📌 ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহী ও সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর মধ্যে তীব্র সংঘাতে ১ লাখ ২০ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে জিবুতিতে পালিয়ে যাচ্ছেন। শরণার্থীশিবিরে আশ্রয় নেওয়া মানুষদের প্রধান চাহিদা নিরাপত্তা, খাবার ও শিক্ষা
ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহী ও সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর মধ্যে সংঘাতের তীব্রতা বাড়ার সাথে সাথে লোহিত সাগর পাড়ি দিয়ে প্রতিবেশী দেশ জিবুতিতে পালিয়ে যাচ্ছেন হাজারো ইয়েমেনি। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, সাম্প্রতিক লড়াইয়ে দেশটির উপকূলীয় এলাকায় ১ লাখ ২০ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১ লাখ ২০ হাজার ইয়েমেনি বাস্তুচ্যুত, এর মধ্যে ৩ হাজার শরণার্থী গত কয়েক দিনে জিবুতিতে পৌঁছেছেন
- 📌 ৫০ বছর বয়সী ইব্রাহিম ইসা পরিবার নিয়ে জিবুতির মার্কাজি শরণার্থীশিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন, সন্তানদের নিরাপত্তার জন্য ছোট নৌকায় পালিয়ে এসেছেন
- 📌 ১০০ বছর বয়সী কাসিম আব্রাহাম আবসি বলেছেন, ‘বিমানের শব্দই আমাদের পালাতে বাধ্য করেছে’
- 📌 ২০১৫ সাল থেকে শিবিরে থাকা ৬৩ বছর বয়সী সাবেক পর্যটন গাইড মোহাম্মদ আবদুলারিম বলেছেন, ‘দীর্ঘদিন পরও নিজের দেশের মানুষের দুর্ভোগ দেখে কান্না ধরে রাখতে পারছি না’
- 📌 ২০১৪ সাল থেকে চলা ইয়েমেন যুদ্ধে হাজার হাজার মানুষ নিহত ও লাখ লাখ বাস্তুচ্যুত হয়েছে
- 📌 ২০২২ সালের যুদ্ধবিরতি কার্যত ভেঙে পড়েছে, সৌদি আরব ও হুতির মধ্যে সংঘাত আবার তীব্র হয়েছে
📰 বিস্তারিত
ইয়েমেনের উপকূলীয় শহর ধুবাবের বাসিন্দা ৫০ বছর বয়সী ইব্রাহিম ইসা তার পরিবার নিয়ে জিবুতির উত্তরাঞ্চলের মার্কাজি শরণার্থীশিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন। যুদ্ধের সম্মুখসারিতে থাকা নিজ শহর থেকে ছোট নৌকায় তিনি স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে বাব আল-মানদেব প্রণালি পাড়ি দিয়েছেন। ইব্রাহিম জানিয়েছেন, যুদ্ধবিমান উড়তে শুরু করলেই তাঁর সন্তানরা আতঙ্কে চিৎকার করে কাঁদত। তিনি বলেছেন, ‘সন্তানদের যখন এভাবে ভয় পেতে দেখি, তখন কীভাবে সেখানে বসে থাকি? তাদের বাঁচাতেই আমরা পালিয়েছি।’ পেশায় জেলে ইব্রাহিমের নিজের নৌকা থাকায় পরিবারের সদস্যদের সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছিল। সঙ্গে কয়েকটি ছাগলও নিয়ে এসেছেন তিনি। তবে অনেক পরিবার কোনো সম্পদ সঙ্গে নিতে পারেনি; পরনের পোশাকটুকু নিয়েই তাদের শরণার্থীশিবিরে পৌঁছাতে হয়েছে।
১০০ বছর বয়সী কাসিম আব্রাহাম আবসি বলেছেন, ‘বিমানের শব্দই আমাদের পালাতে বাধ্য করেছে। আমরা জানি না কোন পক্ষের বিমান। চারদিকে বোমা পড়ছে।’ শরণার্থীশিবিরে থাকা ৬৩ বছর বয়সী সাবেক পর্যটন গাইড মোহাম্মদ আবদুলারিম ২০১৫ সাল থেকে এই শিবিরে আছেন। তিনি বলেছেন, ‘দীর্ঘদিন পরও নিজের দেশের মানুষের দুর্ভোগ দেখে কান্না ধরে রাখতে পারছি না।’
সৌদি আরব ও হুতি বিদ্রোহীদের মধ্যে সংঘাতের কারণে ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূল থেকে বাব আল-মানদেব প্রণালি হয়ে জিবুতিতে পালিয়ে যাচ্ছেন মানুষ। এই সরু প্রণালিটি লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগর ও ভারত মহাসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই অঞ্চলে হুতিদের অগ্রযাত্রার জবাবে সৌদি আরব উপকূলীয় এলাকায় ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে। পাল্টা হুতিরাও দক্ষিণ-পশ্চিম সৌদির বিভিন্ন শহর ও অবকাঠামো লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।
শরণার্থী কাসিম ও তাঁর স্ত্রী আয়েশা আবদুলকাদির মোহাম্মদ এখন দেশে ফিরতে চান না, যতক্ষণ না শান্তি ফিরে আসে। আয়েশা বলেছেন, ‘আমাদের শুধু শান্তি দরকার। আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যতের জন্য আগে নিরাপত্তা, তারপর খাবার, পানি ও শিক্ষা।’ যুদ্ধ থেকে পালিয়ে আসা এই মানুষগুলোর কাছে বাব আল-মানদেবের কৌশলগত গুরুত্ব বা তেল সরবরাহের হিসাবের চেয়ে বড় হয়ে উঠেছে একটি সাধারণ আকাঙ্ক্ষা, আর তা হলো—নিজের সন্তানদের নিরাপদে বাঁচিয়ে রাখা।
"সন্তানদের যখন এভাবে ভয় পেতে দেখি, তখন কীভাবে সেখানে বসে থাকি? তাদের বাঁচাতেই আমরা পালিয়েছি।"
"বিমানের শব্দই আমাদের পালাতে বাধ্য করেছে। আমরা জানি না কোন পক্ষের বিমান। চারদিকে বোমা পড়ছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: জিবুতি (মার্কাজি শরণার্থীশিবির), ইয়েমেন (লোহিত সাগর উপকূল, ধুবাব), সৌদি আরব (উপকূলীয় এলাকা)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ইব্রাহিম ইসা, কাসিম আব্রাহাম আবসি, মোহাম্মদ আবদুলারিম, আয়েশা আবদুলকাদির মোহাম্মদ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১ লাখ ২০ হাজার বাস্তুচ্যুত, ৩ হাজার শরণার্থী জিবুতিতে, ৫০ বছর বয়সী ইব্রাহিম, ১০০ বছর বয়সী কাসিম, ৬৩ বছর বয়সী মোহাম্মদ, ২০১৪ সাল থেকে যুদ্ধ চলছে
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!