📌 কেনিয়ায় প্রথমবারের মতো ইবোলা ভাইরাসে আক্রান্ত একজন ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। ডিআর কঙ্গো থেকে আসা এই ব্যক্তির সংস্পর্শে ২৮ জনেরও বেশি মানুষের সংক্রমণের আশঙ্কা রয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, বর্তমান প্রাদুর্ভাবে ডিআর কঙ্গোতে ৪ হাজারাধিক মৃত্যু হয়েছে
কেনিয়ায় প্রথমবারের মতো ইবোলা ভাইরাসে আক্রান্ত একজন ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো (ডিআর কঙ্গো) থেকে আসা এই ব্যক্তি গত সাত বছর ধরে কঙ্গোতে বসবাস করতেন। কেনিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রী অ্যাডেন ডুয়ালে জানান, ব্যক্তিটি প্রায় এক মাস আগে অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং ডিআর কঙ্গোর বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পর গত শনিবার (৩ অক্টোবর) কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবিতে পৌঁছান। বিমানবন্দরে পরীক্ষা শেষে স্বজন তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান, যেখানে সোমবার স্থানীয় সময় রাত সাড়ে একটার দিকে তার মৃত্যু হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 কেনিয়ায় ইবোলা ভাইরাসে আক্রান্ত প্রথম মৃত্যু: ডিআর কঙ্গো থেকে আসা ব্যক্তি
- 📌 মৃত ব্যক্তির সংস্পর্শে ২৮ জনেরও বেশি মানুষের শনাক্তকরণ চলছে
- 📌 মৃত ব্যক্তির শরীরে ইবোলার বিরল বান্দিবুগিও প্রজাতির ভাইরাস শনাক্ত
- 📌 ডিআর কঙ্গো থেকে উগান্ডা হয়ে কেনিয়ায় আসার পথে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা
- 📌 বর্তমান প্রাদুর্ভাবে ডিআর কঙ্গোতে ৪ হাজারাধিক মৃত্যু হয়েছে
- 📌 বান্দিবুগিও ইবোলার বিরল প্রজাতি: কোনো টিকা বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই
📰 বিস্তারিত
কেনিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মৃত ব্যক্তি ডিআর কঙ্গো থেকে প্রথমে সড়কপথে উগান্ডার রাজধানী কাম্পালায় যান। সেখান থেকে বিমানে নাইরোবি আসেন। হাসপাতালে নেওয়ার পর তাকে কোভিড-১৯ মহামারির সময় তৈরি একটি আইসোলেশন কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে তার জ্বর, কাঁপুনি, তীব্র ক্লান্তি ও দুর্বলতা, গিলতে ব্যথা, পেশিতে ব্যথা এবং ত্বকের নিচে রক্তক্ষরণের মতো উপসর্গ দেখা দেয়। রোগীর উপসর্গ ও ভ্রমণ ইতিহাস বিবেচনায় চিকিৎসকেরা ভাইরাসজনিত রক্তক্ষরণজনিত জ্বরের সন্দেহ করেন। পরে পরীক্ষায় তাঁর শরীরে ইবোলার বান্দিবুগিও প্রজাতির ভাইরাস শনাক্ত হয়।
স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মৃত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা অন্তত ২৮ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। এদের মধ্যে পরিবারের সদস্য ও স্বাস্থ্যকর্মীরাও রয়েছেন। একই বিমানে ভ্রমণ করা আরও ২৩ যাত্রী এবং চারজন ক্রুর সন্ধানেও কাজ চলছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, বান্দিবুগিও প্রজাতির ইবোলা ভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর থেকে ৮ হাজার ৪৬৩টি সংক্রমণের মধ্যে ৪ হাজার ৮২ জনের মৃত্যু হয়েছে। চলতি প্রাদুর্ভাবে ডিআর কঙ্গোতেই এ পর্যন্ত ৪ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
গত মে মাসে ডিআর কঙ্গোতে নতুন করে ইবোলা প্রাদুর্ভাব ঘোষণা করা হয়। পরে উগান্ডাতেও রোগটি শনাক্ত হয় এবং সেখানে দুজনের মৃত্যু ঘটে। তবে আগস্টে উগান্ডাকে ইবোলামুক্ত ঘোষণা করে ডব্লিউএইচও। এরপর নতুন শনাক্ত সব সংক্রমণই ডিআর কঙ্গোয় পাওয়া গেছে। বান্দিবুগিও ইবোলা তুলনামূলকভাবে বিরল একটি ধরন। বর্তমানে এ প্রজাতির বিরুদ্ধে কোনো অনুমোদিত টিকা বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। ফলে সংক্রমণ ঠেকাতে আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা মানুষদের দ্রুত শনাক্ত ও পর্যবেক্ষণ এবং কঠোর জনস্বাস্থ্যবিধি অনুসরণকে গুরুত্ব দিচ্ছে কর্তৃপক্ষ।
"ডিআর কঙ্গো থেকে আসা ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা ২৮ জনেরও বেশি মানুষের শনাক্তকরণ চলছে। একই বিমানে ভ্রমণ করা যাত্রীদেরও তদন্তের মধ্যে রয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবি, ডিআর কঙ্গো, উগান্ডার কাম্পালা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: কেনিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রী অ্যাডেন ডুয়ালে, মৃত ব্যক্তি (ডিআর কঙ্গোর বাসিন্দা)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৮ জন (সংস্পর্শে আসা), ২৩ জন (বিমান যাত্রী), ৮ হাজার ৪৬৩ (সংক্রমণ), ৪ হাজার ৮২ (মৃত্যু), ৪ হাজার (ডিআর কঙ্গোর মৃত্যু)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!