড কসোভোতে কাটানো যাবে এবং কসোভোর সুপ্রিম কোর্টে আপিল করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
- 📌 সেপ্টেম্বর মাসে ৪ জনের বিরুদ্ধে ২৫ বছরের কারাদণ্ড — ১৬ সেপ্টেম্বর, সাবেক রাষ্ট্রপতি হাশিম থাচি ও তিনজন অন্যান্য সাবেক KLA কমান্ডারের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের দায়ে ২৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তারা সবাই দোষী সাব্যস্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
- 📌 কসোভোর রাষ্ট্রপতি নির্বাচন মেয়াদ শেষ — কসোভোর সংবিধান আদালত ৬ অক্টোবর পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের নির্দেশ দিয়েছে। যদি নির্বাচন হয় না, তাহলে সংসদ ভেঙ্গে দেওয়া হবে এবং নতুন নির্বাচনের আহ্বান দেওয়া হবে।
- 📌 রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের কেন্দ্রবিন্দু — কসোভো ডেমোক্রেটিক পার্টি (PDK) এই আইন প্রণয়নের পক্ষে, কিন্তু প্রধানমন্ত্রী আলবিন কার্তি (Self-Determination Movement) এর নেতৃত্বাধীন সরকার প্রথমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে চায়।
📰 বিস্তারিত
২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হেগের কসোভো বিশেষ আদালত (Kosovo Specialist Chambers) কসোভো যুদ্ধের সময় সংঘটিত যুদ্ধাপরাধের বিচার করে। এই আদালতের বিচারপতিদের আন্তর্জাতিকভাবে নিয়োগ করা হয় এবং এটি কসোভোর বিচারিক ব্যবস্থার একটি স্বতন্ত্র অংশ। তবে, এই আদালতের বিচারকে অত্যধিক শাস্তিমূলক বলে সমালোচনা করা হয়। প্রস্তাবিত আইন অনুযায়ী, যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ কারাদণ্ড ১৫ বছরে সীমাবদ্ধ করা হয়েছে এবং কারাদণ্ড কসোভোতে কাটানো যাবে। এছাড়াও, আপিল করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে কসোভোর সুপ্রিম কোর্টে।
১৬ সেপ্টেম্বর, সাবেক রাষ্ট্রপতি হাশিম থাচি ও তিনজন অন্যান্য সাবেক KLA কমান্ডারের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের দায়ে বিচার হয়। থাচিকে ২৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়, আর অন্যান্য তিনজনকে ১৩ থেকে ২৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এই বিচারপত্রের বিরুদ্ধে কসোভোর সংসদ একমত হয়ে প্রতিবাদ জানায়। এই বিচারপত্রের ফলে কসোভোর রাজনৈতিক অবস্থা আরও জটিল হয়ে পড়ে।
কসোভোর রাজনৈতিক সংকটের একটি প্রধান কারণ হলো রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মেয়াদ শেষ হওয়া। কসোভোর সংবিধান আদালত ৬ অক্টোবর পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের নির্দেশ দিয়েছে। যদি নির্বাচন হয় না, তাহলে সংসদ ভেঙ্গে দেওয়া হবে এবং নতুন নির্বাচনের আহ্বান দেওয়া হবে। এই অবস্থায়, কসোভো ডেমোক্রেটিক পার্টি (PDK) এই আইন পাসের উপর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সমর্থন দিয়েছে, কিন্তু প্রধানমন্ত্রী আলবিন কার্তির নেতৃত্বাধীন সরকার প্রথমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে চায়।
"১২ জন আহত হয়েছে, এর মধ্যে ১১ জন সাধারণ নাগরিক।" — নাসের সিলা, প্রিস্টিনার হাসপাতালের তদন্ত পরিচালক
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: প্রিস্টিনা, কসোভো
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: নাসের সিলা, হাশিম থাচি, আলবিন কার্তি, কসোভো ডেমোক্রেটিক পার্টি (PDK)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১২ জন আহত, ১১ জন সাধারণ নাগরিক, ২৫ বছরের কারাদণ্ড, ১৫ বছরের সীমাবদ্ধতা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!