📌 ইতালির আদালত ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইসরায়েল কাটজসহ ১২ জন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে জড়িত করে তদন্ত শুরু করেছে। গাজা সৈকত অভিযানকারীদের বিরুদ্ধে নির্যাতন, যৌন আক্রমণ, ধর্ষণসহ বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগ উঠেছে। ইতালির রোমের আদালত ৫০ জন ইতালীয় নাগরিকের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে
ইতালির রোমের আদালত ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইসরায়েল কাটজসহ ১২ জন উচ্চপদস্থ সামরিক, পুলিশ ও কারাবাস কর্মকর্তাকে জড়িত করে তদন্ত শুরু করেছে। এই তদন্তের কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে গাজা সৈকত অভিযানকারীদের বিরুদ্ধে নির্যাতন, ধর্ষণ, যৌন আক্রমণ, অপহরণ, ব্যক্তিগত আঘাত, লুণ্ঠন এবং সম্পত্তি ক্ষতির অভিযোগ। ইতালির রোমের আদালত জানিয়েছে, এই তদন্তের মূল বিষয় হচ্ছে ২০২৫ ও ২০২৬ সালে ইসরায়েলি বাহিনী গাজা সৈকত অভিযানকারীদের বোতলগুলো আটক এবং নির্যাতনের ঘটনা।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ইতালির রোমের আদালত ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইসরায়েল কাটজসহ ১২ জন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে জড়িত করে তদন্ত শুরু করেছে।
- 📌 গাজা সৈকত অভিযানকারীদের বিরুদ্ধে নির্যাতন, ধর্ষণ, যৌন আক্রমণসহ বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগ উঠেছে।
- 📌 ৫০ জন ইতালীয় নাগরিকের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে। তারা ২০২৫ ও ২০২৬ সালের গাজা সৈকত অভিযানগুলোর সময় নির্যাতিত হয়েছিল।
- 📌 অভিযানকারীদের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগে ১৫টি যৌন আক্রমণের ঘটনা রিপোর্ট করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ধর্ষণ।
- 📌 ইতালির অর্থনীতিবিদ লুকার পোগি (Luca Poggi) বলেছেন, ‘আমাদের পোশাক ছিঁড়ে ফেলা হয়, মাটিতে ফেলে দেওয়া হয় এবং পায়ে টিপে মারা হয়’।
- 📌 ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির (Itamar Ben-Gvir) তদন্তের খবরকে নাকচ করে দিয়েছেন এবং বলেছেন, তিনি ‘ইসরায়েলি সৈনিকদের পাশে গর্বিতভাবে দাঁড়িয়ে থাকবেন’।
- 📌 গাজা সৈকত অভিযানকারীরা তাদের উদ্দেশ্য হিসেবে গাজার ব্লকেড ভাঙার মাধ্যমে মানবিক সাহায্য সরবরাহ করার কথা বলেছেন।
📰 বিস্তারিত
রোমের আদালত জানিয়েছে, এই তদন্তের মূল ভিত্তি হচ্ছে ৫০ জন ইতালীয় নাগরিকের অভিযোগ, যারা ২০২৫ ও ২০২৬ সালের গ্লোবাল সুমুদ সৈকত অভিযানগুলোর সময় ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে আটক ও নির্যাতিত হয়েছিল। অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রথম অভিযান ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বার্সেলোনা থেকে শুরু হয়েছিল, যেখানে ৪২টি বোতল এবং ৪৬২ জন অভিযানকারী অংশ নিয়েছিলেন। ইসরায়েলি বাহিনী আন্তর্জাতিক জলসীমায় এই বোতলগুলো আটক করে, শত শত অভিযানকারীকে আটক এবং পরে দেশান্তরিত করা হয়েছিল।
দ্বিতীয় অভিযান ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে বার্সেলোনা থেকে শুরু হয়েছিল। ইসরায়েলি বাহিনী গ্রিসের দক্ষিণে ক্রিট দ্বীপের কাছে এপ্রিলের ৩০ তারিখ থেকে অভিযানকারীদের বোতলগুলো আটক শুরু করে। মে মাসের ১৯ তারিখ পর্যন্ত প্রায় ৫০টি বোতল এবং ৪৩০ জন অভিযানকারীকে আন্তর্জাতিক জলসীমায় আটক করা হয়েছিল। ইসরায়েলি বাহিনী তাদের আটককৃত অভিযানকারীদেরকে আশদোদ বন্দরে একটি মকদমা কারাগারে বন্দী করে রাখে এবং তাদেরকে ইসরায়েলের জাতীয় সঙ্গীতের সাথে মাথা নিচু করে বাঁধা অবস্থায় দেখানো হয়।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, তারা ইসরায়েলকে জুন মাসে বিচারিক সহায়তার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে, যেখানে তারা ঘটনার পুনরুত্পাদন এবং ব্যক্তিগত দায়িত্বের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের জন্য অনুরোধ জানিয়েছে। তবে তারা জানাননি যে ইসরায়েল কি উত্তর দিয়েছে। তারা এছাড়াও ইউরোজাস্ট (Eurojust) এর সাথে আলোচনা করেছে, যেখানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্যান্য দেশেও এই ধরনের তদন্ত চলছে। ইতালির আইনে, বিদেশে ইতালীয় নাগরিকদের বিরুদ্ধে অপরাধের ঘটনা রোমের আদালতে মামলা করা যায়। যদি তদন্তে অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে আদালত আনুষ্ঠানিকভাবে বিচারের জন্য অনুরোধ করতে পারে।
"আমাদের পোশাক ছিঁড়ে ফেলা হয়, মাটিতে ফেলে দেওয়া হয় এবং পায়ে টিপে মারা হয়।"
"আমি ইসরায়েলি সৈনিকদের পাশে গর্বিতভাবে দাঁড়িয়ে থাকবেন।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ইতালি (রোম), ইসরায়েল (আশদোদ বন্দর), আন্তর্জাতিক জলসীমা (ক্রিট দ্বীপ ও চিপ্রসের কাছে)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ইসরায়েল কাটজ (প্রতিরক্ষা মন্ত্রী), ইতামার বেন-গভির (জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী), ইয়াল জামির (ইসরায়েলি সামরিক প্রধান), লুকার পোগি (ইতালীয় অর্থনীতিবিদ)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১২ জন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, ৫০ জন ইতালীয় অভিযানকারী, ১৫টি যৌন আক্রমণ ঘটনা, ৪২টি বোতল (২০২৫), ৪৬২ জন অভিযানকারী (২০২৫), ৫০টি বোতল (২০২৬), ৪৩০ জন অভিযানকারী (২০২৬)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!