📌 জাপানের তোয়ামা শহরের কর্মকর্তারা আদমশুমারি জালিয়াতিতে ২০০০ ভুয়া বাসিন্দা যোগ করে ৬ কোটি ইয়েনের বেশি অর্থ অর্জন করার অভিযোগে পুলিশ অভিযান চালিয়েছে। বয়স্ক জনসংখ্যা বৃদ্ধির সমস্যায় জাপান এখনও জনসংখ্যা কমানোর মুখোমুখি
জাপানের জনসংখ্যা কমানোর সমস্যা আরো জটিল হয়ে উঠেছে। তোয়ামা শহরের কর্মকর্তারা আদমশুমারি জালিয়াতিতে লিপ্ত হয়ে ২০০০ ভুয়া বাসিন্দা যোগ করে প্রায় ৬ কোটি ইয়েনের (৪ কোটি ৬৪ লাখ ৭৪ হাজার ৭৩৬ টাকা) বেশি অর্থ অর্জনের অভিযোগে পুলিশ অভিযান চালিয়েছে। এই অপরাধের জন্য কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 জাপানের তোয়ামা শহরের কর্মকর্তারা আদমশুমারি জালিয়াতিতে ২০০০ ভুয়া বাসিন্দা যোগ করে ৬ কোটি ইয়েনের বেশি অর্থ অর্জন করার অভিযোগে পুলিশ অভিযান চালিয়েছে
- 📌 আদমশুমারি জালিয়াতির কারণে শহরটি প্রায় ৪ কোটি ৬৪ লাখ ৭৪ হাজার ৭৩৬ টাকা বেশি অর্থ পেয়েছে
- 📌 জাপানের ৪৭টি প্রশাসনিক অঞ্চলের মধ্যে মাত্র দুটিতে জনসংখ্যা বেড়েছে, অন্যদিকে ১০ জনের মধ্যে ৩ জনের বয়স ৬৫ বছর বা তার বেশি
- 📌 তোয়ামার প্রকৃত জনসংখ্যা ৩ লাখ ৯৯ হাজার ১৯৭ জন, কিন্তু আদমশুমারি তথ্যে ৪ লাখ ২ হাজার ১৩৩ জন হিসেবে প্রকাশ করা হয়েছে
- 📌 জাপানের আইনে পরিসংখ্যান জাল করার দায়ে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড ও জরিমানা হতে পারে
📰 বিস্তারিত
জাপানের জনসংখ্যা কমানোর সমস্যা আরো জটিল হয়ে উঠেছে। জাপানের মধ্যাঞ্চলের তোয়ামা শহরের কর্মকর্তারা সর্বশেষ আদমশুমারিতে জনসংখ্যার সংখ্যা বাড়িয়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এই বিষয়ে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তদন্ত করছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, কর্মকর্তারা মিথ্যা তথ্য দিয়ে জনসংখ্যায় ২ হাজারের বেশি মানুষ যোগ করেছেন। আদমশুমারির তথ্য অনুযায়ী কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে অর্থ বরাদ্দ করা হয়। শহর কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী, আদমশুমারি জালিয়াতির পর তোয়ামা শহর প্রয়োজনের তুলনায় প্রায় ৬ কোটি ইয়েন (৪ কোটি ৬৪ লাখ ৭৪ হাজার ৭৩৬ টাকা) বেশি অর্থ পেয়ে থাকতে পারে।
জাপানের জনসংখ্যা কমানোর সমস্যা আরো বেড়েছে। গত বছর দেশটির ৪৭টি প্রশাসনিক অঞ্চলের মধ্যে মাত্র দুটিতে জনসংখ্যা কমেনি। অন্যদিকে জনসংখ্যা কমার হার আরও দ্রুত হচ্ছে। দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ১০ জনের মধ্যে ৩ জনের বয়স ৬৫ বছর বা তার বেশি। জাপানের ইন্টারনাল অ্যাফেয়ার্স মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর তোয়ামার প্রকৃত জনসংখ্যা ছিল ৩ লাখ ৯৯ হাজার ১৯৭ জন। অথচ মে মাসে প্রকাশিত তথ্যে জনসংখ্যা দেখানো হয়েছিল ৪ লাখ ২ হাজার ১৩৩ জন।
প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, কর্মকর্তারা আদমশুমারির কর্মীদের শুরুতে যেসব পরিবারকে খালি বা জনশূন্য হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন, সেসব পরিবারের সদস্যসংখ্যা পরিবর্তন করে ২ হাজারের বেশি বাসিন্দার তথ্য মিথ্যাভাবে যোগ করেছেন। জাপান টাইমসের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, তদন্তে সহযোগিতা করবেন বলে জানিয়েছেন তোয়ামার মেয়র হিরোহিসা ফুজিই। তবে জনসংখ্যার সংখ্যা বাড়িয়ে দেখানোর জন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে নির্দেশনা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি।
"উপযুক্ত সময়ে আমি যথাযথ দায়িত্ব নেব"
জাপানের আইনে পরিসংখ্যান জাল করার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হলে জরিমানা হতে পারে। এ ছাড়া সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ডও হতে পারে। গত মাসে অনিয়মের অভিযোগের খবর প্রথম প্রকাশিত হওয়ার পর জাপানের পরিসংখ্যান ব্যুরোর কর্মকর্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ব্যুরোর আদমশুমারি বিভাগের পরিচালক আকিহিরো তামুরা বলেছিলেন, ‘দেশের সবচেয়ে মৌলিক ও গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যানগত জরিপে এ ধরনের অনুপযুক্ত কাজ ঘটায় আমরা অত্যন্ত দুঃখিত।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: তোয়ামা শহর, জাপান
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: হিরোহিসা ফুজিই (মেয়র), আকিহিরো তামুরা (পরিসংখ্যান ব্যুরো পরিচালক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০০০ (ভুয়া বাসিন্দা), ৬ কোটি ইয়েন (৪ কোটি ৬৪ লাখ ৭৪ হাজার ৭৩৬ টাকা), ৪৭ (প্রশাসনিক অঞ্চল), ১০ জনের মধ্যে ৩ জন (৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!