📌 দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ভয়াবহ খাদ্যসংকটের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ ও আন্তর্জাতিক উত্তেজনার কারণে বিশ্বের অনুন্নত দেশগুলোর অর্থনৈতিক ও মানসিক চাপ বেড়েছে বলে তিনি জানান
দক্ষিণ এশিয়ায় ভয়াবহ খাদ্যসংকটের ঝুঁকি বাড়ছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের মতো আন্তর্জাতিক উত্তেজনার কারণে বিশ্বের অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনৈতিক ও মানসিক চাপ তীব্র হয়ে পড়েছে। তিনি বলেছেন, ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে বিশ্বজুড়ে সার সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে, যার ফলে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় খাদ্যসংকটের সম্ভাবনা রয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **দক্ষিণ এশিয়ায় খাদ্যসংকটের আশঙ্কা**: ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বলেছেন, ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে বিশ্বের অনুন্নত দেশগুলোর অর্থনৈতিক ও মানসিক চাপ বেড়েছে।
- 📌 **সার সরবরাহ ব্যাহত**: কৃষ্ণসাগর অঞ্চলের স্থবিরতা ও জলবায়ুর বিরূপ প্রভাবের কারণে বিশ্বের শীর্ষ খাদ্যশস্য রপ্তানিকারক দেশগুলো পণ্য বাইরে পাঠাতে পারছে না।
- 📌 **জ্বালানির মূল্য অস্থির**: আন্তর্জাতিক সরবরাহব্যবস্থা দ্বিমুখী সংকটে পড়েছে। জ্বালানির মূল্য স্থিতিশীল রাখার পরিবর্তে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার প্রবণতা সমস্যাকে আরও জটিল করছে।
- 📌 **মূলধনের বেরিয়ে যাওয়া**: বড় যুদ্ধের কারণে বিনিয়োগের অর্থ নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাচ্ছে, যা দরিদ্র দেশগুলোর জন্য অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে।
- 📌 **রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা**: ইরান ও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের সংঘাত দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক অস্থিরতাকে আরও বাড়িয়ে তুলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
📰 বিস্তারিত
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে এশিয়া সোসাইটি আয়োজিত এক উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বলেছেন, বর্তমান আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক সংঘাতগুলো ‘গ্লোবাল সাউথ’ বা বিশ্বের অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনীতির ওপর তীব্র চাপ সৃষ্টি করছে। তিনি উল্লেখ করেছেন, ইউক্রেন যুদ্ধ এবং ইরান-উপসাগরীয় অঞ্চলের সংঘাত গ্লোবাল সাউথের অর্থনীতিকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করছে।
জয়শঙ্কর বলেন, বিশ্বের জ্বালানিবাজারের অস্থিরতা এবং আন্তর্জাতিক সরবরাহব্যবস্থার দ্বিমুখী সংকটের কারণে খাদ্যসংকটের ঝুঁকি বেড়েছে। তিনি কৃষ্ণসাগর অঞ্চলের স্থবিরতার কথা উল্লেখ করে বলেন, বিশ্বের শীর্ষ খাদ্যশস্য রপ্তানিকারক দেশগুলো নিজেদের পণ্য বাইরে পাঠাতে পারছে না। এর ফলে সার ও খাদ্যশস্যের পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে।
জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব ‘সুপার এল নিনো’র মতো আচরণের কারণে খাদ্যনিরাপত্তাকে আরও বিপদগ্রস্ত করে তুলেছে। তিনি বলেন, আগামী মাসগুলোতে খাদ্যসংকটের সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ, জ্বালানির সংকট, খাদ্য ও সারের অপ্রতুলতা এবং মূলধনের সংকট কাজ করছে।
জয়শঙ্কর বলেন, শক্তিশালী দেশগুলোর স্বার্থপর সিদ্ধান্তের কারণে বিশ্বের দরিদ্র দেশগুলো অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতিতে পড়েছে। তিনি প্রভাবশালী দেশগুলোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, তারা দরিদ্র দেশগুলোর মৌলিক চাহিদার প্রতি সংবেদনশীল হওয়া উচিত।
"বিশ্বের প্রভাবশালী দেশগুলোর এতটা স্বার্থপর হওয়া উচিত নয় যে তারা নিজেদের ব্যক্তিগত বলয়ের স্বার্থেই শুধু সিদ্ধান্ত নেবে এবং বাকি বিশ্বের প্রতি দায়িত্ব এড়ানোর সুর তুলবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নিউইয়র্ক (যুক্তরাষ্ট্র), দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, কৃষ্ণসাগর অঞ্চল, ইউক্রেন, মধ্যপ্রাচ্য, পারস্য উপসাগর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: এস জয়শঙ্কর (ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ০২ অক্টোবর, ০৭:৩৮ এএম
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!