📌 জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় জাপান ধানের উৎপাদন বৃদ্ধিতে নতুন প্রযুক্তি ও নীতিমালা গ্রহণ করেছে। দেশটির ইয়ামাগাতা অঞ্চলের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশসহ ধাননির্ভর দেশগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে
জলবায়ু পরিবর্তন, মহামারি ও বৈশ্বিক সংঘাতের কারণে বিশ্বজুড়ে খাদ্যনিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে। দ্বীপ রাষ্ট্র জাপানও এর ব্যতিক্রম নয়। দেশটির খাদ্য চাহিদার প্রায় ৩৮ শতাংশ বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। তবে ধান উৎপাদনে দেশটি প্রায় স্বয়ংসম্পূর্ণ—চাহিদার ৯৮ শতাংশ নিজেদের উৎপাদন থেকে মেটানো সম্ভব। এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে সরকারি নীতিমালা, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ও গবেষণা।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 জাপানের খাদ্য চাহিদার ৩৮ শতাংশ বিদেশ থেকে আমদানি করা হলেও ধান উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা রয়েছে ৯৮ শতাংশ
- 📌 জনসংখ্যা হ্রাস, প্রবীণ কৃষক ও কর্মী সংকটের কারণে জাপানের কৃষি খাত চাপের মুখে
- 📌 ধান উৎপাদন বৃদ্ধিতে জাপান সরকার চালু করেছে ‘মিদোরি কৌশল’, যার লক্ষ্য ২০৫০ সালের মধ্যে কার্বন নিঃসরণ শূন্যে নামিয়ে আনা
- 📌 ‘মিদোরি আইন’ অনুযায়ী উৎপাদকদের পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য সরকারি প্রণোদনা প্রদান
- 📌 জাপানের ইয়ামাগাতা অঞ্চলে ধানের উৎপাদন বৃদ্ধিতে ব্যবহৃত হচ্ছে জলবায়ু সহনশীল প্রযুক্তি ও নতুন জাতের ধান
📰 বিস্তারিত
জাপানের মতো উন্নত দেশও বৈশ্বিক খাদ্যনিরাপত্তা সংকটের মুখোমুখি। দেশটির খাদ্য চাহিদার প্রায় ৩৮ শতাংশ বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। তবে ধান উৎপাদনে দেশটি প্রায় স্বয়ংসম্পূর্ণ—চাহিদার ৯৮ শতাংশ নিজেদের উৎপাদন থেকে মেটানো সম্ভব। এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে সরকারি নীতিমালা, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ও গবেষণা।
জনসংখ্যা হ্রাস, প্রবীণ কৃষক ও কর্মী সংকটের কারণে জাপানের কৃষি খাত চাপের মুখে পড়েছে। এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবও কৃষি উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এর ফলে জাপান সরকার অভ্যন্তরীণ খাদ্য উৎপাদনের স্থিতিশীলতা বৃদ্ধিতে মনোযোগ দিচ্ছে। ধান উৎপাদনের ক্ষেত্রে দেশটি ইতোমধ্যেই উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে।
ধান উৎপাদন বৃদ্ধিতে জাপান সরকার চালু করেছে ‘মিদোরি কৌশল’, যার লক্ষ্য ২০৫০ সালের মধ্যে কার্বন নিঃসরণ শূন্যে নামিয়ে আনা। এই কৌশলের অধীনে রাসায়নিক কীটনাশকের ব্যবহার ৫০ শতাংশ হ্রাস, রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমানো ও জৈব পদ্ধতিতে চাষের পরিমাণ মোট জমির ২৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
‘মিদোরি আইন’ অনুযায়ী উৎপাদকদের পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য সরকারি প্রণোদনা প্রদান করা হচ্ছে। ২০২৪ সালের জুলাই পর্যন্ত এই আইনের আওতায় ১৭ হাজারের বেশি উৎপাদক করছাড়, আর্থিক সহায়তা ও সরলীকৃত প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার সুবিধা পেয়েছেন। এছাড়া উৎপাদকদের পরিবেশগত প্রচেষ্টা ভোক্তাদের কাছে উপস্থাপনের জন্য খাদ্যপণ্যে পরিবেশগত লেবেলিংয়ের ব্যবস্থাও চালু হয়েছে।
জাপানের ইয়ামাগাতা অঞ্চলে ধানের উৎপাদন বৃদ্ধিতে ব্যবহৃত হচ্ছে জলবায়ু সহনশীল প্রযুক্তি ও নতুন জাতের ধান। সোনাই সমভূমিতে দিগন্তজোড়া ধানখেত দেশটির ধান উৎপাদনের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। এ অঞ্চলের বিশেষ ভূপ্রাকৃতিক সুবিধা ধানের স্বাদ, গুণমান ও ফলন ধরে রাখতে সহায়তা করছে।
"ধান চাষের ভবিষ্যৎ শুধু মাঠে নয়, গবেষণাগারেও তৈরি হচ্ছে। ইয়ামাগাতার অভিজ্ঞতা ধাননির্ভর দেশগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ইয়ামাগাতা জেলা, জাপান
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: হিরোশি ওগাতা, মহাপরিচালক, তোহোকু আঞ্চলিক কৃষি প্রশাসন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩৮ শতাংশ (খাদ্য আমদানি নির্ভরতা), ৯৮ শতাংশ (ধান উৎপাদন স্বয়ংসম্পূর্ণতা), ৫০ শতাংশ (কীটনাশক ব্যবহার হ্রাস), ২৫ শতাংশ (জৈব চাষ বৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা), ১৭ হাজার (প্রণোদনা সুবিধাভোগী উৎপাদক)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!