📌 কলকাতার জ্যোতিনগর কলোনির মুসলিম বাসিন্দাদের পানি ও বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা দুই মাসের বেশি সময় ধরে চলছে। তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সদস্য সমীরুল ইসলাম জাতিসংঘকে চিঠি লিখে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছেন। বাসিন্দারা দাবি করছেন, রাজনৈতিক প্রতিশোধের অংশ হিসেবে এই পরিষেবা বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে
কলকাতার জ্যোতিনগর কলোনির মুসলিম বাসিন্দাদের পানি ও বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা দুই মাসের বেশি সময় ধরে চলছে। এই মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সদস্য সমীরুল ইসলাম জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কাছে চিঠি পাঠিয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে এই ঘটনাটি তুলে ধরেছেন। কলোনিতে বসবাসরত অসংখ্য পরিবার দীর্ঘদিন ধরে পানি ও বিদ্যুৎ সংকটের শিকার হয়ে আছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 কলকাতার জ্যোতিনগর কলোনিতে পানি ও বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা চলছে দুই মাসের বেশি সময় ধরে
- 📌 তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সদস্য সমীরুল ইসলাম জাতিসংঘকে চিঠি লিখে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছেন
- 📌 সমীরুলের দাবি, মে মাসে রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদল হলে রাজনৈতিক প্রতিশোধের অংশ হিসেবে পরিষেবা বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে
- 📌 কলোনিতে পানি সরবরাহ বন্ধের পরপরই বিদ্যুৎও বিচ্ছিন্ন করা হয়, যা বাসিন্দাদের জীবনযাত্রাকে চরম দুর্ভোগে ফেলে দিয়েছে
- 📌 কলোনির জমি কলকাতা বন্দরের মালিকানাধীন, বাসিন্দারা দাবি করছেন জমি খালি করার পরিকল্পনা রয়েছে
📰 বিস্তারিত
কলকাতার উত্তর কলকাতার জ্যোতিনগর কলোনিতে বসবাসরত অসংখ্য মুসলিম পরিবার দীর্ঘদিন ধরে পানি ও বিদ্যুৎ সংকটের শিকার। এই কলোনিটি শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি পোর্ট ট্রাস্টের অধীন প্রায় ৩ হাজার ৪৭৮ বর্গমিটার জমিতে গড়ে উঠেছে। সমীরুল ইসলামের অভিযোগ, মে মাসে রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদল হলে রাজনৈতিক প্রতিশোধের অংশ হিসেবে এই পরিষেবা বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। তিনি দাবি করেছেন, কলোনির বাসিন্দারা একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় সম্প্রদায়ের হওয়ায় এবং একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের ভোটব্যাংক না হওয়ার কারণে এই অমানবিক সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।
কলোনিতে থাকা পাঁচটি পানির কল থেকে আগে প্রতিদিন ভোর ৫টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্ন পানি পাওয়া যেত। কিন্তু গত ২৯ জুলাই থেকে কলগুলো শুকনা পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, পানির পাইপলাইন বন্ধ হওয়ার ঠিক আগের দিন, অর্থাৎ ২৬ থেকে ২৮ জুলাই পর্যন্ত কলকাতা পৌর সংস্থার মাধ্যমে কলোনির সামনের রাস্তায় পাইপলাইন সংস্কারের কাজ চালানো হয়েছিল। সেই সময় এলাকার পানি সরবরাহ স্বাভাবিক ছিল। তবে ২৮ জুলাই রাত ১১টার দিকে রাস্তা মেরামতের নামে কলোনির মূল পানির সংযোগ রাতের অন্ধকারে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। পরদিন সকাল থেকে পুরো এলাকা পানিশূন্য হয়ে পড়ে। পানির সংকটের পাশাপাশি একই দিনে কলোনির বিদ্যুৎ সরবরাহও হঠাৎ বন্ধ করে দেওয়া হয়।
বাসিন্দারা জানান, বিদ্যুৎ বণ্টনকারী সংস্থা ক্যালকাটা ইলেকট্রিক সাপ্লাই করপোরেশন (সিইএসসি) মূল সড়ক থেকে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ নেওয়া হচ্ছে এমন সন্দেহে বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে দিয়েছিল। যদিও প্রতিটি বাড়িতে বৈধ মিটার ও আলাদা বিল পরিশোধের কাগজপত্র রয়েছে, তা সত্ত্বেও দীর্ঘ ১০ দিন ধরে বিদ্যুৎহীন অবস্থায় থাকতে হয়। পরবর্তী সময়ে স্থানীয় একটি ক্লাবের প্রতিবাদ ও সড়ক দুর্ঘটনা এড়াতে এলাকাটিতে বিদ্যুৎ পরিষেবা আংশিক ও পরে পুরোপুরি পুনর্নির্মাণ করা সম্ভব হয়। তবে পানির সংকট আড়াই মাস পরও অপরিবর্তিতই রয়ে গেছে।
"পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে জাতিসংঘকে বিষয়টি তদন্ত করার অনুরোধ জানিয়েছি। পানিসংকটের কারণে দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত কলোনিবাসীর মধ্যে নানা ধরনের সংক্রামক ব্যাধি ছড়িয়ে পড়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে।"
বাসিন্দারা স্থানীয় কাউন্সিলর, থানার পুলিশ এবং বিজেপির স্থানীয় বিধায়ক রিতেশ তিওয়ারির দ্বারস্থ হলেও কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা জনপ্রতিনিধি কলোনির বাস্তব অবস্থা পর্যালোচনা করতে যাননি। উল্টো বিধায়ক রিতেশ তিওয়ারি তাঁর কাছে যাওয়া নারী প্রতিনিধিদের স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি এই পরিষেবা বিচ্ছিন্ন করার জন্য দায়ী নন এবং তিনি পানি সরবরাহ পুনরুদ্ধারে কোনো উদ্যোগ নেবেন না। বিধানসভা নির্বাচনের ঘোষণার পরপরই তিনি প্রকাশ্যে বলেছিলেন, তিনি আগামী পাঁচ বছর বিশেষ সম্প্রদায়ের জন্য কোনো কাজ করবেন না বা কোনো প্রশংসাপত্র দেবেন না। তাঁর এই ঘোষণা স্থানীয়দের মধ্যে প্রবল ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কলকাতার জ্যোতিনগর কলোনি, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সমীরুল ইসলাম (তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সদস্য)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩ হাজার ৪৭৮ বর্গমিটার জমি, পাঁচটি পানির কল, ২৯ জুলাই থেকে পানি বিচ্ছিন্ন, ১০ দিন বিদ্যুৎহীন অবস্থা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!