📌 যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের ফোনে নজরদারি করে ডাচ গোয়েন্দারা আবিষ্কার করেছেন পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর সাথে তার গোপন অর্থলেনদেনের তথ্য। সৌদি আরবের যুবরাজ, সংযুক্ত আরব আমিরাতের শাসক ও ইসরায়েলের নেতানিয়াহুর সাথে তার সম্পর্কে অভিযোগ উঠেছে
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের বিরুদ্ধে গোপন অর্থলেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। নেদারল্যান্ডসের গোয়েন্দারা কুশনারের ফোনে নজরদারি করে আবিষ্কার করেছেন যে, তিনি পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের শাসকদের সাথে গোপন অর্থলেনদেনে জড়িত ছিলেন। আন্তর্জাতিক ম্যাগাজিন ভ্যানিটি ফেয়ারের নতুন প্রতিবেদনে এই তথ্য উন্মোচিত হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ডাচ গোয়েন্দারা জ্যারেড কুশনারের ফোনে নজরদারি করে আবিষ্কার করেছেন যে, তিনি সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, সংযুক্ত আরব আমিরাতের শাসক মোহাম্মদ বিন জায়েদ এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সাথে গোপন অর্থলেনদেনে জড়িত ছিলেন।
- 📌 ৭৫ কোটি ডলার (৭৫০ মিলিয়ন ডলার) একটি আমিরাত সরকারের অর্থায়িত দাতব্য সংস্থার অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরিত হয়েছিল, যেখানে কুশনারের নাম ছিল অন্যতম স্বাক্ষরকারী।
- 📌 ২০০ কোটি ডলার (২ বিলিয়ন ডলার) সৌদি আরব ও আমিরাতের শাসকরা কুশনারের দুটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা দিয়েছিলেন। এর মধ্যে ১০০ কোটি ডলার (১ বিলিয়ন ডলার) ছিল সৌদি আরবের রাজপরিবারের পক্ষ থেকে তার ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য।
- 📌 ম্যাথু কোলের আসন্ন বই ‘প্রিন্সেস অ্যান্ড থিভস’-এ এই অভিযোগের ভিত্তি রয়েছে। কোল একজন খ্যাতনামা অনুসন্ধানী সাংবাদিক যিনি ৪৫ বছর ধরে মার্কিন নিরাপত্তা বিষয়ে সাংবাদিকতা করছেন।
- 📌 কুশনারের নিজে অভিযোগগুলো ‘মিথ্যা ও পক্ষপাতমূলক’ বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘এটি কল্পনা ও প্রচারণার মিশ্রণ’।
📰 বিস্তারিত
ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের প্রশাসনের সময় নেদারল্যান্ডসের গোয়েন্দারা গোপনে জ্যারেড কুশনারের আইফোনের ওপর নজর রাখছিলেন। সে সময়ই তাঁরা কুশনারকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করতে দেখেন। ফার্স্ট আবুধাবি ব্যাংকে থাকা ‘ওয়াতানি আল ইমারাত ফাউন্ডেশন’-এর একটি অ্যাকাউন্টে প্রায় ৭৫ কোটি ডলার স্থানান্তর করা হয়েছিল। এই ফাউন্ডেশনটি মূলত আমিরাত সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত একটি দাতব্য সংস্থা। কুশনার এই অ্যাকাউন্টের অন্যতম স্বাক্ষরকারী ছিলেন, তবে তিনি এর মালিক ছিলেন না। আমিরাতের শাসক মোহাম্মদ বিন জায়েদের ভাই তথা ব্যাংকের চেয়ারম্যান তাহনুন বিন জায়েদ অ্যাকাউন্টটি দেখভাল করতেন।
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের পররাষ্ট্রনীতির লক্ষ্যগুলো বাস্তবায়নে সহায়তা করার জন্য একটি গোপন তহবিল গঠন করতে চেয়েছিলেন ইউএইর শাসক মোহাম্মদ বিন জায়েদ এবং সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। তবে এই পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি। তবে মধ্যপ্রাচ্যের এ দুই নেতা কুশনারের দুটি অ্যাকাউন্টে অন্তত ২০০ কোটি ডলার জমা করেছিলেন। এর বাইরে ছিল আরেকটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টও, যেখানে সৌদি আরবের রাজপরিবারের পক্ষ থেকে ১০০ কোটি ডলার স্থানান্তর করা হয়েছিল।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান এই অর্থ স্থানান্তরের ব্যবস্থা করেন এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কুশনারকে এই অর্থ ইসরায়েলে জমা করার জন্য উৎসাহিত করেছিলেন। এ লেনদেনের বিষয়ে কুশনার তৎকালে ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ডেভিড ফ্রিডম্যানের মাধ্যমে নেতানিয়াহুর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন।
"অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার নামে এসব আপত্তিকর মনগড়া গল্প ছড়ানো হচ্ছে। এটি কোনো সাংবাদিকতা নয়। এটি আসলে কল্পনা, কল্পকাহিনি আর পক্ষপাতমূলক প্রচারণার এক মিশ্রণ। এমন একজন এটি লিখেছেন, যিনি হয় মানসিকভাবে চরম বিপর্যস্ত, না হয় কোনো মন্দ উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করছেন।" — জ্যারেড কুশনার
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: যুক্তরাষ্ট্র, নেদারল্যান্ডস, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইসরায়েল
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: জ্যারেড কুশনার, ডোনাল্ড ট্রাম্প, মোহাম্মদ বিন জায়েদ, মোহাম্মদ বিন সালমান, বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, ম্যাথু কোল
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭৫ কোটি ডলার, ২০০ কোটি ডলার, ১০০ কোটি ডলার
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!