📌 জার্মানির বার্লিনে বামপন্থি দল 'ডি লিংকে' ২৫.৭ শতাংশ ভোট পেয়ে শীর্ষে উঠলেও জোট গঠন করতে হবে। অন্যদিকে উত্তরপূর্ব রাজ্য মেক্লেনবুর্গ-ফোর্পোমার্নে চরম ডানপন্থি দল 'অল্টারনেটিভ ফর জার্মানি' ৩৮.২ শতাংশ ভোট পেয়ে ঐতিহাসিক জয় পায়। চ্যান্সেলর ম্যার্টসের দল বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে
জার্মানির রাজনীতিতে বড় ধরনের ঝাঁকুনি সৃষ্টি হয়েছে। জার্মানির রাজধানী বার্লিনের রাজ্য নির্বাচনে বামপন্থি দল ‘ডি লিংকে’ (দ্য লেফট) শীর্ষে উঠলেও জোট গঠনের প্রয়োজন পড়েছে। অন্যদিকে উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মেক্লেনবুর্গ-ফোর্পোমার্নে চরম ডানপন্থি দল ‘অল্টারনেটিভ ফর জার্মানি’ (এএফডি) ৩৮.২ শতাংশ ভোট পেয়ে ঐতিহাসিক জয় পেয়েছে। এই ফলাফল জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ ম্যার্টসের দলকে বিপর্যয়ের মুখে ফেলেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বার্লিনে বামপন্থি দল ‘ডি লিংকে’ ২৫.৭ শতাংশ ভোট পেয়ে শীর্ষে, কিন্তু মেয়রের পদ পেতে জোট গঠন করতে হবে
- 📌 চ্যান্সেলর ম্যার্টসের দল ‘সিডিইউ’ বার্লিনে ১৮.৮ শতাংশ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে নেমে এসেছে
- 📌 উত্তরপূর্ব রাজ্য মেক্লেনবুর্গ-ফোর্পোমার্নে ‘এএফডি’ ৩৮.২ শতাংশ ভোট পেয়ে ঐতিহাসিক জয় পেয়েছে, ‘সিডিইউ’ ৪.৯ শতাংশ ভোট পেয়ে পার্লামেন্টে আসন পায়নি
- 📌 ম্যার্টসের জনসমর্থন কমে ১৪ শতাংশে নেমে এসেছে, দলীয় সংকটের মুখে তিনি পদত্যাগের চাপ প্রত্যাখ্যান করেছেন
- 📌 ‘এএফডি’র সহ-সভাপতি টিনো ক্রুপাল্লা ম্যার্টসের পদত্যাগ দাবি করেছেন, বলেছেন ‘ব্যর্থতার দায় নিয়ে পদত্যাগ না করলেই দুর্বল বিবৃতি’
- 📌 ‘ডি লিংকে’র প্রধান প্রার্থী এলিফ এরাল্প ঘোষণা করেছেন, ‘বার্লিনে ঘৃণার বিরুদ্ধে ভালোবাসা ও সুবিচারের জয় হয়েছে’
📰 বিস্তারিত
বার্লিনের রাজ্য নির্বাচনে বামপন্থি দল ‘ডি লিংকে’ ২৫.৭ শতাংশ ভোট পেয়ে শীর্ষে উঠলেও মেয়রের পদ পেতে অন্য দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠন করতে হবে। এই দলের প্রধান প্রার্থী ও তুর্কি অভিবাসীর কন্যা এলিফ এরাল্প বিজয়ের পর উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, “আমাদের এই শহরে ঘৃণার বিরুদ্ধে ভালোবাসা ও সুবিচারের জয় হয়েছে।” অন্যদিকে, চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ ম্যার্টসের দল ‘ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ইউনিয়ন’ (সিডিইউ) ১৮.৮ শতাংশ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে নেমে এসেছে।
উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মেক্লেনবুর্গ-ফোর্পোমার্নে চরম ডানপন্থি দল ‘অল্টারনেটিভ ফর জার্মানি’ (এএফডি) ৩৮.২ শতাংশ ভোট পেয়ে স্পষ্ট জয় নিশ্চিত করেছে। এই রাজ্যে ‘এএফডি’র প্রধান প্রার্থী সাবেক রেডিও উপস্থাপক লেইফ-এরিক হোলমেরের নেতৃত্বে দলটি জোটসঙ্গী হিসেবে ‘সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটস’ (এসপিডি)কে পরাজিত করেছে। এসপিডি ৩৫.৫ শতাংশ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। মেক্লেনবুর্গ-ফোর্পোমার্নে ‘সিডিইউ’ ৮১ বছরের ইতিহাসে সর্বনিম্ন ৪.৯ শতাংশ ভোট পেয়ে পার্লামেন্টে আসন পায়নি।
চ্যান্সেলর ম্যার্টসের দলের এই বিপর্যয়কর ফলাফলকে তিনি ‘বিপর্যয়’ বলে বর্ণনা করেছেন। তবে দলীয় সংকটের মুখে পদত্যাগের চাপ প্রত্যাখ্যান করে তিনি বলেছেন, “বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় দৃঢ়তা ও ধৈর্য প্রয়োজন। অর্থনৈতিক সংস্কার আনতেই হবে এবং দেশকে এগিয়ে নিতে আমি এই দায়িত্ব বহন করে যাব।”
সাম্প্রতিক জরিপ অনুযায়ী ম্যার্টসের জনসমর্থন মাত্র ১৪ শতাংশে নেমে এসেছে। এএফডির জাতীয় সহ-সভাপতি টিনো ক্রুপাল্লা ম্যার্টসের পদত্যাগ দাবি করেছেন। তিনি বলেছেন, “ব্যর্থতার দায় নিয়ে পদত্যাগ করার বদলে তিনি আগে যেভাবে চলেছে সেভাবেই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিচ্ছেন, যা অত্যন্ত দুর্বল একটি বিবৃতি।”
জার্মান রাজনীতিতে এই উত্থান পুরো ইউরোপজুড়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। ভিয়েনার মডিউল ইউনিভার্সিটির আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অধ্যাপক ফ্লোরিয়ান হার্টলেব বলেছেন, “অভিবাসন, অর্থনীতি ও সামাজিক বৈষম্য নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষই এএফডির এই উত্থানের মূল কারণ।”
"বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় দৃঢ়তা ও ধৈর্য প্রয়োজন। অর্থনৈতিক সংস্কার আনতেই হবে এবং দেশকে এগিয়ে নিতে আমি এই দায়িত্ব বহন করে যাব।"
"ব্যর্থতার দায় নিয়ে পদত্যাগ করার বদলে তিনি আগে যেভাবে চলেছে সেভাবেই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিচ্ছেন, যা অত্যন্ত দুর্বল একটি বিবৃতি।"
"আমাদের এই শহরে ঘৃণার বিরুদ্ধে ভালোবাসা ও সুবিচারের জয় হয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বার্লিন, জার্মানি; মেক্লেনবুর্গ-ফোর্পোমার্নে, জার্মানি
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ফ্রিডরিখ ম্যার্টস, এলিফ এরাল্প, টিনো ক্রুপাল্লা, লেইফ-এরিক হোলমের, মানুয়েলা শভেসিগ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৫.৭%, ১৮.৮%, ১৬.৩%, ১৪.৩%, ১২.১%, ৩৮.২%, ৩৫.৫%, ৪.৯%, ১৪%
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!