📌 কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকায় অবস্থিত একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নয় জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের অধিকাংশই বাংলাদেশি নাগরিক। ভয়াবহ সেই অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়েছেন বেঁচে যাওয়া তিন বাংলাদেশি
কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটে অবস্থিত একটি হোটেলে মঙ্গলবার দিবাগত রাতের অগ্নিকাণ্ডে নয় জনের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। নিহতদের মধ্যে ছয়জন পুরুষ, দুইজন নারী এবং একজন শিশু রয়েছেন। অধিকাংশ নিহতই বাংলাদেশি নাগরিক।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকায় অবস্থিত হোটেলে মঙ্গলবার রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে
- 📌 অগ্নিকাণ্ডে নয় জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে ছয়জন পুরুষ, দুইজন নারী ও একজন শিশু
- 📌 নিহতদের অধিকাংশই বাংলাদেশি নাগরিক
- 📌 বেঁচে যাওয়া তিন বাংলাদেশি ভয়াবহ অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়েছেন
- 📌 হোটেলটিতে কোনো অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র ছিল না বলে অভিযোগ উঠেছে
📰 বিস্তারিত
গাজীপুরের বাসিন্দা মোহাম্মদ আশরাফুল জামাল ব্যবসায়িক কাজে কলকাতায় গিয়েছিলেন। তিনি তাঁর ভাইয়ের সঙ্গে হোটেলের চতুর্থ তলায় অবস্থান করছিলেন। রাত প্রায় দুইটার দিকে হঠাৎ চিৎকার শুনে তাঁদের ঘুম ভেঙে যায়। জানালা দিয়ে দেখতে পান নিচে আগুন লেগেছে বলে লোকজন চিৎকার করছেন। দরজা খোলার সঙ্গে সঙ্গে ঘন ধোঁয়া ঘরে ঢুকে পড়ে। কোনোভাবে ধোঁয়ার মধ্য দিয়ে তাঁরা ছাদে উঠে যান। সেখানে আরও ২০ থেকে ২৫ জন ছিলেন। তাঁরা সবাই পানির ট্যাঙ্কের কাছে অবস্থান নেন।
ঢাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ নাজমুল সরকার হৃদ্রোগের চিকিৎসার জন্য কলকাতায় গিয়েছিলেন। তিনি ওই হোটেলের চতুর্থ তলায় অবস্থান করছিলেন। তিনি জানান, ধোঁয়ার কারণে শ্বাস নিতে পারছিলেন না। হোটেল কর্মীরা বারবার উপরে উঠতে বললেও সরু লোহার সিঁড়ির কারণে একজন করে উঠতে পারছিলেন। তিনি আরও বলেন, গেট খোলার সঙ্গে সঙ্গে ধোঁয়া ভেতরে ঢুকে পড়ে এবং চারপাশ অন্ধকার হয়ে যায়। মোবাইলের টর্চ জ্বালিয়ে কোনোভাবে উপরে উঠে যান তিনি।
হোটেলের কর্মীদের ভূমিকা নিয়েও অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ করা হয়েছে, অগ্নিকাণ্ডের পরও কর্মীরা উদাসীন ছিলেন। এমনকি হোটেলটিতে কোনো অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্রও ছিল না। কাউসার হোসেন নামে আরেক বাংলাদেশি জানান, তাঁরা ঘুমাচ্ছিলেন। হোটেল কর্মীরা এসে দরজা ধাক্কা দিয়ে তাঁদের ডাকেন। পরে তাঁরা হুড়োহুড়ি করে বাইরে বের হয়ে আসেন। তবে তাঁর মনে পড়ে, তাঁদের পাসপোর্ট ঘরেই রয়ে গেছে। পরে তিনি সেই পাসপোর্ট আনতে আবার হোটেলের ভেতরে ঢুকেছিলেন।
"নিচে নামতে পারছিলাম না। কোনোভাবে ধোঁয়ার মধ্যে দিয়ে ওই তলার সবাই ছাদে উঠি। আমরা ২০-২৫ জন ছিলাম। সবাই পানির ট্যাঙ্কের কাছে চলে যাই। বুঝতে পারছিলাম না, কোন দিক থেকে আগুন আসতে পারে। তবে আমরা ঠিক করেছিলাম, আগুনের শিখা দেখতে পেলেই ট্যাঙ্কের পানি নিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করব।"
"একটা সময় মনে হয়েছিল, মরেই যাব। অক্সিজেনের অভাব ছিল। শ্বাস নিতে পারছিলাম না। হোটেলের কর্মচারীরা বারবার বলছিলেন, উপরে উঠুন। কিন্তু উপরে ওঠার রাস্তা এতটাই সরু যে একজন করে উঠতে পারেন। কোথ দিয়ে পালাব, সেটাই বুঝতে পারছিলাম না। পুরোটা ধোঁয়ায় ঢেকে গিয়েছিল। এক হাত দূরেও কিছু দেখতে পাচ্ছিলাম না।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকা, মির্জা গালিব স্ট্রিট
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মোহাম্মদ আশরাফুল জামাল, মোহাম্মদ নাজমুল সরকার, কাউসার হোসেন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: নয়জন নিহত, ছয়জন পুরুষ, দুইজন নারী, একজন শিশু, ২০-২৫ জন ছাদে অবস্থান
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!