📌 যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট শুনানিতে সাবেক বিশেষ অভিযোগপত্র প্রণেতা জ্যাক স্মিথ ট্রাম্পের বিরুদ্ধে তদন্তের পক্ষে দাঁড়িয়েছেন। তিনি বলেছেন, তদন্তগুলো আইনি নীতি অনুসরণ করে এবং প্রমাণভিত্তিক ছিল। তবে রিপাবলিকান সদস্যদের তদন্তের পদ্ধতি নিয়ে সমালোচনা করা হয়
যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট জুডিশিয়াল কমিটির শুনানিতে সাবেক বিশেষ অভিযোগপত্র প্রণেতা জ্যাক স্মিথ ট্রাম্পের বিরুদ্ধে তদন্তের পক্ষে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়েছেন। রিপাবলিকান সদস্যদের তদন্তের পদ্ধতি নিয়ে তীব্র সমালোচনা করা হলেও স্মিথ বলেছেন, তার তদন্তগুলো জাস্টিস ডিপার্টমেন্টের নীতিমালা অনুসরণ করে এবং প্রমাণভিত্তিক ছিল। শুনানিতে তিনি বলেছেন, তার তদন্তে প্রমাণ পাওয়া গেছে যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশের বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধে জড়িত ছিলেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 জ্যাক স্মিথ বলেছেন, তার তদন্তে প্রমাণ পাওয়া গেছে যে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ‘বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ’ রয়েছে এবং তিনি ‘দেশের বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধ’ করেছেন।
- 📌 স্মিথের তদন্তের ফলাফল হিসেবে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মোট পাঁচটি অভিযোগপত্র দায়ের করা হয়েছিল, যার মধ্যে দুটি মামলায় ট্রাইাল হয় এবং একটি মামলায় ট্রাম্পকে ফেলোনি দোষী সাব্যস্ত করা হয়।
- 📌 রিপাবলিকান সদস্যদের বিরুদ্ধে সাবপোনা জারি করে ফোন রেকর্ড সংগ্রহের বিষয়টি নিয়ে তীব্র বিতর্ক হয়। সিনেটের চেয়ারম্যান চাক গ্রাসলি তদন্তকে ‘রিপাবলিকান পার্টির সম্পূর্ণ লক্ষ্য করা’ বলে সমালোচনা করেন।
- 📌 স্মিথ বলেন, তার তদন্তে ফোন রেকর্ড সংগ্রহের উদ্দেশ্য ছিল ট্রাম্প ও তার সহযোগীদের ২০২০ সালের নির্বাচন ফলাফল বাতিল করার চেষ্টায় কংগ্রেস সদস্যদের সাথে যোগাযোগের প্রমাণ সংগ্রহ করা।
- 📌 টেক্সাসের সিনেটর টেড ক্রুজ স্মিথকে প্রশ্ন করেন, কেন কংগ্রেস সদস্যদের সাবপোনা সম্পর্কে তাদের জানানো হয়নি। স্মিথ বলেন, সাবপোনা প্রকাশের ভয়ে ট্রাম্প ও তার দল evidence ধ্বংস করতে পারে।
- 📌 স্মিথ তদন্তের সময় তার দলের সদস্যদের বিরুদ্ধে ‘কাজের জন্য’ ফায়ার করার অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, এগুলো ছিল ‘রাজনৈতিক প্রতিশোধ’।
- 📌 মার্চ ২০২৬ সালে, তিনজন এফবিআই এজেন্ট ট্রাম্পের বিরুদ্ধে তদন্তের সময় তাদের ‘প্রতিশোধের ফায়ার’ করার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন।
📰 বিস্তারিত
২০২২ সালে স্মিথকে বিশেষ অভিযোগপত্র প্রণেতা হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছিল। তিনি ট্রাম্পের ২০২০ সালের নির্বাচন ফলাফল বাতিল করার চেষ্টা এবং গোপন দলিলসমূহের অপব্যবহারের বিষয়ে তদন্তের দায়িত্ব পান। ২০২৩ সালে তিনি দুটি অভিযোগপত্র দায়ের করেন: একটি ছিল ২০২০ সালের নির্বাচন ফলাফল বাতিল করার চেষ্টা এবং অন্যটি ছিল ট্রাম্পের অফিস ছেড়ে যাওয়ার পর গোপন দলিলসমূহের অপব্যবহার। পাশাপাশি, নিউইয়র্কে আর একটি অভিযোগপত্রে ট্রাম্পের ২০১৬ সালের নির্বাচন প্রচারণায় অস্বস্তিকর তথ্য লুকানোর অভিযোগ ছিল। আরেকটি অভিযোগপত্র জর্জিয়ায় দায়ের করা হয়েছিল, যেখানে ট্রাম্প ও তার সহযোগীদের ২০২০ সালের নির্বাচন ফলাফল বাতিল করার চেষ্টার অভিযোগ ছিল।
শুধুমাত্র নিউইয়র্কের মামলায় ট্রাম্পকে ট্রাইাল করা হয়েছিল এবং তিনি ফেলোনি দোষী সাব্যস্ত হন। বাকি মামলাগুলো ২০২৪ সালে ট্রাম্পের পুনরায় নির্বাচিত হওয়ার পর বাতিল করা হয়। স্মিথ নিজে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্পের দ্বিতীয় শপথগ্রহণের আগে পদত্যাগ করেন। যুক্তরাষ্ট্রের জাস্টিস ডিপার্টমেন্টের নীতিমালা অনুসারে, বর্তমান প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে মামলা করা হয় না।
শুনানিতে ট্রাম্প ও তার সমর্থকরা স্মিথ ও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের নেতৃত্বে একটি ‘witch-hunt’ (বিচারহীন শিকার) অভিযোগ করেন। রিপাবলিকান সদস্যদের মধ্যে তদন্তের পদ্ধতি নিয়ে তীব্র বিতর্ক হয়। বিশেষ করে, কংগ্রেস সদস্যদের ফোন রেকর্ড সংগ্রহের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠে। সিনেটের চেয়ারম্যান চাক গ্রাসলি বলেন, স্মিথের দল ‘রিপাবলিকান পার্টির সম্পূর্ণ লক্ষ্য করা’ চেয়েছিলেন।
স্মিথ বলেন, তার তদন্তের অংশ হিসেবে ফোন রেকর্ড সংগ্রহ করা হয়েছিল, কিন্তু এতে কখনো কংগ্রেস সদস্যদের কথাবার্তা বা যোগাযোগের বিষয়বস্তু ছিল না। তিনি বলেন, এগুলো ছিল ‘সময় ও যোগাযোগের সময়কাল’ সম্পর্কিত তথ্য। তিনি আরও বলেন, তার দল জাস্টিস ডিপার্টমেন্টের পাবলিক ইন্টিগ্রিটি সেকশনের সাথে পরামর্শ করে এই রেকর্ড সংগ্রহের বিষয়টি নিশ্চিত করেছিলেন।
"আমাদের তদন্তে প্রমাণ পাওয়া গেছে যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দেশের বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধে জড়িত ছিলেন।"
স্মিথ আরও বলেন, তার দলের সদস্যদের বিরুদ্ধে ‘কাজের জন্য’ ফায়ার করার অভিযোগ করা হয়েছে। তিনি বলেন, এগুলো ছিল ‘রাজনৈতিক প্রতিশোধ’। তিনি বলেন, তার দলের সদস্যদের মধ্যে তিনজন এফবিআই এজেন্ট মার্চ ২০২৬ সালে মামলা দায়ের করেন, যেখানে তারা অভিযোগ করেন, তাদের ‘কাজের জন্য’ ফায়ার করা হয়েছে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট জুডিশিয়াল কমিটি, ওয়াশিংটন ডিসি
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: জ্যাক স্মিথ, ডোনাল্ড ট্রাম্প, চাক গ্রাসলি, টেড ক্রুজ, জো বাইডেন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫টি অভিযোগপত্র, ৩জন এফবিআই এজেন্ট, ২০২২ সাল
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!