📌 ইতালি সরকার প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির নেতৃত্বে স্কুলে বোরকা-নিকাব পরার নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এছাড়াও শ্রেণিকক্ষে বিদেশি শিক্ষার্থীদের সংখ্যা সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশে সীমাবদ্ধ রাখার নতুন অধ্যাদেশ পাস করেছে। শিশু অধিকার সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেন এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছে
ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির নেতৃত্বাধীন সরকার স্কুলে বোরকা ও নিকাব পরার নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এছাড়াও বিদেশি শিক্ষার্থীদের সংখ্যা শ্রেণিকক্ষে সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশে সীমাবদ্ধ রাখার নতুন অধ্যাদেশ জারি করেছে। এই পদক্ষেপের লক্ষ্য হলো ভাষাগত একীভূতকরণ এবং সামাজিক মেলবন্ধন বৃদ্ধি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ইতালি সরকার স্কুলে বোরকা ও নিকাব পরার সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।
- 📌 শ্রেণিকক্ষে বিদেশি শিক্ষার্থীদের সংখ্যা সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশে সীমাবদ্ধ রাখার নতুন অধ্যাদেশ পাস করেছে।
- 📌 বোরকা-নিকাব পরার নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করলে সর্বোচ্চ ১ হাজার ইউরো জরিমানা হতে পারে।
- 📌 নতুন নিয়মে ইতালীয় ভাষায় দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য বাধ্যতামূলক ভাষা ক্লাস চালু করা হয়েছে।
- 📌 শিশু অধিকার সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেন এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছে।
- 📌 ইতালির শিক্ষামন্ত্রী জুসেপ্পে ভালদিতারা বলেছেন, ভাষাগত দক্ষতার অভাব শিক্ষার গতি ব্যাহত করে।
- 📌 বর্তমানে প্রায় ৩৪ হাজার শ্রেণিকক্ষে বিদেশি শিক্ষার্থীদের সংখ্যা ৩০ শতাংশের বেশি।
- 📌 এই নিয়ম নতুন আসা শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে তৈরি করা হয়েছে; ইতালিতে জন্ম নেওয়া বা কিন্ডারগার্টেনে পড়াশোনা করা শিশুদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
📰 বিস্তারিত
বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬) ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভা একটি নতুন অধ্যাদেশ জারি করেছে। এই অধ্যাদেশ অনুযায়ী, স্কুলে বিদেশি শিক্ষার্থীদের সংখ্যা সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে। এছাড়াও, স্কুলে বোরকা ও নিকাব পরার সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। মেলোনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘‘নতুন নিয়মে শ্রেণিকক্ষে ইতালীয় ভাষায় অপর্যাপ্ত দক্ষতাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের সংখ্যা সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি আমাদের ভাষা শেখার পরিধি বৃদ্ধি এবং স্কুলে বোরকা ও নিকাব পরা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।’’
নতুন আইন অনুযায়ী, কোনো শিশু যদি স্কুলে খাপ খাইয়ে না পায় বা পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে ব্যর্থ হয়, তাহলে বিষয়টি সামাজিক সেবা সংস্থাকে জানানো হবে। অভিভাবকদের জন্য বিনামূল্যে আয়োজিত ইতালীয় ভাষার ক্লাসে অংশ নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই নির্দেশ অমান্য করলে সর্বোচ্চ ১ হাজার ইউরো (প্রায় ১ হাজার ১৪০ ডলার) জরিমানার মুখে পড়তে হবে।
অভিবাসনে ইউরোপের অন্যতম প্রধান প্রবেশদ্বার হওয়ায় আগামী বছরের সাধারণ নির্বাচনকে সামনে রেখে ইতালিতে অভিবাসীদের সামাজিক মেলবন্ধন ও একীভূতকরণের বিষয়টি রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। শিশু অধিকার বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেন এই পদক্ষেপের কড়া সমালোচনা করেছে। সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, কেবল জাতীয়তা বা ইতালীয় ভাষায় দুর্বলতার কারণে শিশুদের স্কুল বদলাতে বা সহপাঠীদের থেকে আলাদা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে বাধ্য করা হলে শিক্ষাব্যবস্থায় সামাজিক বৈষম্যের সৃষ্টি হবে।
শিক্ষামন্ত্রী জুসেপ্পে ভালদিতারা বলেন, ‘‘ভাষাগত দক্ষতার অভাব শিক্ষার স্বাভাবিক গতি ব্যাহত করে। সন্তানের শিক্ষাজীবনের সাফল্যের জন্য পাঠ্যক্রমে বাবা-মায়ের অংশগ্রহণ ও সহযোগিতা অপরিহার্য। বর্তমানে ইতালির প্রায় ৩৪ হাজার শ্রেণিকক্ষে বিদেশি শিক্ষার্থীদের সংখ্যা ৩০ শতাংশের বেশি। তবে নতুন নিয়মটি নতুন আসা শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে তৈরি করা হয়েছে; ইতালিতে জন্ম নেওয়া বা কিন্ডারগার্টেনে পড়াশোনা করা শিশুদের ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য নয়।’’
২০১০ সালে ইতালির শিক্ষামন্ত্রণালয় একটি অনানুষ্ঠানিক সীমা নির্ধারণ করেছিল, যেখানে শ্রেণিকক্ষে বিদেশি শিক্ষার্থীদের সংখ্যা সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছিল। তবে ওই নিয়ম তুলনামূলক কিছুটা নমনীয় ছিল। ইতালির বিরোধীদলীয় নেত্রী এলিসা চেলেইন এই সিদ্ধান্তকে কোমলমতি শিশুদের ওপর নতুন ‘ডাইনি শিকার’ আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
"নতুন নিয়মে শ্রেণিকক্ষে ইতালীয় ভাষায় অপর্যাপ্ত দক্ষতাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের সংখ্যা সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি আমাদের ভাষা শেখার পরিধি বৃদ্ধি এবং স্কুলে বোরকা ও নিকাব পরা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ইতালি
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি, শিক্ষামন্ত্রী জুসেপ্পে ভালদিতারা, বিরোধীদলীয় নেত্রী এলিসা চেলেইন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩০ শতাংশ (বিদেশি শিক্ষার্থীদের সীমা), ১ হাজার ইউরো (জরিমানা), ৩৪ হাজার শ্রেণিকক্ষ (বিদেশি শিক্ষার্থীদের সংখ্যা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!