📌 কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য বলেছেন, সন্দেহের ভিত্তিতে কাউকে বাংলাদেশি বলে দেশান্তর করা যাবে না। পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ থেকে আটক ব্যক্তির স্ত্রী রিট পিটিশন দাখিল করে আদালতে এই দাবি তুলেছেন। বিচারপতি জানান, আটকের ভিত্তি ছিল প্রতিবেশীদের জবানবন্দি
কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য সন্দেহের ভিত্তিতে কাউকে ‘বাংলাদেশি’ বলে দেশান্তর করা যাবে না বলে স্পষ্ট করে দিয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার এক বাসিন্দাকে আটকে রাখা এবং বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার প্রস্তাব চ্যালেঞ্জ করে করা রিট পিটিশনের শুনানি চলাকালে বিচারপতি এই মন্তব্য করেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সন্দেহের ভিত্তিতে বাংলাদেশি বলে দেশান্তর করা যাবে না — কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন।
- 📌 আটকের ভিত্তি ছিল প্রতিবেশীদের জবানবন্দি — আটক ব্যক্তির স্ত্রী রিট পিটিশনে দাবি করেন, গত ৮ আগস্ট থেকেই তার স্বামীকে আটকে রাখা হয়েছে।
- 📌 দেশান্তর আদেশ স্থগিত — বিচারপতি জানান, আটকের আদেশ আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।
- 📌 দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে আটক — রবিউল ইসলামের মতে, আটক ব্যক্তিকে আটক রাখার ভিত্তি ছিল প্রতিবেশীদের বক্তব্য।
- 📌 ১৩ কোটি ভোটারকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া — ভারতের ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ প্রক্রিয়ায় এই সংখ্যক ভোটারের নাম বাদ পড়েছে।
📰 বিস্তারিত
পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার এক বাসিন্দাকে আটকে রাখা এবং বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার প্রস্তাব চ্যালেঞ্জ করে করা রিট পিটিশনের শুনানি চলাকালে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য বলেছেন, সন্দেহের ভিত্তিতে কাউকে ‘বাংলাদেশি’ বলে দেশান্তর করা যাবে না। বিচারপতি জানান, আটকের ভিত্তি ছিল প্রতিবেশীদের দেওয়া জবানবন্দি।
আটক ব্যক্তির স্ত্রী রিট পিটিশনে দাবি করেন, গত ৮ আগস্ট থেকেই তার স্বামীকে আটকে রাখা হয়েছে। ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিস (এফআরআরও) স্বামীকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার আদেশ চ্যালেঞ্জ করে এই রিট পিটিশন দাখিল করা হয়। বিচারপতি জানান, আটকের আদেশ আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন এই ব্যক্তিকে দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে হেফাজতে আটকে রাখা হয়েছে এবং তাঁর জাতীয়তা নির্ধারণে কোনো পরিষ্কার প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি?
বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য বলেন, ‘কেবল প্রতিবেশীদের জবানবন্দি থেকে তৈরি হওয়া সন্দেহের ভিত্তিতে কাউকে দেশান্তর করা যাবে না।’ তিনি প্রশ্ন করেন, ‘১৯৭০-এর দশক থেকে কত লোক সীমান্ত অতিক্রম করেছেন? তাদের সবাইকে ফেরত পাঠানো কি সম্ভব?’ বিচারপতি মামলাটি প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠিয়ে অনুরোধ করেন, এটি একটি ‘উপযুক্ত বেঞ্চে’ শুনানির জন্য পাঠানো হয়।
বিচারপতি আরও বলেন, ‘সুতরাং, যেকোনো ব্যক্তিকে দেশান্তর করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সরকারের উচিত তার নথিপত্র সঠিকভাবে যাচাই করা। গুটি কয়েক মানুষের জবানবন্দির ওপর ভিত্তি করে কেউ সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারে না যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি একজন অনুপ্রবেশকারী।’
রবিউল ইসলাম, আটক ব্যক্তির আইনজীবী, বলেন, ‘আমার মক্কেল দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে আটক রয়েছেন। তাকে আটকের ভিত্তি ছিল কয়েকজন প্রতিবেশীর বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হওয়া সন্দেহ।’
"কোনো ব্যক্তির নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তাঁকে পর্যাপ্ত সুযোগ দেওয়া উচিত। মনে হচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আবেদনকারীকে কোনো সুযোগই দেয়নি।"
এই ঘটনার পটভূমিতে, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকারের ‘ডিটেইন, ডিলিট, ডিপোর্ট’ নীতি নিয়ে তীব্র বিতর্ক চলছে। এই নীতির অধীনে সন্দেহভাজন ‘বাংলাদেশিদের’ হোল্ডিং সেন্টারে আটকে রাখা এবং দ্রুত বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া হয়। তবে, এই নীতির বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে, অনেক ভারতীয় নাগরিককে জোর করে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।
বিরোধী দল এবং সুশীল সমাজের সংগঠনগুলোর অভিযোগ, বিজেপিকে সুবিধা দেওয়ার জন্য লাখ লাখ প্রকৃত ভোটারকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। ভারতের ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ প্রক্রিয়ায় প্রায় ১৩ কোটি ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। পশ্চিমবঙ্গে তালিকায় নাম বাদ পড়া অনেক মানুষই সরকারি কল্যাণমূলক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং ‘অবৈধ’ ঘোষিত হয়ে দেশান্তরিত হওয়ার আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য, রবিউল ইসলাম, আটক ব্যক্তির স্ত্রী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮ আগস্ট, ১৩ কোটি
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!